শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষকতার মানও বাড়াতে হবে
jugantor
আ.লীগের সেমিনারে বক্তারা
শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষকতার মানও বাড়াতে হবে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে একটা বড় অংশ ঘটনাচক্রে শিক্ষক। হয়তো তারা অন্য কোনো পেশায় যেতে না পেরে এই পেশায় এসেছেন। আমাদের প্রশিক্ষিত শিক্ষক প্রয়োজন। শিক্ষার মান যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি শিক্ষকতার মানও বাড়াতে হবে। এই মুহূর্তে জরুরি হচ্ছে গবেষণানির্ভর হয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে নতুন কলাকৌশলে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনার মধ্যে আনন্দ নিয়ে আসা। পড়াশোনা যাতে চাপে রূপ না নেয়।

শিক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন কমিটি আয়োজিত ‘শিক্ষা : ২০৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বাস্তবিক কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী দিনের রাজনীতি হতে হবে জ্ঞাননির্ভর। সেজন্য ছাত্র রাজনীতিকে জ্ঞান এবং মূল্যবোধের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

পরীক্ষার্থী নয়, চাই শিক্ষার্থী, জীবিকা নয়, জীবনের জন্যই শিক্ষা প্রয়োজন-উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ বাস্তবতা শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থী ও নীতিনির্ধারকদের সবার আগে উপলব্ধি করতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রনেতারা এখন তাদের ক্যাম্পাস, শিক্ষা, শিক্ষার সমস্যা এমনকি কোনো সংগঠন এই দিবসের তাৎপর্য নিয়ে সেমিনারও করে না। এ ধারা চলতে থাকলে ছাত্র সংগঠনগুলোর জৌলুস হারিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জরুরি হচ্ছে গবেষণানির্ভর হয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে নতুন কলাকৌশলে এগিয়ে যাওয়া। মেধাবীদের মেধার মূল্যায়ন করতে হবে, কোনো নেতাদের তদবিরে নয়। শিক্ষার মান যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি শিক্ষকতার মানও বাড়াতে হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিতে অনেক ছাত্রছাত্রী ঝরে গেছে, স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের খুঁজে বের করে আবারও শিক্ষাঙ্গনমুখী করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবেন না, তিনি ভাবেন আগামী প্রজন্ম নিয়ে। আর এটাই হওয়া উচিত। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় আছে বলেই তিনি আজ রাষ্ট্রনায়ক।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ মাসের শেষেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে, হলগুলোতে জীবনযাত্রা কেমন তা দেখতে হবে। হলগুলোতে অছাত্রদের থাকা বন্ধ করতে হবে। এ নিয়ে কে খুশি হলো, কে অখুশি হলো তাতে কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন, দেশের উদ্যমী তরুণদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে সমৃদ্ধ আগামীর জন্য, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার জন্য, শেখ হাসিনার সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের জন্য এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে একটা বড় অংশ ঘটনাচক্রে শিক্ষক। হয়তো অন্য কোনো পেশায় তারা যেতে পারেননি। শিক্ষকতা পেশায় তারা আসতে চাননি। কিন্তু শিক্ষক হয়েছেন। আমরা চাই যিনি শিক্ষকতা পেশায় আসবেন, তার জীবনের লক্ষ্যই হবে শিক্ষকতা করতে চাওয়া। সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেই তিনি আসবেন। তিনি বলেন, ১৯৬২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহিদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুল প্রমুখ। তাদের স্মরণে এ দিনটি ‘শিক্ষা দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় শুধু পরীক্ষা আর সনদের মধ্যেই আমরা আটকে ছিলাম। এখন তাই পরীক্ষায় মূল্যায়নের পদ্ধতি বদলে ফেলছি। আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনার মধ্যে আনন্দ নিয়ে আসা। পড়াশোনা যাতে চাপে রূপ না নেয়।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নুর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব শামসুন্নাহার চাঁপা।

আ.লীগের সেমিনারে বক্তারা

শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষকতার মানও বাড়াতে হবে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে একটা বড় অংশ ঘটনাচক্রে শিক্ষক। হয়তো তারা অন্য কোনো পেশায় যেতে না পেরে এই পেশায় এসেছেন। আমাদের প্রশিক্ষিত শিক্ষক প্রয়োজন। শিক্ষার মান যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি শিক্ষকতার মানও বাড়াতে হবে। এই মুহূর্তে জরুরি হচ্ছে গবেষণানির্ভর হয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে নতুন কলাকৌশলে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনার মধ্যে আনন্দ নিয়ে আসা। পড়াশোনা যাতে চাপে রূপ না নেয়।

শিক্ষা দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন কমিটি আয়োজিত ‘শিক্ষা : ২০৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বাস্তবিক কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী দিনের রাজনীতি হতে হবে জ্ঞাননির্ভর। সেজন্য ছাত্র রাজনীতিকে জ্ঞান এবং মূল্যবোধের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

পরীক্ষার্থী নয়, চাই শিক্ষার্থী, জীবিকা নয়, জীবনের জন্যই শিক্ষা প্রয়োজন-উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ বাস্তবতা শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থী ও নীতিনির্ধারকদের সবার আগে উপলব্ধি করতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রনেতারা এখন তাদের ক্যাম্পাস, শিক্ষা, শিক্ষার সমস্যা এমনকি কোনো সংগঠন এই দিবসের তাৎপর্য নিয়ে সেমিনারও করে না। এ ধারা চলতে থাকলে ছাত্র সংগঠনগুলোর জৌলুস হারিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জরুরি হচ্ছে গবেষণানির্ভর হয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে নতুন কলাকৌশলে এগিয়ে যাওয়া। মেধাবীদের মেধার মূল্যায়ন করতে হবে, কোনো নেতাদের তদবিরে নয়। শিক্ষার মান যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি শিক্ষকতার মানও বাড়াতে হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিতে অনেক ছাত্রছাত্রী ঝরে গেছে, স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের খুঁজে বের করে আবারও শিক্ষাঙ্গনমুখী করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবেন না, তিনি ভাবেন আগামী প্রজন্ম নিয়ে। আর এটাই হওয়া উচিত। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় আছে বলেই তিনি আজ রাষ্ট্রনায়ক।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ মাসের শেষেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে, হলগুলোতে জীবনযাত্রা কেমন তা দেখতে হবে। হলগুলোতে অছাত্রদের থাকা বন্ধ করতে হবে। এ নিয়ে কে খুশি হলো, কে অখুশি হলো তাতে কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন, দেশের উদ্যমী তরুণদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে সমৃদ্ধ আগামীর জন্য, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার জন্য, শেখ হাসিনার সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের জন্য এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে একটা বড় অংশ ঘটনাচক্রে শিক্ষক। হয়তো অন্য কোনো পেশায় তারা যেতে পারেননি। শিক্ষকতা পেশায় তারা আসতে চাননি। কিন্তু শিক্ষক হয়েছেন। আমরা চাই যিনি শিক্ষকতা পেশায় আসবেন, তার জীবনের লক্ষ্যই হবে শিক্ষকতা করতে চাওয়া। সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেই তিনি আসবেন। তিনি বলেন, ১৯৬২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহিদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুল প্রমুখ। তাদের স্মরণে এ দিনটি ‘শিক্ষা দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় শুধু পরীক্ষা আর সনদের মধ্যেই আমরা আটকে ছিলাম। এখন তাই পরীক্ষায় মূল্যায়নের পদ্ধতি বদলে ফেলছি। আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনার মধ্যে আনন্দ নিয়ে আসা। পড়াশোনা যাতে চাপে রূপ না নেয়।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নুর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব শামসুন্নাহার চাঁপা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন