নিহত দুজনের দাফন সম্পন্ন মামলা হয়নি
jugantor
জামালপুরে ট্রেনে ডাকাতি
নিহত দুজনের দাফন সম্পন্ন মামলা হয়নি

  জামালপুর প্রতিনিধি  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদে ডাকাতদের হামলায় দুই যাত্রী নিহত এবং আহত একজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডাকাতের হামলায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মিতালী বাজার এলাকার ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে নাহিদ (৪০) এবং জামালপুর পৌরসভার বাগেরহাটা বটতলা এলাকার রিকশাচালক হাফিজুর রহমানের ছেলে সাগর (২৪) মারা যান। এ ছাড়া জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন গুরুতর আহত রুবেল মিয়া (২২)। তিনি জেলার ইসলামপুর উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামের হীরু মিয়ার ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই ট্রেনের যাত্রী ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে তারা ঢাকা থেকে কমিউটার ট্রেনের ছাদে ওঠে জামালপুর আসছিলেন। ট্রেনটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশন ছাড়ার পর ট্রেনের ছাদের যাত্রীদের অনেকেই ডাকাত দলের
কবলে পড়েন। ৪-৫ জনের ডাকাত দলটি নাহিদসহ অনেক যাত্রীর কাছ থেকে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোনসেট লুট করে ট্রেনের ইঞ্জিনের দিকে চলে যায়। এরপর ট্রেনটি রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ রেলস্টেশন ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই যাত্রী ফারুক ও নাহিদসহ বেশ কয়েকজন এক হয়ে ট্রেনের ছাদে ডাকাতদের খুঁজতে যান। তারা ডাকাতদের চিনতে পারলে কিছু বলার আগেই ডাকাতরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে যাত্রী নাহিদ, রুবেল ও সাগর গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রেনের ছাদেই পড়ে থাকেন। রাত ১০টার দিকে ট্রেনটি জামালপুর রেলস্টেশনে পৌঁছলে গুরুতর আহত তিন যাত্রীকে ছাদ থেকে নামিয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহত রুবেল মিয়া যুগান্তরকে বলেন, গফরগাঁও স্টেশনে ট্রেনটি থামলে ৫-৭ জনের একটি ডাকাত দল ছাদে ওঠে। ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় ওই দলটি তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তাদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পথে যেকোনো রেলওয়ে স্টেশনে নেমে যায়।
নিহত নাহিদের স্ত্রী বিপাশা বেগম যুগান্তরকে বলেন, তারা জয়দবপুর থেকে ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনটি ভিড় থাকায় তাকে ও সন্তানকে ট্রেনের ভিতরে তুলে দিয়ে নাহিদ ছাদে চলে যান। মাঝপথে তার স্বামী ফোনে বলেন, ময়মনসিংহ স্টেশনে ট্রেন থামলে নাহিদ নিচে আসবে। পথে তাকে কয়েকবার ফোনে চেষ্টা করে না পেলে তিনি ট্রেনের ভেতরে কান্নাকাটি করেন। পরে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছলে তার স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। নিহত সাগরের বাবা হাফিজুর রহমান জানান, তার ছেলে ঢাকার কমলাপুর থেকে ট্রেনে ওঠার পর ফোনে জানান সে কমিউটার ট্রেনে জামালপুর আসছে। রাতে বাড়িতে না পৌঁছলে সারারাত অপেক্ষার পর সকালে মানুষের কাছে ট্রেনের ডাকাতির ঘটনা শুনে স্টেশনে গিয়ে মর্গে তার ছেলেকে দেখতে পান।
জামালপুর রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ট্রেনযাত্রী রুবেলের ভাষ্য অনুযায়ী- ট্রেনের ছাদে তারা ডাকাত দল বা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃত দুই ব্যক্তির লাশ জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে নিয়ে স্বজনরা দাফন করেন।
ঢাকার রেলওয়ের এসপি সাইফুল্লাহ আল মামুন জামালপুর রেলওয়ে এলাকায় পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত রাতে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় দুজন লোক মারা যান, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কোনো দুষ্কৃতকারীর আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা বিস্তারিত ঘটনা জানতে পারব। তাদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় তার সঙ্গে জেলা পুলিশ ছিলেন।

জামালপুরে ট্রেনে ডাকাতি

নিহত দুজনের দাফন সম্পন্ন মামলা হয়নি

 জামালপুর প্রতিনিধি 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদে ডাকাতদের হামলায় দুই যাত্রী নিহত এবং আহত একজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডাকাতের হামলায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মিতালী বাজার এলাকার ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে নাহিদ (৪০) এবং জামালপুর পৌরসভার বাগেরহাটা বটতলা এলাকার রিকশাচালক হাফিজুর রহমানের ছেলে সাগর (২৪) মারা যান। এ ছাড়া জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন গুরুতর আহত রুবেল মিয়া (২২)। তিনি জেলার ইসলামপুর উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামের হীরু মিয়ার ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই ট্রেনের যাত্রী ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে তারা ঢাকা থেকে কমিউটার ট্রেনের ছাদে ওঠে জামালপুর আসছিলেন। ট্রেনটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশন ছাড়ার পর ট্রেনের ছাদের যাত্রীদের অনেকেই ডাকাত দলের
কবলে পড়েন। ৪-৫ জনের ডাকাত দলটি নাহিদসহ অনেক যাত্রীর কাছ থেকে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোনসেট লুট করে ট্রেনের ইঞ্জিনের দিকে চলে যায়। এরপর ট্রেনটি রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ রেলস্টেশন ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই যাত্রী ফারুক ও নাহিদসহ বেশ কয়েকজন এক হয়ে ট্রেনের ছাদে ডাকাতদের খুঁজতে যান। তারা ডাকাতদের চিনতে পারলে কিছু বলার আগেই ডাকাতরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে যাত্রী নাহিদ, রুবেল ও সাগর গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রেনের ছাদেই পড়ে থাকেন। রাত ১০টার দিকে ট্রেনটি জামালপুর রেলস্টেশনে পৌঁছলে গুরুতর আহত তিন যাত্রীকে ছাদ থেকে নামিয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহত রুবেল মিয়া যুগান্তরকে বলেন, গফরগাঁও স্টেশনে ট্রেনটি থামলে ৫-৭ জনের একটি ডাকাত দল ছাদে ওঠে। ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় ওই দলটি তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তাদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পথে যেকোনো রেলওয়ে স্টেশনে নেমে যায়।
নিহত নাহিদের স্ত্রী বিপাশা বেগম যুগান্তরকে বলেন, তারা জয়দবপুর থেকে ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনটি ভিড় থাকায় তাকে ও সন্তানকে ট্রেনের ভিতরে তুলে দিয়ে নাহিদ ছাদে চলে যান। মাঝপথে তার স্বামী ফোনে বলেন, ময়মনসিংহ স্টেশনে ট্রেন থামলে নাহিদ নিচে আসবে। পথে তাকে কয়েকবার ফোনে চেষ্টা করে না পেলে তিনি ট্রেনের ভেতরে কান্নাকাটি করেন। পরে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছলে তার স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। নিহত সাগরের বাবা হাফিজুর রহমান জানান, তার ছেলে ঢাকার কমলাপুর থেকে ট্রেনে ওঠার পর ফোনে জানান সে কমিউটার ট্রেনে জামালপুর আসছে। রাতে বাড়িতে না পৌঁছলে সারারাত অপেক্ষার পর সকালে মানুষের কাছে ট্রেনের ডাকাতির ঘটনা শুনে স্টেশনে গিয়ে মর্গে তার ছেলেকে দেখতে পান।
জামালপুর রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ট্রেনযাত্রী রুবেলের ভাষ্য অনুযায়ী- ট্রেনের ছাদে তারা ডাকাত দল বা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃত দুই ব্যক্তির লাশ জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে নিয়ে স্বজনরা দাফন করেন।
ঢাকার রেলওয়ের এসপি সাইফুল্লাহ আল মামুন জামালপুর রেলওয়ে এলাকায় পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত রাতে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় দুজন লোক মারা যান, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কোনো দুষ্কৃতকারীর আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা বিস্তারিত ঘটনা জানতে পারব। তাদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় তার সঙ্গে জেলা পুলিশ ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন