জাপানি নারীর কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান স্বামী
jugantor
মানহানিকর তথ্য প্রকাশ
জাপানি নারীর কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান স্বামী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাপানি নারী এরিকো নাকানোকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তার স্বামী ইমরান শরীফ। একইসঙ্গে নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে নাকানো এরিকোকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার ইমরান শরীফের পক্ষে তার আইনজীবী ফাওজিয়া করিম এ নোটিশ পাঠান। নাকানো এরিকোর গুলশান-২ এর ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এরিকোর আইনজীবী শিশির মনির নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে শিশু দুটিকে জাপান থেকে অপহরণ করে বাংলাদেশে আনার অভিযোগ করা হয়েছে। শিশু দুটি বাংলাদেশের কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ালেখা করছে। সেই স্কুলে লিখিতভাবে নাকানো এরিকো চিঠি দিয়ে বলেছে যে শিশু দুটিকে জাপান থেকে অপহরণ করেছে তার পিতা ইমরান শরীফ। এ অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। এমনকি শিশু দুটির সঙ্গে দেখা করানোর আগে মায়ের চোখ বেঁধে নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার কোনো চোখ বাঁধা হয়নি। এভাবে বাংলাদেশে এসে মা নাকানো এরিকো বিভিন্নভাবে শিশু দুটির পিতা ইমরান শরীফকে হয়রানি ও তার মানহানি করছেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৮ সেপ্টেম্বর এক আদেশে ৯, ১১, ১৩ ও ১৫ সেপ্টেম্বর- এই ৪ দিন রাতে মেয়েদের সঙ্গে মাকে থাকার অনুমতি দেন। অন্য সময় মা ও পিতা উভয়েই থাকতে পারবেন ওই বাসাতে। কন্যাশিশু দুটিকে নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরিরও অনুমতি দেন হাইকোর্ট। এছাড়াও মেয়ে দুটির মা ও পিতাকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত সব ভিডিও অপসারণে পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

পাশাপাশি এসব ভিডিও নির্মাতা এবং আপলোডকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৩১ আগস্ট একই হাইকোর্ট বেঞ্চ সেই দুই কন্যাশিশুকে আপাতত আগামী ১৫ দিন জাপানি মা ও বাংলাদেশি পিতার সঙ্গেই গুলশান এক নম্বরে চার কক্ষের একটি ভাড়া বাসায় থাকার নির্দেশনা দেন। এরপর শিশু দুটিকে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ওই বাসাতে স্থানান্তর করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। শিশু দুটির মা জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব আদেশ দেন হাইকোর্ট।

জানা যায়, জাপান থেকে কন্যাশিশু দুটিকে নিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে আসেন পিতা ইমরান শরীফ। দেশে ফিরে সন্তান দুটিকে ঢাকায় কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। এ অবস্থায় ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলংকা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মা এরিকো। এ আবেদনে হাইকোর্টের আদেশের পর ২২ আগস্ট রাতে শিশু দুটিকে পিতার বাসা থেকে উদ্ধার করে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে সিআইডি পুলিশ। এ অবস্থায় ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট খাস কামরায় শিশু দুটি ছাড়াও তাদের মা-বাবার বক্তব্য শোনেন।

মানহানিকর তথ্য প্রকাশ

জাপানি নারীর কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান স্বামী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাপানি নারী এরিকো নাকানোকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তার স্বামী ইমরান শরীফ। একইসঙ্গে নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে নাকানো এরিকোকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার ইমরান শরীফের পক্ষে তার আইনজীবী ফাওজিয়া করিম এ নোটিশ পাঠান। নাকানো এরিকোর গুলশান-২ এর ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এরিকোর আইনজীবী শিশির মনির নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে শিশু দুটিকে জাপান থেকে অপহরণ করে বাংলাদেশে আনার অভিযোগ করা হয়েছে। শিশু দুটি বাংলাদেশের কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ালেখা করছে। সেই স্কুলে লিখিতভাবে নাকানো এরিকো চিঠি দিয়ে বলেছে যে শিশু দুটিকে জাপান থেকে অপহরণ করেছে তার পিতা ইমরান শরীফ। এ অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। এমনকি শিশু দুটির সঙ্গে দেখা করানোর আগে মায়ের চোখ বেঁধে নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার কোনো চোখ বাঁধা হয়নি। এভাবে বাংলাদেশে এসে মা নাকানো এরিকো বিভিন্নভাবে শিশু দুটির পিতা ইমরান শরীফকে হয়রানি ও তার মানহানি করছেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৮ সেপ্টেম্বর এক আদেশে ৯, ১১, ১৩ ও ১৫ সেপ্টেম্বর- এই ৪ দিন রাতে মেয়েদের সঙ্গে মাকে থাকার অনুমতি দেন। অন্য সময় মা ও পিতা উভয়েই থাকতে পারবেন ওই বাসাতে। কন্যাশিশু দুটিকে নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরিরও অনুমতি দেন হাইকোর্ট। এছাড়াও মেয়ে দুটির মা ও পিতাকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত সব ভিডিও অপসারণে পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

পাশাপাশি এসব ভিডিও নির্মাতা এবং আপলোডকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৩১ আগস্ট একই হাইকোর্ট বেঞ্চ সেই দুই কন্যাশিশুকে আপাতত আগামী ১৫ দিন জাপানি মা ও বাংলাদেশি পিতার সঙ্গেই গুলশান এক নম্বরে চার কক্ষের একটি ভাড়া বাসায় থাকার নির্দেশনা দেন। এরপর শিশু দুটিকে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ওই বাসাতে স্থানান্তর করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। শিশু দুটির মা জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব আদেশ দেন হাইকোর্ট।

জানা যায়, জাপান থেকে কন্যাশিশু দুটিকে নিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে আসেন পিতা ইমরান শরীফ। দেশে ফিরে সন্তান দুটিকে ঢাকায় কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। এ অবস্থায় ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলংকা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মা এরিকো। এ আবেদনে হাইকোর্টের আদেশের পর ২২ আগস্ট রাতে শিশু দুটিকে পিতার বাসা থেকে উদ্ধার করে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে সিআইডি পুলিশ। এ অবস্থায় ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট খাস কামরায় শিশু দুটি ছাড়াও তাদের মা-বাবার বক্তব্য শোনেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন