মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে সংসদে বিল পাশ
jugantor
ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে সংসদে বিল পাশ

  সংসদ প্রতিবেদক  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জরুরিভিত্তিতে বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর বিশেষ আইনের মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে জাতীয় সংসদে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল-২০২১’ পাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিলটি পাশের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। বিলটি পাসের বিরোধিতা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, গণফোরাম এবং বিএনপির সংসদ সদস্যরা।

তারা বলেন, জনগণের করের টাকা অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এ আইন করা হচ্ছে। অসৎ উদ্দেশ্যে বিলটি তড়িঘড়ি করে পাশ করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, আইনটি ‘জঘন্য কালো আইন’।

বিল পাশের বিরোধিতা করে বিএনপিদলীয় সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ৫ বছর কেন বাড়ানো হচ্ছে। আমরা শতভাগ বিদ্যুতের কথা বলছি। রূপপুর, মাতারবাড়ীতে বড় প্রকল্প করছি। ঋণের বোঝা বাড়ছে। এভাবে চললে দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে। এ আইন করে আমরা অনিয়ম-দুর্নীতির বৈধতা দিচ্ছি।

বিশেষ বিধান রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে করা হয়েছে। সন্ত্রাস দমনসহ বিভিন্ন সময় আইন করা হয়েছে। কিন্তু বিশেষ বিধান কেন ১৬ বছর ধরে চলবে। বিশেষ বিধান সাময়িক সময়ের জন্য করলেন। আজকে কেন আবার ৫ বছর? সর্বোচ্চ এ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করেন। এছাড়া ঘোর আপত্তি থাকবে। বিশেষ বিধান এভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে না।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু নিজের এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ পাই না। চৈত্র, বৈশাখ, ভাদ্র মাসে মানুষ ঘুমাতে পারে না। ৪-৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। জোরে বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ যায়। বাতাস হলে বিদ্যুৎ যায়। আমাদের বাঁচান। আইনের এক্সটেনশন দরকার নেই।

একই দলের সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ আসে না যায়, বোঝা যায় না। আমাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে। আপনি অল্প জনবল দিয়ে সেবা দিচ্ছেন। একটা লাইন দিয়ে ৬০-৭০ কিলোমিটার লাইন চালাচ্ছেন। আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ চাই না। আগের অবস্থায় ফিরতে চাই।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, কুইক রেন্টাল ব্যয়বহুল। কেন এটা করা হচ্ছে। সঞ্চালন লাইনে কেন নজর দেওয়া হচ্ছে না। জরুরিভিত্তিতে নজর দিতে হবে।

বিএনপির ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। এ আইনে কিছু মানুষের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জনগণের টাকা কিছু মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে, কিন্তু তা নিয়ে কথা বলা যাবে না। বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পরিকল্পিতভাবে অচল করে রাখা হচ্ছে।

গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, এটি জঘন্য কালো আইন। এখানে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। তড়িঘড়ি করে করা হচ্ছে। জনগণের টাকা অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এ আইন করা হয়েছে।

জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিলটি নতুন করে আনা হয়নি। সময় বাড়ানো হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ যাতে দিতে পারি সেজন্য এ আইন। ৬ মাসের মধ্যে যাতে কাজ করতে পারি সেজন্য এ আইন। শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছি। এখন নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চাই।

সঞ্চালন লাইন করতে গেলে সময় লাগবে। এটা কুইক রেন্টালের জন্য নয়। দ্রুত সরবরাহের জন্য এ আইন। আমাদের দ্রুত সঞ্চালন করতে হবে। মাটির নিচে যেতে হবে। আগামী ৩ বছরের মধ্যে ঢাকা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়। আর এটা করার জন্য ২০১০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’।

শুরুতে দুই বছরের জন্য এ আইন করা হলেও পরে কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়। আবারও ৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বুধবার বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস হতে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে এ খাতে দ্রুত অধিক সংখ্যক প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্য আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে বিলটি আনা হয়েছে।

ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে সংসদে বিল পাশ

 সংসদ প্রতিবেদক 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জরুরিভিত্তিতে বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর বিশেষ আইনের মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে জাতীয় সংসদে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল-২০২১’ পাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিলটি পাশের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। বিলটি পাসের বিরোধিতা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, গণফোরাম এবং বিএনপির সংসদ সদস্যরা।

তারা বলেন, জনগণের করের টাকা অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এ আইন করা হচ্ছে। অসৎ উদ্দেশ্যে বিলটি তড়িঘড়ি করে পাশ করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, আইনটি ‘জঘন্য কালো আইন’।

বিল পাশের বিরোধিতা করে বিএনপিদলীয় সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ৫ বছর কেন বাড়ানো হচ্ছে। আমরা শতভাগ বিদ্যুতের কথা বলছি। রূপপুর, মাতারবাড়ীতে বড় প্রকল্প করছি। ঋণের বোঝা বাড়ছে। এভাবে চললে দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে। এ আইন করে আমরা অনিয়ম-দুর্নীতির বৈধতা দিচ্ছি।

বিশেষ বিধান রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে করা হয়েছে। সন্ত্রাস দমনসহ বিভিন্ন সময় আইন করা হয়েছে। কিন্তু বিশেষ বিধান কেন ১৬ বছর ধরে চলবে। বিশেষ বিধান সাময়িক সময়ের জন্য করলেন। আজকে কেন আবার ৫ বছর? সর্বোচ্চ এ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করেন। এছাড়া ঘোর আপত্তি থাকবে। বিশেষ বিধান এভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে না।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু নিজের এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ পাই না। চৈত্র, বৈশাখ, ভাদ্র মাসে মানুষ ঘুমাতে পারে না। ৪-৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। জোরে বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ যায়। বাতাস হলে বিদ্যুৎ যায়। আমাদের বাঁচান। আইনের এক্সটেনশন দরকার নেই।

একই দলের সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ আসে না যায়, বোঝা যায় না। আমাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে। আপনি অল্প জনবল দিয়ে সেবা দিচ্ছেন। একটা লাইন দিয়ে ৬০-৭০ কিলোমিটার লাইন চালাচ্ছেন। আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ চাই না। আগের অবস্থায় ফিরতে চাই।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, কুইক রেন্টাল ব্যয়বহুল। কেন এটা করা হচ্ছে। সঞ্চালন লাইনে কেন নজর দেওয়া হচ্ছে না। জরুরিভিত্তিতে নজর দিতে হবে।

বিএনপির ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। এ আইনে কিছু মানুষের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জনগণের টাকা কিছু মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে, কিন্তু তা নিয়ে কথা বলা যাবে না। বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পরিকল্পিতভাবে অচল করে রাখা হচ্ছে।

গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, এটি জঘন্য কালো আইন। এখানে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। তড়িঘড়ি করে করা হচ্ছে। জনগণের টাকা অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এ আইন করা হয়েছে।

জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিলটি নতুন করে আনা হয়নি। সময় বাড়ানো হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ যাতে দিতে পারি সেজন্য এ আইন। ৬ মাসের মধ্যে যাতে কাজ করতে পারি সেজন্য এ আইন। শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছি। এখন নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চাই।

সঞ্চালন লাইন করতে গেলে সময় লাগবে। এটা কুইক রেন্টালের জন্য নয়। দ্রুত সরবরাহের জন্য এ আইন। আমাদের দ্রুত সঞ্চালন করতে হবে। মাটির নিচে যেতে হবে। আগামী ৩ বছরের মধ্যে ঢাকা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়। আর এটা করার জন্য ২০১০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’।

শুরুতে দুই বছরের জন্য এ আইন করা হলেও পরে কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়। আবারও ৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বুধবার বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস হতে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে এ খাতে দ্রুত অধিক সংখ্যক প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্য আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে বিলটি আনা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন