ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্টে ফের সময় প্রার্থনা!
jugantor
কক্সবাজারে সাংবাদিক নির্যাতন
ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্টে ফের সময় প্রার্থনা!

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ, অপর ২৬ পুলিশ সদস্য ও ৪ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের নির্যাতন মামলার প্রতিবেদন জমা দিতে পঞ্চমবারের মতো সময় চেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেরিন সুলতানের আদালতে মামলার পিবিআই-এর তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক কায়সার হামিদ সময় আবেদন করেন।

এদিকে মাদক নিয়ে লেখালেখির কারণে কক্সবাজারবাণীর সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে পুলিশের ৬ মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি। এ অবস্থায় একদিকে নিজের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অপরদিকে মামলা-হামলায় জড়িতদের শাস্তি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে আদালতে ঘুরছেন ফরিদুল মোস্তফা। তিনি অভিযোগ করেছেন, মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছেন দীর্ঘদিন হয়ে গেল।

বারবার সময় চাওয়া নিয়ে কথা বলতে চাইলে পিবিআই-এর পরিদর্শক কায়সার হামিদ বলেন, মামলাটি হাতে পাওয়ার পর নির্যাতিত সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার মেডিকেল রিপোর্টের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আবেদন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত রিপোর্ট হাতে পাইনি। আর রিপোর্ট হাতে না পাওয়ায় প্রতিবেদনও আদালতে জমা দেওয়া যায়নি। আশা করছি দ্রুত রিপোর্ট হাতে পাওয়া সাপেক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।

এদিকে নির্যাতিত সাংবাদিক ফরিদুল সব মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে করা মামলা আমলে নিয়ে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে বরাবরের মতোই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিচার বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সাংবাদিক ফরিদ বলেন, মাদক ও ঘুসের বিরুদ্ধে লিখেছি বলে প্রদীপ ও তার লালিত মাদক ব্যবসায়ীরা পাষবিক নির্যাতন করছে। ৬টি মিথ্যা মামলা দিয়ে টানা ১১ মাস কারাগারে রেখেছে। আমি বর্তমানে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয়ে আছি। মামলা চালাতে পারছি না।

গত বছর ফরিদুল মোস্তফার নিজের অনলাইন নিউজ পোর্টাল জনতার বাণীতে ২০১৯ সালের ২৪ জুন ‘টাকা না দিলে ক্রসফায়ারে দেন টেকনাফের ওসি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই ওসি প্রদীপের রোষানলে পড়েন তিনি।

একপর্যায়ে ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার সাংবাদিক ফরিদুলকে রাতের অন্ধকারে ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান টেকনাফ থানায়। চালানো হয় অমানবিক বর্বরতা। কয়েক দিনের ধারাবাহিক নির্যাতন শেষে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজির ৬টি মামলা দিয়ে চালান দেওয়া হয়। টানা ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগ করেন। এক পর্যায়ে মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ বরখাস্ত হয়ে কারাগারে যান। এরই মধ্যে গত বছর ২৭ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান সাংবাদিক ফরিদুল। পরে তিনি শারীরিক, মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর বরখাস্ত ওসি প্রদীপকে প্রধান আসামি করে ২৬ পুলিশ সদস্য এবং ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ।

বৃহস্পতিবার ১৬ সেপ্টেম্বর পিবিআই পঞ্চমবারের মতো আদালতে আরও ৩০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। এভাবে পুলিশের বারবার সময় চাওয়ার কারণে মামলার বাদীসহ কর্তব্যরত সাংবাদিকরা মামলার ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এ ব্যাপারে সরকারের উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বাদীর প্রধান আইনজীবী আবদুল মন্নান বলেন, দিবালোকের মতো স্পষ্ট-সাংবাদিক নির্যাতনের এই ঘটনার যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় দেশের বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে আদালতের মূল্যবান সময়।

ফৌজদারি কার্যবিধিতে তদন্তের বিধিবিধানের সময়সীমা অতিক্রম করার পরও প্রতিবেদন দাখিল না করায় অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি মামলাটি তদন্তের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন সিনিয়র এই আইনজীবী। এদিকে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যা মামলায় তার বোনের করা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

কক্সবাজারে সাংবাদিক নির্যাতন

ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্টে ফের সময় প্রার্থনা!

 শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ, অপর ২৬ পুলিশ সদস্য ও ৪ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের নির্যাতন মামলার প্রতিবেদন জমা দিতে পঞ্চমবারের মতো সময় চেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেরিন সুলতানের আদালতে মামলার পিবিআই-এর তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক কায়সার হামিদ সময় আবেদন করেন।

এদিকে মাদক নিয়ে লেখালেখির কারণে কক্সবাজারবাণীর সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে পুলিশের ৬ মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি। এ অবস্থায় একদিকে নিজের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অপরদিকে মামলা-হামলায় জড়িতদের শাস্তি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে আদালতে ঘুরছেন ফরিদুল মোস্তফা। তিনি অভিযোগ করেছেন, মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছেন দীর্ঘদিন হয়ে গেল।

বারবার সময় চাওয়া নিয়ে কথা বলতে চাইলে পিবিআই-এর পরিদর্শক কায়সার হামিদ বলেন, মামলাটি হাতে পাওয়ার পর নির্যাতিত সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার মেডিকেল রিপোর্টের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আবেদন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত রিপোর্ট হাতে পাইনি। আর রিপোর্ট হাতে না পাওয়ায় প্রতিবেদনও আদালতে জমা দেওয়া যায়নি। আশা করছি দ্রুত রিপোর্ট হাতে পাওয়া সাপেক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।

এদিকে নির্যাতিত সাংবাদিক ফরিদুল সব মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে করা মামলা আমলে নিয়ে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে বরাবরের মতোই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিচার বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সাংবাদিক ফরিদ বলেন, মাদক ও ঘুসের বিরুদ্ধে লিখেছি বলে প্রদীপ ও তার লালিত মাদক ব্যবসায়ীরা পাষবিক নির্যাতন করছে। ৬টি মিথ্যা মামলা দিয়ে টানা ১১ মাস কারাগারে রেখেছে। আমি বর্তমানে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয়ে আছি। মামলা চালাতে পারছি না।

গত বছর ফরিদুল মোস্তফার নিজের অনলাইন নিউজ পোর্টাল জনতার বাণীতে ২০১৯ সালের ২৪ জুন ‘টাকা না দিলে ক্রসফায়ারে দেন টেকনাফের ওসি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই ওসি প্রদীপের রোষানলে পড়েন তিনি।

একপর্যায়ে ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার সাংবাদিক ফরিদুলকে রাতের অন্ধকারে ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান টেকনাফ থানায়। চালানো হয় অমানবিক বর্বরতা। কয়েক দিনের ধারাবাহিক নির্যাতন শেষে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজির ৬টি মামলা দিয়ে চালান দেওয়া হয়। টানা ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগ করেন। এক পর্যায়ে মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ বরখাস্ত হয়ে কারাগারে যান। এরই মধ্যে গত বছর ২৭ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান সাংবাদিক ফরিদুল। পরে তিনি শারীরিক, মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর বরখাস্ত ওসি প্রদীপকে প্রধান আসামি করে ২৬ পুলিশ সদস্য এবং ৪ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ।

বৃহস্পতিবার ১৬ সেপ্টেম্বর পিবিআই পঞ্চমবারের মতো আদালতে আরও ৩০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। এভাবে পুলিশের বারবার সময় চাওয়ার কারণে মামলার বাদীসহ কর্তব্যরত সাংবাদিকরা মামলার ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এ ব্যাপারে সরকারের উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বাদীর প্রধান আইনজীবী আবদুল মন্নান বলেন, দিবালোকের মতো স্পষ্ট-সাংবাদিক নির্যাতনের এই ঘটনার যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় দেশের বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে আদালতের মূল্যবান সময়।

ফৌজদারি কার্যবিধিতে তদন্তের বিধিবিধানের সময়সীমা অতিক্রম করার পরও প্রতিবেদন দাখিল না করায় অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি মামলাটি তদন্তের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন সিনিয়র এই আইনজীবী। এদিকে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যা মামলায় তার বোনের করা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন