রুল শুনানি শেষ রায় অপেক্ষমাণ
jugantor
বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতন
রুল শুনানি শেষ রায় অপেক্ষমাণ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন আদালত। ওই ঘটনা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী শুনানির বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমে আসা ঘটনার প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। শুনানি নিয়ে গত বছরের ৫ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। রুলে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে রক্ষায় ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অবহেলায় বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও থানাটির অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা ঘটনার ভিডিও সিডি বা অন্য কোনো মাধ্যমে রেখে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওই নারীকে ৩২ দিন আগে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণে পুলিশ প্রশাসনের কোনো অবহেলা আছে কিনা, তা অনুসন্ধান করতে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন আদালত। একই বছরের ২৯ অক্টোবর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। ওই মামলায় ব্যাখ্যাকারী হিসাবে পক্ষভুক্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী অনীক আর হক শুনানি করেন।

আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্বতঃপ্রণোদিত রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। রুল শুনানিতে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলার বিষয়টি এসেছে। হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। যে কোনো দিন রায় দেওয়া হবে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি আকস্মিক নয় বলে দেখা গেছে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ নারকীয় ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে না পারেন। ভিডিও ধারণ ছিল মূলত ভুক্তভোগীকে জিম্মিকরণের একটি জঘন্য ও নৃশংস প্রক্রিয়া। ঘটনা বিশ্লেষণে তদন্ত কমিটি মনে করে, ঘটনার মাস্টারমাইন্ড দেলওয়ার। আড়ালে থেকে তিনি তার অনুগত বাদল, কালামসহ কয়েকজনকে ব্যবহার করেন।

ভুক্তভোগীর স্বামীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের প্রায় সবাই ভুক্তভোগীর স্বামীর পরিচিত (স্বামীর লিখিত ভাষ্যে), ঘটনার পর থেকে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। ঘটনার বিষয়ে সবকিছু জানলেও তিনি কাউকে কিছু জানাননি এবং ঘটনার বিচার দাবি করে কোনো পদক্ষেপ নেননি। ভুক্তভোগীর স্বামীর অবস্থান সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। তাকে আদালতের নির্দেশনায় আইনের আওতায় এনে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা যায় বলে কমিটি যুক্তিযুক্ত মনে করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেগমগঞ্জ থানা-পুলিশের দুজন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ও মফিজুল ইসলাম (ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা) ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। তাদের বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য নয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরীর বিটভিত্তিক কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদারকিতে শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয়। তার বিরুদ্ধেও আদালত কর্তৃক যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বেগমগঞ্জ সার্কেল এএসপি শাহজাহান শেখের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনে পেশাদারি ও দক্ষতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে কমিটি মনে করে। ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানেন না বলে যে দাবি করেন, তা গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত নয়। তার বিষয়েও আদালত কর্তৃক যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতন

রুল শুনানি শেষ রায় অপেক্ষমাণ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন আদালত। ওই ঘটনা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী শুনানির বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমে আসা ঘটনার প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। শুনানি নিয়ে গত বছরের ৫ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। রুলে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে রক্ষায় ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অবহেলায় বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও থানাটির অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা ঘটনার ভিডিও সিডি বা অন্য কোনো মাধ্যমে রেখে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওই নারীকে ৩২ দিন আগে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণে পুলিশ প্রশাসনের কোনো অবহেলা আছে কিনা, তা অনুসন্ধান করতে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন আদালত। একই বছরের ২৯ অক্টোবর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। ওই মামলায় ব্যাখ্যাকারী হিসাবে পক্ষভুক্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী অনীক আর হক শুনানি করেন।

আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্বতঃপ্রণোদিত রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। রুল শুনানিতে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলার বিষয়টি এসেছে। হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। যে কোনো দিন রায় দেওয়া হবে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি আকস্মিক নয় বলে দেখা গেছে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ নারকীয় ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে না পারেন। ভিডিও ধারণ ছিল মূলত ভুক্তভোগীকে জিম্মিকরণের একটি জঘন্য ও নৃশংস প্রক্রিয়া। ঘটনা বিশ্লেষণে তদন্ত কমিটি মনে করে, ঘটনার মাস্টারমাইন্ড দেলওয়ার। আড়ালে থেকে তিনি তার অনুগত বাদল, কালামসহ কয়েকজনকে ব্যবহার করেন।

ভুক্তভোগীর স্বামীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের প্রায় সবাই ভুক্তভোগীর স্বামীর পরিচিত (স্বামীর লিখিত ভাষ্যে), ঘটনার পর থেকে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। ঘটনার বিষয়ে সবকিছু জানলেও তিনি কাউকে কিছু জানাননি এবং ঘটনার বিচার দাবি করে কোনো পদক্ষেপ নেননি। ভুক্তভোগীর স্বামীর অবস্থান সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। তাকে আদালতের নির্দেশনায় আইনের আওতায় এনে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা যায় বলে কমিটি যুক্তিযুক্ত মনে করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেগমগঞ্জ থানা-পুলিশের দুজন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ও মফিজুল ইসলাম (ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা) ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। তাদের বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য নয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরীর বিটভিত্তিক কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদারকিতে শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয়। তার বিরুদ্ধেও আদালত কর্তৃক যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বেগমগঞ্জ সার্কেল এএসপি শাহজাহান শেখের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনে পেশাদারি ও দক্ষতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে কমিটি মনে করে। ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানেন না বলে যে দাবি করেন, তা গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত নয়। তার বিষয়েও আদালত কর্তৃক যৌক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন