আসামিকে লাইভে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ তোলপাড়
jugantor
ছাতক থানা
আসামিকে লাইভে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ তোলপাড়

  সিলেট ব্যুরো  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতারের পর লাইভে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে লাইভ শুরু হলে তা ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া লাইভ ভিডিওটি সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়। প্রায় পাঁচ হাজার দর্শক ভিডিওটি দেখেছেন। এতে অনেকে বিস্মিত হন ও কমেন্ট করেন। হত্যা মামলার আসামির জিজ্ঞাসাবাদ কেন লাইভ করা হলো তা নিয়ে বিস্মিত সচেতন মহল।

‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ ফেসবুক পেজের ফয়ছল আহমদের দাবি, তার পেজ থেকে এমন কিছু প্রচার করা হয়নি। ভিডিওতে হত্যা মামলার আসামি আবু সুফিয়ান সোহাগ, ছাতক থানার ওসি নাজিমউদ্দিন, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। ভিডিওটি যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।

আইনজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা জানান, আসামিকে লাইভে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ গর্হিত অপরাধ। এর ফলে তদন্তকাজে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এদিকে, পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি- তারা ভিডিওটি দেখেননি, শুনেননি এবং জানেনও না। তবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত ছিলাম না। ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে।

ঘটনাটি অস্বীকার করে ওসি নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘আমি এগুলো করিনি, অন্য কেউ হয়তো করেছেন।’ ফেসবুক লাইভ প্রচার করা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, গোপনীয়তা ভঙ্গ করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও তথ্য-প্রযুক্তি আইনে গর্হিত অপরাধ। তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশকে আরও সতর্ক থাকা উচিৎ ছিল।

উল্লেখ্য, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে ব্যবসায়ী আখলাকুর রহমান ওরফে আখলাদ (৩৫) খুন হন। গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের মোল্লা আতা গ্রামের জাহির আলীর ছেলে আখলাদ। এ হত্যার ঘটনায় একই ইউনিয়নের গোবিন্দনগর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে আবু সুফিয়ান সোহাগ এবং বিশ্বনাথ উপজেলার দিঘলী-চাকলপাড়া গ্রামের আশরাফুল আলমের ছেলে আলীম উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

ছাতক থানা

আসামিকে লাইভে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ তোলপাড়

 সিলেট ব্যুরো 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতারের পর লাইভে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে লাইভ শুরু হলে তা ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া লাইভ ভিডিওটি সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়। প্রায় পাঁচ হাজার দর্শক ভিডিওটি দেখেছেন। এতে অনেকে বিস্মিত হন ও কমেন্ট করেন। হত্যা মামলার আসামির জিজ্ঞাসাবাদ কেন লাইভ করা হলো তা নিয়ে বিস্মিত সচেতন মহল।

‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ ফেসবুক পেজের ফয়ছল আহমদের দাবি, তার পেজ থেকে এমন কিছু প্রচার করা হয়নি। ভিডিওতে হত্যা মামলার আসামি আবু সুফিয়ান সোহাগ, ছাতক থানার ওসি নাজিমউদ্দিন, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। ভিডিওটি যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।

আইনজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা জানান, আসামিকে লাইভে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ গর্হিত অপরাধ। এর ফলে তদন্তকাজে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এদিকে, পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি- তারা ভিডিওটি দেখেননি, শুনেননি এবং জানেনও না। তবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত ছিলাম না। ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে।

ঘটনাটি অস্বীকার করে ওসি নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘আমি এগুলো করিনি, অন্য কেউ হয়তো করেছেন।’ ফেসবুক লাইভ প্রচার করা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, গোপনীয়তা ভঙ্গ করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও তথ্য-প্রযুক্তি আইনে গর্হিত অপরাধ। তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশকে আরও সতর্ক থাকা উচিৎ ছিল।

উল্লেখ্য, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে ব্যবসায়ী আখলাকুর রহমান ওরফে আখলাদ (৩৫) খুন হন। গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের মোল্লা আতা গ্রামের জাহির আলীর ছেলে আখলাদ। এ হত্যার ঘটনায় একই ইউনিয়নের গোবিন্দনগর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে আবু সুফিয়ান সোহাগ এবং বিশ্বনাথ উপজেলার দিঘলী-চাকলপাড়া গ্রামের আশরাফুল আলমের ছেলে আলীম উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন