কুমেক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অস্ত্রোপচারের রোগী
jugantor
নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস সরবরাহ অপর্যাপ্ত
কুমেক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অস্ত্রোপচারের রোগী

  কুমিল্লা ব্যুরো  

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ-কুমেক হাসপাতালে নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় অস্ত্রোপচার না করেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বেশিরভাগ রোগী। কয়েকটি জেলার নিুআয়ের মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এ হাসপাতালে কয়েক মাস ধরে এ গ্যাসের সংকটে অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানা গেছে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। তবে করোনার প্রভাবে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

কুমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন ও নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস সরবরাহ করে আসছে। তিন মাস ধরে নিয়মিতভাবে নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস সরবরাহ করছে না প্রতিষ্ঠানটি। করোনার প্রভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড।

হাসপাতালটিতে প্রতি মাসে অন্তত ৩০ কেজির ২৫টি নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের সিলিন্ডার লাগে। সে ক্ষেত্রে দুই মাসে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৮টি সিলিন্ডার- যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। গ্যাস সংকটে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কমে গেছে। অনেক সময় নাইট্রাস অক্সাইড ছাড়াই অস্ত্রোপচার করছেন চিকিৎসকরা।

তবে নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নাইট্রাস অক্সাইডের সংকট নেই বলে জানা গেছে। এতে কুমেক হাসপাতালে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অজুহাত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সচেতন মহলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করে আসছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করছে না, এতে অনেক জরুরি অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। যার বদনাম চিকিৎসকরা বহন করছেন।

স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের কুমিল্লা ডিপোর ডিস্ট্রিবিউশন কর্মকর্তা মো. তাওহিদুর রহমান বলেন, আমাদের কোনো প্রকার গাফিলতি নেই। চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে আমরা আন্তরিক। করোনাকালে বিদেশ থেকে যথাযথভাবে কাঁচামাল আসছে না। এতে চাহিদামতো গ্যাস প্রসেসিং এবং সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি তাদের সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। জুলাই মাসে দুটি এবং আগস্ট মাসে ছয়টি সিলিন্ডার দিয়েছি। আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যে এ সংকট আর থাকবে না।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের-কুমেক পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন বলেন, নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের সংকটে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে গ্যাসটি সরবরাহ করতে পারছে না। তারা বলছে, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ সংকট নিরসন হবে বলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস সরবরাহ অপর্যাপ্ত

কুমেক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অস্ত্রোপচারের রোগী

 কুমিল্লা ব্যুরো 
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ-কুমেক হাসপাতালে নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় অস্ত্রোপচার না করেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বেশিরভাগ রোগী। কয়েকটি জেলার নিুআয়ের মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এ হাসপাতালে কয়েক মাস ধরে এ গ্যাসের সংকটে অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানা গেছে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। তবে করোনার প্রভাবে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

কুমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন ও নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস সরবরাহ করে আসছে। তিন মাস ধরে নিয়মিতভাবে নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস সরবরাহ করছে না প্রতিষ্ঠানটি। করোনার প্রভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড।

হাসপাতালটিতে প্রতি মাসে অন্তত ৩০ কেজির ২৫টি নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের সিলিন্ডার লাগে। সে ক্ষেত্রে দুই মাসে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৮টি সিলিন্ডার- যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। গ্যাস সংকটে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কমে গেছে। অনেক সময় নাইট্রাস অক্সাইড ছাড়াই অস্ত্রোপচার করছেন চিকিৎসকরা।

তবে নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নাইট্রাস অক্সাইডের সংকট নেই বলে জানা গেছে। এতে কুমেক হাসপাতালে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অজুহাত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সচেতন মহলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করে আসছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করছে না, এতে অনেক জরুরি অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। যার বদনাম চিকিৎসকরা বহন করছেন।

স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের কুমিল্লা ডিপোর ডিস্ট্রিবিউশন কর্মকর্তা মো. তাওহিদুর রহমান বলেন, আমাদের কোনো প্রকার গাফিলতি নেই। চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে আমরা আন্তরিক। করোনাকালে বিদেশ থেকে যথাযথভাবে কাঁচামাল আসছে না। এতে চাহিদামতো গ্যাস প্রসেসিং এবং সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি তাদের সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। জুলাই মাসে দুটি এবং আগস্ট মাসে ছয়টি সিলিন্ডার দিয়েছি। আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যে এ সংকট আর থাকবে না।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের-কুমেক পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন বলেন, নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের সংকটে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে গ্যাসটি সরবরাহ করতে পারছে না। তারা বলছে, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ সংকট নিরসন হবে বলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন