কাঠগড়ায় বিমানের সেই দুর্নীতিবাজরা
jugantor
কাঠগড়ায় বিমানের সেই দুর্নীতিবাজরা
সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষায় সাড়ে ৬শ কোটি টাকা গচ্চা * জবাব দিতে আগামী বৈঠকে হাজির হওয়ার নির্দেশ

  সংসদ প্রতিবেদক  

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদীয় কমিটির মিসরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে লিজ নেওয়া দুটি এয়ারক্রাফটে সাড়ে ৬শ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে বাংলাদেশ বিমানকে। ইঞ্জিন বিকল হওয়া, আবার ভাড়ায় আনা, সেগুলোর মেরামত এবং উড়োজাহাজের ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক কাজে বিপুল অঙ্কের এ টাকা খরচ করা হয়, যা দিয়ে একটি নতুন উড়োজাহাজ কেনা সম্ভব।

এ ঘটনায় বিমানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দেককে চাকরিচ্যুত এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের বদলি করা হলেও লিজ নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এবার জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সেই দুর্নীতিবাজদের তলব করেছে। কমিটির আগামী বৈঠকে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে তাদের।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। সেই চুক্তি মোতাবেক ওই সংস্থা থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয় বিমান। প্রথম বোয়িং বিমানের বহরে যুক্ত হয় ওই বছরের মার্চেই। অপরটি যুক্ত একই বছরের মে মাসে। বোয়িং দুটি বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার ১১ মাস পরই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।

উড়োজাহাজটি সচল করতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। তখন সুবিধাভোগীদের স্বার্থ হাসিল করতে চড়া দামে ইঞ্জিন ভাড়া করার অনুমোদন দেয় তৎকালীন বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয়ে যায় বোয়িংয়ের অবশিষ্ট ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন।

এরপর থেকে নানা অজুহাতে গ্রাউন্ডেড থাকে উড়োজাহাজ দুটি। নষ্ট হয়ে যায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও। পরে ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে এয়ারক্রাফট দুটি ফেরত দেওয়া হয়। বিমানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দুই উড়োজাহাজ লিজ আনা, মেরামতে চরম অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই বিমানকে এত টাকা গচ্চা দিতে হয়। উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পর থেকে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, আবার ভাড়ায় আনা, সেগুলোর মেরামত এবং উড়োজাহাজের ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক কাজে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা খরচ হয়।

এছাড়াও ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজে আনা এয়ারক্রাফট দুটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রকৌশল) খন্দকার সাজ্জাদুর রহিমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হয়। একই অভিযোগে বরখাস্ত হন প্রধান প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) জিএম ইকবাল।

জানা যায়, ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ড্রাই লিজে ২টি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ সংগ্রহ করে বিমান বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের মার্চে একটি উড়োজাহাজ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইসএল, কনস্ট্রাকশন নং ৩২৬৩০) বিমানবহরে যুক্ত হয়। অন্য উড়োজাহাজটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইসকে, কনস্ট্রাকশন নং ৩২৬২৯) যুক্ত হয় একই বছরের মে মাসে। চুক্তি অনুসারে যাত্রী ঠিকভাবে চলাচল না করলেও উড়োজাহাজ দুটির জন্য বাংলাদেশ বিমানকে মাসে ১১ কোটি টাকা করে দিতে হয়েছে। বহন করতে হয়েছে সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। পাঁচ বছরের আগে চুক্তি বাতিল করতে পারবে না বিমান, এমন অসম চুক্তি করে এয়ারক্রাফট দুটি আনা হয়েছিল।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, তানভীর ইমাম, আশেক উল্লাহ রফিক, আনোয়ার হোসেন খান, শেখ তন্ময়, সৈয়দা রুবিনা আক্তার এবং কানিজ ফাতেমা আহমেদ বৈঠকে অংশ নেন।

কাঠগড়ায় বিমানের সেই দুর্নীতিবাজরা

সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষায় সাড়ে ৬শ কোটি টাকা গচ্চা * জবাব দিতে আগামী বৈঠকে হাজির হওয়ার নির্দেশ
 সংসদ প্রতিবেদক 
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদীয় কমিটির মিসরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে লিজ নেওয়া দুটি এয়ারক্রাফটে সাড়ে ৬শ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে বাংলাদেশ বিমানকে। ইঞ্জিন বিকল হওয়া, আবার ভাড়ায় আনা, সেগুলোর মেরামত এবং উড়োজাহাজের ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক কাজে বিপুল অঙ্কের এ টাকা খরচ করা হয়, যা দিয়ে একটি নতুন উড়োজাহাজ কেনা সম্ভব।

এ ঘটনায় বিমানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দেককে চাকরিচ্যুত এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের বদলি করা হলেও লিজ নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এবার জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সেই দুর্নীতিবাজদের তলব করেছে। কমিটির আগামী বৈঠকে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে তাদের।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ইজিপ্ট এয়ারের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। সেই চুক্তি মোতাবেক ওই সংস্থা থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয় বিমান। প্রথম বোয়িং বিমানের বহরে যুক্ত হয় ওই বছরের মার্চেই। অপরটি যুক্ত একই বছরের মে মাসে। বোয়িং দুটি বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার ১১ মাস পরই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।

উড়োজাহাজটি সচল করতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। তখন সুবিধাভোগীদের স্বার্থ হাসিল করতে চড়া দামে ইঞ্জিন ভাড়া করার অনুমোদন দেয় তৎকালীন বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয়ে যায় বোয়িংয়ের অবশিষ্ট ইঞ্জিনটিও। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে আবারও ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন।

এরপর থেকে নানা অজুহাতে গ্রাউন্ডেড থাকে উড়োজাহাজ দুটি। নষ্ট হয়ে যায় ভাড়ায় আনা ইঞ্জিনও। পরে ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে এয়ারক্রাফট দুটি ফেরত দেওয়া হয়। বিমানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দুই উড়োজাহাজ লিজ আনা, মেরামতে চরম অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই বিমানকে এত টাকা গচ্চা দিতে হয়। উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পর থেকে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, আবার ভাড়ায় আনা, সেগুলোর মেরামত এবং উড়োজাহাজের ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক কাজে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা খরচ হয়।

এছাড়াও ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজে আনা এয়ারক্রাফট দুটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রকৌশল) খন্দকার সাজ্জাদুর রহিমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হয়। একই অভিযোগে বরখাস্ত হন প্রধান প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) জিএম ইকবাল।

জানা যায়, ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ড্রাই লিজে ২টি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ সংগ্রহ করে বিমান বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের মার্চে একটি উড়োজাহাজ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইসএল, কনস্ট্রাকশন নং ৩২৬৩০) বিমানবহরে যুক্ত হয়। অন্য উড়োজাহাজটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইসকে, কনস্ট্রাকশন নং ৩২৬২৯) যুক্ত হয় একই বছরের মে মাসে। চুক্তি অনুসারে যাত্রী ঠিকভাবে চলাচল না করলেও উড়োজাহাজ দুটির জন্য বাংলাদেশ বিমানকে মাসে ১১ কোটি টাকা করে দিতে হয়েছে। বহন করতে হয়েছে সব ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। পাঁচ বছরের আগে চুক্তি বাতিল করতে পারবে না বিমান, এমন অসম চুক্তি করে এয়ারক্রাফট দুটি আনা হয়েছিল।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, তানভীর ইমাম, আশেক উল্লাহ রফিক, আনোয়ার হোসেন খান, শেখ তন্ময়, সৈয়দা রুবিনা আক্তার এবং কানিজ ফাতেমা আহমেদ বৈঠকে অংশ নেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন