সমঝোতা করতে ১২ দিন পেল বাবা-মা
jugantor
জাপানি দুই শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ
সমঝোতা করতে ১২ দিন পেল বাবা-মা
শিশুরা একদিন বাবা ও একদিন মায়ের সঙ্গে থাকবে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই শিশুকন্যার অভিভাবকত্ব নিয়ে বাংলাদেশি বাবা ও জাপানি মায়ের মধ্যকার বিরোধ সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে উভয় পক্ষকে ১২ দিন সময় দিয়েছেন আদালত। এ সমঝোতায় সহায়তা করার জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সমঝোতা করার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। বাচ্চাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে একটি সুন্দর সমাধান হবে বলে আদালত আশা প্রকাশ করেছেন। আদালত বলেন, এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

এদিন আদালত জাপানি মা নাকানো এরিকোর রিট আবেদনের ওপর শুনানি মুলতুবি করেন। হাইকোর্ট আদেশে বলেন, পর্যায়ক্রমে শিশু দুটি একদিন বাবা ও একদিন মায়ের কাছে থাকবে। আদেশ অনুযায়ী-আজ শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরদিন শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তারা মায়ের কাছে এবং শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরদিন রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত বাবার কাছে থাকবে।

এভাবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মা ও বাবা পর্যায়ক্রমে একদিন পর একদিন মেয়েদের সঙ্গে থাকতে পারবেন। বাবা ইমরান শরীফের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। মা নাকানো এরিকোর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে জাপানে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মা নাকানো এরিকো। আবেদনে বলা হয়-অনুমতি পেলে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন মা। মেয়েরা তার বাবার সঙ্গে সময় কাটাবে। আর জাপানে বাবার (ইমরান) যে ঋণ আছে, তা মা (নাকানো) দেবেন এবং বাবার বিরুদ্ধে জাপানে করা মামলা তুলে নিতে পদক্ষেপ নেবেন মা। এতে রাজি না হলে তৃতীয় কোনো দেশে বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন বাবা। সেখানকার সব খরচ বহন করবেন মা।

আইনজীবী শিশির মনির এ আবেদন উপস্থাপন করেন। এছাড়া মা ও বাবার জন্য তিনি আলাদা সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার আবেদন জানান। এর বিরোধিতা করে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, শিশু দুটিকে একবার জাপানে নিয়ে যেতে পারলে আর তাদের বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে না। আমাদের আদালতের আদেশ তারা মানবেন না।

তিনি বলেন, বাচ্চারা বাংলাদেশেই থাকুক। মা যখন খুশি এসে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবেন। মা যখন বাংলাদেশে আসবেন, তখন প্রয়োজন হলে বাবা বিমানের টিকিট কেটে দেবেন। সব ব্যবস্থা বাবাই করবেন। মা-বাবার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণের আবেদনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, সমঝোতার স্বার্থে এখন যে অবস্থা আছে, সে অবস্থায়ই রাখা হোক।

উভয় পক্ষের শুনানিকালে আদালত বলেন, মা-বাবার কারণে আজ বাচ্চা দুটি সমস্যায় রয়েছে। তারাই মূল ভিকটিম। তাই এর একটি সমাধান হওয়া দরকার।

৮ সেপ্টেম্বর একই বেঞ্চ এক আদেশে ৯, ১১, ১৩ ও ১৫ সেপ্টেম্বর (৪ দিন) রাতে মেয়েদের সঙ্গে মাকে থাকার অনুমতি দেন। অন্য সময় বাসায় মা ও বাবা উভয়ে থাকতে পারবেন। শিশু দুটিকে নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করারও অনুমতি দেন আদালত। এছাড়া মা ও বাবাকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত সব ভিডিও অপসারণে পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পাশাপাশি এসব ভিডিও নির্মাতা এবং আপলোডকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৩১ আগস্ট একই হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ১৫ দিনের জন্য গুলশান ১ নম্বরে চার কক্ষের একটি ভাড়া বাসায় শিশু দুটির সঙ্গে মা ও বাবাকে থাকার নির্দেশনা দেন। এরপর শিশু দুটিকে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ওই বাসায় স্থানান্তর করা হয়। এখন পর্যন্ত তারা ওই বাসায় আছে।

মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ : এদিকে মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাপানি নারী এরিকো নাকানোকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তার স্বামী ইমরান শরীফ। একই সঙ্গে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে নাকানোকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। নাকানোর গুলশান-২ এর ঠিকানায় মঙ্গলবার ইমরান শরীফের পক্ষে তার আইনজীবী ফাওজিয়া করিম নোটিশটি পাঠান।

জানা যায়, জাপান থেকে শিশু দুটিকে নিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে আসেন ইমরান শরীফ। দেশে ফিরে সন্তান দুটিকে ঢাকায় কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে তিনি ভর্তি করিয়ে দেন।

এ অবস্থায় ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। এ আবেদনে হাইকোর্টের আদেশের পর ২২ আগস্ট রাতে শিশু দুটিকে বাবার বাসা থেকে উদ্ধার করে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে সিআইডি পুলিশ। ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট দুই শিশু ও তাদের মা-বাবার বক্তব্য শোনেন।

জাপানি দুই শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ

সমঝোতা করতে ১২ দিন পেল বাবা-মা

শিশুরা একদিন বাবা ও একদিন মায়ের সঙ্গে থাকবে
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই শিশুকন্যার অভিভাবকত্ব নিয়ে বাংলাদেশি বাবা ও জাপানি মায়ের মধ্যকার বিরোধ সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে উভয় পক্ষকে ১২ দিন সময় দিয়েছেন আদালত। এ সমঝোতায় সহায়তা করার জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সমঝোতা করার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। বাচ্চাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে একটি সুন্দর সমাধান হবে বলে আদালত আশা প্রকাশ করেছেন। আদালত বলেন, এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

এদিন আদালত জাপানি মা নাকানো এরিকোর রিট আবেদনের ওপর শুনানি মুলতুবি করেন। হাইকোর্ট আদেশে বলেন, পর্যায়ক্রমে শিশু দুটি একদিন বাবা ও একদিন মায়ের কাছে থাকবে। আদেশ অনুযায়ী-আজ শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরদিন শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তারা মায়ের কাছে এবং শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরদিন রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত বাবার কাছে থাকবে।

এভাবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মা ও বাবা পর্যায়ক্রমে একদিন পর একদিন মেয়েদের সঙ্গে থাকতে পারবেন। বাবা ইমরান শরীফের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। মা নাকানো এরিকোর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। 

দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে জাপানে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মা নাকানো এরিকো। আবেদনে বলা হয়-অনুমতি পেলে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন মা। মেয়েরা তার বাবার সঙ্গে সময় কাটাবে। আর জাপানে বাবার (ইমরান) যে ঋণ আছে, তা মা (নাকানো) দেবেন এবং বাবার বিরুদ্ধে জাপানে করা মামলা তুলে নিতে পদক্ষেপ নেবেন মা। এতে রাজি না হলে তৃতীয় কোনো দেশে বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন বাবা। সেখানকার সব খরচ বহন করবেন মা।

আইনজীবী শিশির মনির এ আবেদন উপস্থাপন করেন। এছাড়া মা ও বাবার জন্য তিনি আলাদা সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার আবেদন জানান। এর বিরোধিতা করে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, শিশু দুটিকে একবার জাপানে নিয়ে যেতে পারলে আর তাদের বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে না। আমাদের আদালতের আদেশ তারা মানবেন না।

তিনি বলেন, বাচ্চারা বাংলাদেশেই থাকুক। মা যখন খুশি এসে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবেন। মা যখন বাংলাদেশে আসবেন, তখন প্রয়োজন হলে বাবা বিমানের টিকিট কেটে দেবেন। সব ব্যবস্থা বাবাই করবেন। মা-বাবার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণের আবেদনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, সমঝোতার স্বার্থে এখন যে অবস্থা আছে, সে অবস্থায়ই রাখা হোক। 

উভয় পক্ষের শুনানিকালে আদালত বলেন, মা-বাবার কারণে আজ বাচ্চা দুটি সমস্যায় রয়েছে। তারাই মূল ভিকটিম। তাই এর একটি সমাধান হওয়া দরকার।

৮ সেপ্টেম্বর একই বেঞ্চ এক আদেশে ৯, ১১, ১৩ ও ১৫ সেপ্টেম্বর (৪ দিন) রাতে মেয়েদের সঙ্গে মাকে থাকার অনুমতি দেন। অন্য সময় বাসায় মা ও বাবা উভয়ে থাকতে পারবেন। শিশু দুটিকে নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করারও অনুমতি দেন আদালত। এছাড়া মা ও বাবাকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত সব ভিডিও অপসারণে পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পাশাপাশি এসব ভিডিও নির্মাতা এবং আপলোডকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৩১ আগস্ট একই হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ১৫ দিনের জন্য গুলশান ১ নম্বরে চার কক্ষের একটি ভাড়া বাসায় শিশু দুটির সঙ্গে মা ও বাবাকে থাকার নির্দেশনা দেন। এরপর শিশু দুটিকে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ওই বাসায় স্থানান্তর করা হয়। এখন পর্যন্ত তারা ওই বাসায় আছে।

মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ : এদিকে মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাপানি নারী এরিকো নাকানোকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তার স্বামী ইমরান শরীফ। একই সঙ্গে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে নাকানোকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। নাকানোর গুলশান-২ এর ঠিকানায় মঙ্গলবার ইমরান শরীফের পক্ষে তার আইনজীবী ফাওজিয়া করিম নোটিশটি পাঠান।

জানা যায়, জাপান থেকে শিশু দুটিকে নিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে আসেন ইমরান শরীফ। দেশে ফিরে সন্তান দুটিকে ঢাকায় কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে তিনি ভর্তি করিয়ে দেন।

এ অবস্থায় ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। এ আবেদনে হাইকোর্টের আদেশের পর ২২ আগস্ট রাতে শিশু দুটিকে বাবার বাসা থেকে উদ্ধার করে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে সিআইডি পুলিশ। ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট দুই শিশু ও তাদের মা-বাবার বক্তব্য শোনেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন