কলমানি মার্কেটে জালিয়াতি করলেই শাস্তি
jugantor
খসড়া নীতিমালা
কলমানি মার্কেটে জালিয়াতি করলেই শাস্তি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কলমানি মার্কেটকে প্রভাবিত করতে কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশন, প্রতারণা বা জালিয়াতি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাজারে গুজব ছড়ালে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এ মার্কেট থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পকালীন ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ধারও করতে পারবে। তবে দুর্বল প্রতিষ্ঠান সীমার বেশি ধার করতে পারবে না।

মুদ্রাবাজারের কলমানি মার্কেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসাবে কলমানি মার্কেট পরিচালনার জন্য ‘গাইডলাইন্স ফর অপারেটিং ইলেক্ট্রনিক ডিলিং সিস্টেমস ফর ইন্টারব্যাংক মানি মার্কেট’ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য এটি গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই খসড়া নীতিমালা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকে যেসব প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব রয়েছে কেবল তারাই কলমানি মার্কেটে অংশ নিতে পারে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরই কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি হিসাব রয়েছে। ফলে তারাই এতে অংশ নিতে পারে। বর্তমানে কলমানি মার্কেট থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প মেয়াদে বা একদিনের জন্য ধার করতে পারে। যদিও ধার দেওয়া ও নেওয়া দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে এর মেয়াদ বাড়ানো যায়। নতুন নীতিমালায় স্বল্পমেয়াদি ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ধারও করা যাবে কলমানি মার্কেট থেকে। স্বল্পকালীন এক কর্মদিবসের জন্য অর্থ দেওয়া হবে। ২ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে এটি লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। মেয়াদি ধার ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

বাজারে ঝুঁকি কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। লেনদেনের সব ধরনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়, কলমানি মার্কেট পরিচালনার জন্য সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে থাকবে ব্যবস্থাপনা ও মধ্যবর্তী অফিস, লেনদেন করবে ডিলাররা এবং লেনদেন নিষ্পত্তি করবে ব্যাক অফিস ও চেকার। মধ্যবর্তী অফিস লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করে সুপারভিশন করবে। বাজারে অশোভন বাজার আচরণ, অসদাচরণ, ভুল বোঝাবুঝি এসব বিষয়ে তদারকি করবে। ডিলারদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ডাটা সংরক্ষণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতে হবে। আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখার মতো ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাজারের স্বচ্ছতা ধরে রাখতে সব পক্ষকে নৈতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং সুযোগ বুঝে সুদের হার বাড়িয়ে অনৈতিক ব্যবসা করা যাবে না।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, কলমানি মার্কেটে কোনো ধরনের প্রতারণা করলে, বাজারকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ম্যানিপুলেট করলে, গুজব ছড়িয়ে বাজারকে প্রভাবিত করলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সূত্র জানায়, কলমানিতে ধার দিলে সাধারণত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করে না। কিন্তু বর্তমানে কলমানি মার্কেট থেকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্রাতিরিক্ত ধার নিয়ে সেগুলো পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে কলমানিতেও খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ধার দিতে চাচ্ছে না অনেকে। এতে মুদ্রাবাজারের গভীরতা নষ্ট হচ্ছে। এই বাজারে কেবল বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেনদেন হয়। কোনো জামানতের প্রয়োজন হয় না। কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে এই বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কলমানি মার্কেট পরিচালনায় পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করছে।

খসড়া নীতিমালা

কলমানি মার্কেটে জালিয়াতি করলেই শাস্তি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কলমানি মার্কেটকে প্রভাবিত করতে কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশন, প্রতারণা বা জালিয়াতি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাজারে গুজব ছড়ালে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এ মার্কেট থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পকালীন ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ধারও করতে পারবে। তবে দুর্বল প্রতিষ্ঠান সীমার বেশি ধার করতে পারবে না।

মুদ্রাবাজারের কলমানি মার্কেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসাবে কলমানি মার্কেট পরিচালনার জন্য ‘গাইডলাইন্স ফর অপারেটিং ইলেক্ট্রনিক ডিলিং সিস্টেমস ফর ইন্টারব্যাংক মানি মার্কেট’ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য এটি গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই খসড়া নীতিমালা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকে যেসব প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব রয়েছে কেবল তারাই কলমানি মার্কেটে অংশ নিতে পারে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরই কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি হিসাব রয়েছে। ফলে তারাই এতে অংশ নিতে পারে। বর্তমানে কলমানি মার্কেট থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প মেয়াদে বা একদিনের জন্য ধার করতে পারে। যদিও ধার দেওয়া ও নেওয়া দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে এর মেয়াদ বাড়ানো যায়। নতুন নীতিমালায় স্বল্পমেয়াদি ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ধারও করা যাবে কলমানি মার্কেট থেকে। স্বল্পকালীন এক কর্মদিবসের জন্য অর্থ দেওয়া হবে। ২ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে এটি লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। মেয়াদি ধার ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

বাজারে ঝুঁকি কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। লেনদেনের সব ধরনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়, কলমানি মার্কেট পরিচালনার জন্য সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে থাকবে ব্যবস্থাপনা ও মধ্যবর্তী অফিস, লেনদেন করবে ডিলাররা এবং লেনদেন নিষ্পত্তি করবে ব্যাক অফিস ও চেকার। মধ্যবর্তী অফিস লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করে সুপারভিশন করবে। বাজারে অশোভন বাজার আচরণ, অসদাচরণ, ভুল বোঝাবুঝি এসব বিষয়ে তদারকি করবে। ডিলারদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ডাটা সংরক্ষণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতে হবে। আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখার মতো ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাজারের স্বচ্ছতা ধরে রাখতে সব পক্ষকে নৈতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং সুযোগ বুঝে সুদের হার বাড়িয়ে অনৈতিক ব্যবসা করা যাবে না।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, কলমানি মার্কেটে কোনো ধরনের প্রতারণা করলে, বাজারকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ম্যানিপুলেট করলে, গুজব ছড়িয়ে বাজারকে প্রভাবিত করলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সূত্র জানায়, কলমানিতে ধার দিলে সাধারণত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করে না। কিন্তু বর্তমানে কলমানি মার্কেট থেকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্রাতিরিক্ত ধার নিয়ে সেগুলো পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে কলমানিতেও খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ধার দিতে চাচ্ছে না অনেকে। এতে মুদ্রাবাজারের গভীরতা নষ্ট হচ্ছে। এই বাজারে কেবল বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেনদেন হয়। কোনো জামানতের প্রয়োজন হয় না। কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে এই বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কলমানি মার্কেট পরিচালনায় পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন