মোদিকে ছেড়ে মমতার দলে বাবুল সুপ্রিয়
jugantor
মোদিকে ছেড়ে মমতার দলে বাবুল সুপ্রিয়

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিনা মেঘে বজ্রপাত ভারতীয় রাজনীতির গেরুয়া শিবিরে। ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জির উপনির্বাচনের আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলিউডের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী বাবুল সুপ্রিয়। কলকাতায় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শনিবার মমতার শিবিরে যোগ দিলেন তিনি। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে নয়া দলে যোগদান অনুষ্ঠানে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র সংসদ সদস্য ডেরেক ওব্রায়েন।

পরে সংবাদ সম্মেলনে বাবুল জানান, ‘আসানসোল সংসদীয় আসন থেকে পরপর দুবার বিজেপির টিকিটে জিতেছি। রাজনীতি ছেড়ে দেব বলেও ফের মানুষের সঙ্গে কাজ করব বলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তৃণমূলে যোগ দিলাম। তাই মঙ্গলবার দিল্লি গিয়ে বিজেপি থেকে জেতা সংসদ সদস্য পদে ইস্তফা দেব।’

এখানেই শেষ নয়, এবার ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থীর হয়ে মমতার বিরুদ্ধে যে ২০ তারকা প্রার্থীর প্রচার করার কথা ছিল তার অন্যতম ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। এখন অবশ্য সেই বাবুলই এবার মমতার হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভবানীপুরে প্রচারে নামছেন। সূত্রের খবর, তিন দিন আগে তৃণমূল নেত্রী তথা নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষের ছেড়ে যাওয়া আসনে উপনির্বাচনে রাজ্যসভায় যেতে পারেন বাবুল। অন্য সূত্রের খবর, শান্তিপুর কেন্দ্র উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জিতে মমতার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হতে পারেন এ গায়ক।

যোগগুরু রামদেবের ভাবশিষ্য বাবুল ২০১৪ সালে বর্ধমান জেলার আসানসোল সংসদীয় আসন থেকে বিজেপির টিকিটে প্রথম এমপি হন। সে বছরই তিনি হয়েছিলেন মোদি সরকারের মন্ত্রীও। ২০১৯ সালেও বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হন। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত জুলাই মাসে মোদির মন্ত্রিসভা রদবদলে মন্ত্রিত্ব খুইয়েছিলেন বাবুল। ৩১ জুলাই জানিয়েছিলেন, ছাড়ছেন রাজনীতিও। অবশ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর কলকাতায় বাবুল বলেন, ‘বাংলার মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে সেই সুযোগ দিলেন। মন থেকে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছিলাম। হঠাৎ তৃণমূল থেকে একটা সুযোগ পেলাম। সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। মানুষের কথা ভেবে, বাংলা তথা বাঙালির কথা ভেবেই ফের রাজনীতির মঞ্চে ফিরে এলাম।’ কীভাবে বদলাল চিত্র? বাবুলের কথায়, ‘গত ৪ দিনে সিদ্ধান্ত বদল করেছি। মেয়েকে একটা স্কুলে ভর্তি করা নিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখনই তিনি এই অফার দেন, আমি ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিই।’ ২০১৯ সালে বড় ব্যবধানে জয়ের পরও কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রিত্ব না পাওয়া নিয়েও এদিন উষ্মা প্রকাশ করেন বাবুল। তাহলে কি সেই ক্ষোভ থেকেই দলবদল? চটজলদি জবাব, ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটা ভাববেন না। মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি, তাই মমতাদির দলে এলাম।’

বাবুল যে দিন বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন, সেই ৩১ জুলাই অন্য দলে তিনি যাবেন কিনা, তা নিয়ে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। সেটাও ছিল একটা শনিবার। সেদিন বিকালে বাবুল ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে লিখেছিলেন, ‘অন্য কোনো দলে যাচ্ছি না। তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম, কোথাও নয়।’ বিজেপির তরফে এদিন সর্বভারতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেছেন, ‘তৃণমূলের টোপ বাবুল গিলেছেন। ক্ষমতার মধু খেতে ভালোবাসা মানুষরা যত বিজেপি ছাড়বে তত লাভ।’

মোদিকে ছেড়ে মমতার দলে বাবুল সুপ্রিয়

 কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিনা মেঘে বজ্রপাত ভারতীয় রাজনীতির গেরুয়া শিবিরে। ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জির উপনির্বাচনের আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলিউডের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী বাবুল সুপ্রিয়। কলকাতায় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শনিবার মমতার শিবিরে যোগ দিলেন তিনি। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে নয়া দলে যোগদান অনুষ্ঠানে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র সংসদ সদস্য ডেরেক ওব্রায়েন।

পরে সংবাদ সম্মেলনে বাবুল জানান, ‘আসানসোল সংসদীয় আসন থেকে পরপর দুবার বিজেপির টিকিটে জিতেছি। রাজনীতি ছেড়ে দেব বলেও ফের মানুষের সঙ্গে কাজ করব বলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তৃণমূলে যোগ দিলাম। তাই মঙ্গলবার দিল্লি গিয়ে বিজেপি থেকে জেতা সংসদ সদস্য পদে ইস্তফা দেব।’

এখানেই শেষ নয়, এবার ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থীর হয়ে মমতার বিরুদ্ধে যে ২০ তারকা প্রার্থীর প্রচার করার কথা ছিল তার অন্যতম ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। এখন অবশ্য সেই বাবুলই এবার মমতার হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভবানীপুরে প্রচারে নামছেন। সূত্রের খবর, তিন দিন আগে তৃণমূল নেত্রী তথা নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষের ছেড়ে যাওয়া আসনে উপনির্বাচনে রাজ্যসভায় যেতে পারেন বাবুল। অন্য সূত্রের খবর, শান্তিপুর কেন্দ্র উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জিতে মমতার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হতে পারেন এ গায়ক।

যোগগুরু রামদেবের ভাবশিষ্য বাবুল ২০১৪ সালে বর্ধমান জেলার আসানসোল সংসদীয় আসন থেকে বিজেপির টিকিটে প্রথম এমপি হন। সে বছরই তিনি হয়েছিলেন মোদি সরকারের মন্ত্রীও। ২০১৯ সালেও বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হন। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত জুলাই মাসে মোদির মন্ত্রিসভা রদবদলে মন্ত্রিত্ব খুইয়েছিলেন বাবুল। ৩১ জুলাই জানিয়েছিলেন, ছাড়ছেন রাজনীতিও। অবশ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর কলকাতায় বাবুল বলেন, ‘বাংলার মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে সেই সুযোগ দিলেন। মন থেকে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছিলাম। হঠাৎ তৃণমূল থেকে একটা সুযোগ পেলাম। সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। মানুষের কথা ভেবে, বাংলা তথা বাঙালির কথা ভেবেই ফের রাজনীতির মঞ্চে ফিরে এলাম।’ কীভাবে বদলাল চিত্র? বাবুলের কথায়, ‘গত ৪ দিনে সিদ্ধান্ত বদল করেছি। মেয়েকে একটা স্কুলে ভর্তি করা নিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখনই তিনি এই অফার দেন, আমি ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিই।’ ২০১৯ সালে বড় ব্যবধানে জয়ের পরও কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রিত্ব না পাওয়া নিয়েও এদিন উষ্মা প্রকাশ করেন বাবুল। তাহলে কি সেই ক্ষোভ থেকেই দলবদল? চটজলদি জবাব, ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটা ভাববেন না। মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি, তাই মমতাদির দলে এলাম।’

বাবুল যে দিন বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন, সেই ৩১ জুলাই অন্য দলে তিনি যাবেন কিনা, তা নিয়ে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। সেটাও ছিল একটা শনিবার। সেদিন বিকালে বাবুল ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে লিখেছিলেন, ‘অন্য কোনো দলে যাচ্ছি না। তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম, কোথাও নয়।’ বিজেপির তরফে এদিন সর্বভারতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেছেন, ‘তৃণমূলের টোপ বাবুল গিলেছেন। ক্ষমতার মধু খেতে ভালোবাসা মানুষরা যত বিজেপি ছাড়বে তত লাভ।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন