মাস্টার্স ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ৫ অক্টোবর থেকে হলে থাকবে
jugantor
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মাস্টার্স ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ৫ অক্টোবর থেকে হলে থাকবে

  ঢাবি প্রতিনিধি  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক ডোজ টিকা নেওয়ার সনদ ও বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে ৫ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডার্ড কমিটির এ সুপারিশ বৃহস্পতিবার একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে অক্টোবরে হল খোলার সুপারিশে হতাশা প্রকাশ করেছেন ছাত্রনেতারা।

সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, অক্টোবরের পাঁচ তারিখ শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল খোলা হবে। এর জন্য শিক্ষার্থীদের অন্তত এক ডোজ টিকা নিতে হবে, না হয় হলে প্রবেশ করা যাবে না। টিকা নেওয়ার ডকুমেন্টও দেখাতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতীয় নীতিমালার আলোকে করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তিনি বলেন, অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা পরে হলে উঠবে। চতুর্থ বর্ষ, মাস্টার্সের পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম শেষ হলে তারা হল ত্যাগ করবে। তখন আমরা বাকি শিক্ষার্থীদের হলে তুলব।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেও টিকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫ অক্টোবর সবার মুখে মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত মাস্ক থাকবে।

এছাড়া একাডেমিক কাউন্সিলের অন্য সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে- আগামী ২৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং বিভাগ/ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে শুধু মাস্টার্স ও অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি ভবনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে দৃশ্যমান জায়গায় সচেতনতা ব্যানার টানানো, ফেস্টুন প্রচারণা থাকবে। একই সঙ্গে মাস্ক, স্যানিটাইজার নিশ্চিত করা হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে মশক নিধন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলার আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের মাধ্যমে সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। অফিসের কর্মঘণ্টা হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার বিকালে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামালসহ বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকরা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

অক্টোবরে হল খোলার সুপারিশে হতাশ ছাত্রনেতারা : করোনা সংক্রমণ কমে আসায় চলতি মাসেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার দাবি জানিয়ে আসছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ সাত সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সক্রিয় ১৩টি ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত পরিবেশ পরিষদের সভায়ও এই দাবি জানানো হয়। তবে তাদের দাবি উপেক্ষা করে ৫ অক্টোবর থেকে আবাসিক হল খোলার সুপারিশে হতাশা প্রকাশ করেছেন ছাত্রনেতারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদাক হুসাইন সাদ্দাম যুগান্তরকে বলেন, সেপ্টেম্বরের পর হল খোলার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব বিষয়। তবে বাসা ভাড়াসহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে হল খুললে ভালো হতো। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে হল খোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, পরিবেশ পরিষদের মিটিংয়ে আমরা সব ছাত্র সংগঠন চলতি মাসেই আবাসিক হল খোলার দাবি জানিয়েছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু এখন দেখছি অন্য চিত্র, এতে আমরা হতাশ।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, অক্টোবরে হল খোলার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। আমরা আগে থেকেই সেপ্টেম্বরে হল খোলার দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা চলতি মাসেই হল খোলার দাবি জানাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মাস্টার্স ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ৫ অক্টোবর থেকে হলে থাকবে

 ঢাবি প্রতিনিধি 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক ডোজ টিকা নেওয়ার সনদ ও বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে ৫ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডার্ড কমিটির এ সুপারিশ বৃহস্পতিবার একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে অক্টোবরে হল খোলার সুপারিশে হতাশা প্রকাশ করেছেন ছাত্রনেতারা।

সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, অক্টোবরের পাঁচ তারিখ শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল খোলা হবে। এর জন্য শিক্ষার্থীদের অন্তত এক ডোজ টিকা নিতে হবে, না হয় হলে প্রবেশ করা যাবে না। টিকা নেওয়ার ডকুমেন্টও দেখাতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতীয় নীতিমালার আলোকে করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তিনি বলেন, অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা পরে হলে উঠবে। চতুর্থ বর্ষ, মাস্টার্সের পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম শেষ হলে তারা হল ত্যাগ করবে। তখন আমরা বাকি শিক্ষার্থীদের হলে তুলব।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেও টিকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫ অক্টোবর সবার মুখে মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত মাস্ক থাকবে।

এছাড়া একাডেমিক কাউন্সিলের অন্য সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে- আগামী ২৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং বিভাগ/ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে শুধু মাস্টার্স ও অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি ভবনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে দৃশ্যমান জায়গায় সচেতনতা ব্যানার টানানো, ফেস্টুন প্রচারণা থাকবে। একই সঙ্গে মাস্ক, স্যানিটাইজার নিশ্চিত করা হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে মশক নিধন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলার আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের মাধ্যমে সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। অফিসের কর্মঘণ্টা হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার বিকালে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামালসহ বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকরা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

অক্টোবরে হল খোলার সুপারিশে হতাশ ছাত্রনেতারা : করোনা সংক্রমণ কমে আসায় চলতি মাসেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার দাবি জানিয়ে আসছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ সাত সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সক্রিয় ১৩টি ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত পরিবেশ পরিষদের সভায়ও এই দাবি জানানো হয়। তবে তাদের দাবি উপেক্ষা করে ৫ অক্টোবর থেকে আবাসিক হল খোলার সুপারিশে হতাশা প্রকাশ করেছেন ছাত্রনেতারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদাক হুসাইন সাদ্দাম যুগান্তরকে বলেন, সেপ্টেম্বরের পর হল খোলার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব বিষয়। তবে বাসা ভাড়াসহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে হল খুললে ভালো হতো। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে হল খোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, পরিবেশ পরিষদের মিটিংয়ে আমরা সব ছাত্র সংগঠন চলতি মাসেই আবাসিক হল খোলার দাবি জানিয়েছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু এখন দেখছি অন্য চিত্র, এতে আমরা হতাশ।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, অক্টোবরে হল খোলার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। আমরা আগে থেকেই সেপ্টেম্বরে হল খোলার দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা চলতি মাসেই হল খোলার দাবি জানাই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন