২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট চূড়ান্ত
jugantor
আজিমপুর মাতৃসদনে লুটপাটে দুদকের ৪ মামলা
২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট চূড়ান্ত
ফাঁসছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজি * ৭ চিকিৎসকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন

  মাহবুব আলম লাবলু  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজিমপুরের মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নামের বিশেষায়িত হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির চারটি মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে দুদক। মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্তে পাওয়া তথ্যে অভিযোগপত্রে যুক্ত হচ্ছে দুই ভিআইপি আসামির নাম।

তারা হচ্ছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার ও মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন।

নতুন দুই আসামিসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার অভিযোগপত্র কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। এতে ৭ চিকিৎসকসহ ১১ জনের নাম রয়েছে। বাকি তিনটি এখনো অনুমোদন হয়নি। চার মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭। কমিশনের একাধিক সূত্র তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক যুগান্তরকে জানান, ‘মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই। অভিযোগপত্র অনুমোদন হলে গণমাধ্যম শাখা থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।’

দুদক সূত্র জানায়, আজিমপুর মাতৃসদনে শুধু ওষুধ নয়, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ও প্যাথলজি সরঞ্জাম কেনার নামে নজিরবিহীন লুটপাট করা হয়েছে। একটি সিন্ডিকেট বাজার দরের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে নানা ধরনের পন্য কেনাকাটা করে। এতে কোটি কোটি টাকা সরানোর অভিযোগ পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে নামে।

প্রতিষ্ঠানটির ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে কেনাকাটার বিষয় তদন্ত করে দেখা হয়। এতে অভিযোগের সত্যতা মেলে। অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ১৭ চিকিৎসকসহ ২৫ জনকে আসামি দিয়ে চারটি মামলা করে দুদক। এরপর যোগ হয় আরও দুজন। সংস্থাটির ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করেন উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক। প্রধান আসামি করা হয় আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ইসরাত জাহানকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলাগুলোর অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার ও মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন। চারটি মামলার কোনোটির এজাহারেই এদের নাম ছিল না। তদন্তকালে দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় অভিযোগপত্রে এই দুজনের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ারের বিরুদ্ধে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দরপত্র বিজ্ঞপ্তির আওতাধীন মেডিসিন, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ও প্যাথলজিক্যাল সরঞ্জাম কেনায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮ (বিধিমালার-৮, ১০, ১১ ও ৯৮ ধারা) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে তিনি প্রতারণা ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, দরপত্রের সর্বনিম্ন দরদাতার দর অনুমোদন না করে মনগড়া ও ভিত্তিহীন দরকে বিবেচনায় নিয়েছেন। তিনি স্ট্যান্ডার্ড রেটের চেয়ে বেশি দামে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদারকে ১ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার ৫৯ টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেছেন।

আরেক আসামি মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনের বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদনে একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই দুই আসামি দুজন ঠিকাদারকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার ৬৩০ টাকা আত্মসাতে সহায়তা করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪২০ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ারকে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক ডিজি মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে লিখিত বক্তব্য দেন। কিন্তু দুদকের তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে আসে।

অভিযোগপত্র অনুমোদন : চার মামলার মধ্যে একটির অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া, বাজারদর আমলে না নিয়ে, গঠিত বাজার কমিটির প্রথম মনগড়া ও ভিত্তিহীন দরকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এমআরপি ওয়েবসাইটের উত্তরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করে মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৪১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আসামিরা দণ্ডবিধির ৮০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের সুপারিশ করা হলো। আসামিরা হলেন মেসার্স মনার্ক এস্টাব্লিশমেন্টের স্বত্বাধিকারী ফাতেনুর ইসলাম, নাফিজা বিজনেজ কর্নারের স্বত্বাধিকারী শেখ ইদ্রিস উদ্দিন (চঞ্চল), সান্তনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিজামুর রহমান চৌধুরী।

এছাড়া মাতৃসদনের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইশরাত জাহান, ডা. পারভীন হক চৌধুরী, ডা. মাহফুজা খাতুন, ডা. চিন্ময় কান্তি দাস, ডা. সাইফুল ইসলাম, ডা. বেগম মাহফুজা দিলারা, ডা. নাজনীন বেগম ও সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা : মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। চার মামলায় ১৭ জন চিকিৎসক ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের আট জন পরে আরও দুজনসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়।

আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ইসরাত জাহানকে চারটি মামলাতেই আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য পারভীন হক চৌধুরী, মাতৃসদনের সাবেক সিনিয়র কনসালট্যান্ট মাহফুজা খাতুন, সাবেক সহকারী কো-অর্ডিনেটর ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য চিন্ময় কান্তি দাস, সাবেক মেডিকেল অফিসার সাইফুল ইসলাম এবং মেডিকেল অফিসার (শিশু) ও বাজারদর যাচাই কমিটির সদস্য মাহফুজা দিলারা আকতারকেও আসামী করা হয়েছে।

এছাড়াও আছেন, মাতৃসদনের মেডিকেল অফিসার ও বাজারদর যাচাই কমিটির সদস্য নাজরিনা বেগম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব বাজারদর যাচাই কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম। পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য জেবুন্নেসা হোসেন, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ও বাজারদর যাচাই কমিটির সভাপতি রওশন হোসনে জাহানের নামও আছে।

মাতৃসদনের সাবেক সহকারী কো-অর্ডিনেটর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. লুৎফুল কবীর খান, মেডিকেল অফিসার রওশন জাহানও আছেন এ তালিকায়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হালিমা খাতুন, মাতৃসদনের বিভাগীয় প্রধান (শিশু) মো. আমীর হোসাইন, সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছা. রইছা খাতুন এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের নাম আছে।

তালিকায় আছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী গোলাম আহসান, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) নাদিরা আফরোজ। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. নাছের উদ্দিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা বিলকিস আক্তার, মেডিকেল অফিসার আলেয়া ফেরদৌসির নামও এতে আছে। ঠিকাদারদের মধ্যে রয়েছেন মনার্ক এস্টাবলিশমেন্টের মালিক মো. ফাতে নূর ইসলাম, মেসার্স নাফিসা বিজনেস কর্নারের মালিক শেখ ইদ্রিস উদ্দিন (চঞ্চল), সান্ত্বনা ট্রেডার্সের মালিক নিজামুর রহমান চৌধুরী।

আজিমপুর মাতৃসদনে লুটপাটে দুদকের ৪ মামলা

২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট চূড়ান্ত

ফাঁসছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজি * ৭ চিকিৎসকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন
 মাহবুব আলম লাবলু 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজিমপুরের মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নামের বিশেষায়িত হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির চারটি মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে দুদক। মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্তে পাওয়া তথ্যে অভিযোগপত্রে যুক্ত হচ্ছে দুই ভিআইপি আসামির নাম।

তারা হচ্ছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার ও মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন।

নতুন দুই আসামিসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার অভিযোগপত্র কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। এতে ৭ চিকিৎসকসহ ১১ জনের নাম রয়েছে। বাকি তিনটি এখনো অনুমোদন হয়নি। চার মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭। কমিশনের একাধিক সূত্র তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক যুগান্তরকে জানান, ‘মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই। অভিযোগপত্র অনুমোদন হলে গণমাধ্যম শাখা থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।’

দুদক সূত্র জানায়, আজিমপুর মাতৃসদনে শুধু ওষুধ নয়, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ও প্যাথলজি সরঞ্জাম কেনার নামে নজিরবিহীন লুটপাট করা হয়েছে। একটি সিন্ডিকেট বাজার দরের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে নানা ধরনের পন্য কেনাকাটা করে। এতে কোটি কোটি টাকা সরানোর অভিযোগ পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে নামে।

প্রতিষ্ঠানটির ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে কেনাকাটার বিষয় তদন্ত করে দেখা হয়। এতে অভিযোগের সত্যতা মেলে। অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ১৭ চিকিৎসকসহ ২৫ জনকে আসামি দিয়ে চারটি মামলা করে দুদক। এরপর যোগ হয় আরও দুজন। সংস্থাটির ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করেন উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক। প্রধান আসামি করা হয় আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ইসরাত জাহানকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলাগুলোর অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার ও মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন। চারটি মামলার কোনোটির এজাহারেই এদের নাম ছিল না। তদন্তকালে দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় অভিযোগপত্রে এই দুজনের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ারের বিরুদ্ধে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দরপত্র বিজ্ঞপ্তির আওতাধীন মেডিসিন, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ও প্যাথলজিক্যাল সরঞ্জাম কেনায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮ (বিধিমালার-৮, ১০, ১১ ও ৯৮ ধারা) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে তিনি প্রতারণা ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, দরপত্রের সর্বনিম্ন দরদাতার দর অনুমোদন না করে মনগড়া ও ভিত্তিহীন দরকে বিবেচনায় নিয়েছেন। তিনি স্ট্যান্ডার্ড রেটের চেয়ে বেশি দামে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদারকে ১ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার ৫৯ টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেছেন।

আরেক আসামি মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনের বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদনে একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই দুই আসামি দুজন ঠিকাদারকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার ৬৩০ টাকা আত্মসাতে সহায়তা করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪২০ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ারকে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক ডিজি মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে লিখিত বক্তব্য দেন। কিন্তু দুদকের তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে আসে।

অভিযোগপত্র অনুমোদন : চার মামলার মধ্যে একটির অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া, বাজারদর আমলে না নিয়ে, গঠিত বাজার কমিটির প্রথম মনগড়া ও ভিত্তিহীন দরকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এমআরপি ওয়েবসাইটের উত্তরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করে মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৪১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আসামিরা দণ্ডবিধির ৮০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের সুপারিশ করা হলো। আসামিরা হলেন মেসার্স মনার্ক এস্টাব্লিশমেন্টের স্বত্বাধিকারী ফাতেনুর ইসলাম, নাফিজা বিজনেজ কর্নারের স্বত্বাধিকারী শেখ ইদ্রিস উদ্দিন (চঞ্চল), সান্তনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিজামুর রহমান চৌধুরী।

এছাড়া মাতৃসদনের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইশরাত জাহান, ডা. পারভীন হক চৌধুরী, ডা. মাহফুজা খাতুন, ডা. চিন্ময় কান্তি দাস, ডা. সাইফুল ইসলাম, ডা. বেগম মাহফুজা দিলারা, ডা. নাজনীন বেগম ও সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা : মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। চার মামলায় ১৭ জন চিকিৎসক ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের আট জন পরে আরও দুজনসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়।

আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ইসরাত জাহানকে চারটি মামলাতেই আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য পারভীন হক চৌধুরী, মাতৃসদনের সাবেক সিনিয়র কনসালট্যান্ট মাহফুজা খাতুন, সাবেক সহকারী কো-অর্ডিনেটর ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য চিন্ময় কান্তি দাস, সাবেক মেডিকেল অফিসার সাইফুল ইসলাম এবং মেডিকেল অফিসার (শিশু) ও বাজারদর যাচাই কমিটির সদস্য মাহফুজা দিলারা আকতারকেও আসামী করা হয়েছে।

এছাড়াও আছেন, মাতৃসদনের মেডিকেল অফিসার ও বাজারদর যাচাই কমিটির সদস্য নাজরিনা বেগম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব বাজারদর যাচাই কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম। পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য জেবুন্নেসা হোসেন, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ও বাজারদর যাচাই কমিটির সভাপতি রওশন হোসনে জাহানের নামও আছে।

মাতৃসদনের সাবেক সহকারী কো-অর্ডিনেটর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. লুৎফুল কবীর খান, মেডিকেল অফিসার রওশন জাহানও আছেন এ তালিকায়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হালিমা খাতুন, মাতৃসদনের বিভাগীয় প্রধান (শিশু) মো. আমীর হোসাইন, সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছা. রইছা খাতুন এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের নাম আছে।

তালিকায় আছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী গোলাম আহসান, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) নাদিরা আফরোজ। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. নাছের উদ্দিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা বিলকিস আক্তার, মেডিকেল অফিসার আলেয়া ফেরদৌসির নামও এতে আছে। ঠিকাদারদের মধ্যে রয়েছেন মনার্ক এস্টাবলিশমেন্টের মালিক মো. ফাতে নূর ইসলাম, মেসার্স নাফিসা বিজনেস কর্নারের মালিক শেখ ইদ্রিস উদ্দিন (চঞ্চল), সান্ত্বনা ট্রেডার্সের মালিক নিজামুর রহমান চৌধুরী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন