নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিন আর নেই
jugantor
নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিন আর নেই

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের প্রখ্যাত নারীবাদী লেখক, প্রশিক্ষক ও অধিকারকর্মী কমলা ভাসিন মারা গেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৩টার দিকে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

দক্ষিণ এশিয়ায় ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ প্রচারণার অন্যতম মুখ ছিলেন কমলা ভাসিন। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিল। অবস্থা খারাপ হলে শুক্রবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ৩টার দিকে কমলা মারা যান বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

কমলা তিন দশক ধরে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জেন্ডার, উন্নয়ন, শান্তি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন

ইস্যু নিয়ে কাজ করেছেন। কমলা নিজের পরিচয় দিতেন ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সমাজবিজ্ঞানী’ হিসাবে। নারীবাদ ও নারী সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি একাধিক বই লিখেছেন।

গ্রামাঞ্চলে বেড়ে ওঠা কমলা খুব সহজেই প্রান্তিক নারীদের সমস্যার কথা বুঝতেন। রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে কমলা চলে গিয়েছিলেন পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। জার্মানির ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট ওরিয়েন্টেশন কেন্দ্রে বেশ কিছুদিন কাজ করে কমলা ভারতে ফিরে আসেন। বাকি জীবনটা তিনি কাটান ভারতের প্রান্তিক নারীদের সমানাধিকারের কথা বলে। বিজ্ঞাপনী পণ্যতে নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধেও সর্বদা মুখ খুলেছেন কমলা।

কমলার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে অনেকেই শোকবার্তা দিয়েছেন। টুইটারে আইনজীবী, অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভুষণ লিখেছেন, ‘কমলা ভাসিন কেবল নারী অধিকারকর্মী ছিলেন না, ছিলেন লোকহিতৈষীও। তিনি জনস্বার্থে অসংখ্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে আছে হিমাচল প্রদেশের জাগোরি, রাজস্থানে স্কুল ফর ডেমোক্রেসি। অনেকেই তাকে মিস করবে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।’ পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত সুনিতা কৃষ্ণন লিখেছেন, ‘নারী আন্দোলনের বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’

সমাজকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটারে লেখেন, ‘কমলার মৃত্যু ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনের জন্য বড় ধাক্কা। যত প্রতিবন্ধকতাই থাকুক, কমলা লড়তেন। তিনি আমাদের হৃদয়ে থাকবেন।’ লেখক রিচা সিং লিখেছেন, ‘কমলা ভাসিন ছিলেন, থাকবেন নারীবাদীদের আশার বাতিঘর হয়ে। তার চিন্তাভাবনা আমাকে অনেকবারই নিজেকে বদলে নিতে সহযোগিতা করেছে। আমরা সব সময়ই তাকে মিস করব, কিন্তু তার বলা শব্দগুলো সর্বত্র, সব সময় মেয়েদের পথ দেখাবে।’

কমলা বিশ্বজুড়ে ছাপ ফেলা ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে এক দশক আগে এই প্রচারণা শুরু হয়েছিল। ২০০২ সালে কমলা ‘সঙ্গত’ নামের একটি ফেমিনিস্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। তিনি জাতিসংঘে কর্মরত থাকলেও পরে নেটওয়ার্কের কাজে বেশি সময় দেওয়ার আগ্রহে চাকরি ছেড়ে দেন। ২০১৭ সালে তিনি ‘লাডলি লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারে’ ভূষিত হয়েছিলেন।

নারী অধিকারকর্মী কমলা ভাসিন আর নেই

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের প্রখ্যাত নারীবাদী লেখক, প্রশিক্ষক ও অধিকারকর্মী কমলা ভাসিন মারা গেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৩টার দিকে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

দক্ষিণ এশিয়ায় ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ প্রচারণার অন্যতম মুখ ছিলেন কমলা ভাসিন। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিল। অবস্থা খারাপ হলে শুক্রবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ৩টার দিকে কমলা মারা যান বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

কমলা তিন দশক ধরে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জেন্ডার, উন্নয়ন, শান্তি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন

ইস্যু নিয়ে কাজ করেছেন। কমলা নিজের পরিচয় দিতেন ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সমাজবিজ্ঞানী’ হিসাবে। নারীবাদ ও নারী সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি একাধিক বই লিখেছেন।

গ্রামাঞ্চলে বেড়ে ওঠা কমলা খুব সহজেই প্রান্তিক নারীদের সমস্যার কথা বুঝতেন। রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে কমলা চলে গিয়েছিলেন পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। জার্মানির ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট ওরিয়েন্টেশন কেন্দ্রে বেশ কিছুদিন কাজ করে কমলা ভারতে ফিরে আসেন। বাকি জীবনটা তিনি কাটান ভারতের প্রান্তিক নারীদের সমানাধিকারের কথা বলে। বিজ্ঞাপনী পণ্যতে নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধেও সর্বদা মুখ খুলেছেন কমলা।

কমলার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে অনেকেই শোকবার্তা দিয়েছেন। টুইটারে আইনজীবী, অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভুষণ লিখেছেন, ‘কমলা ভাসিন কেবল নারী অধিকারকর্মী ছিলেন না, ছিলেন লোকহিতৈষীও। তিনি জনস্বার্থে অসংখ্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে আছে হিমাচল প্রদেশের জাগোরি, রাজস্থানে স্কুল ফর ডেমোক্রেসি। অনেকেই তাকে মিস করবে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।’ পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত সুনিতা কৃষ্ণন লিখেছেন, ‘নারী আন্দোলনের বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’

সমাজকর্মী কবিতা শ্রীবাস্তব টুইটারে লেখেন, ‘কমলার মৃত্যু ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় নারী আন্দোলনের জন্য বড় ধাক্কা। যত প্রতিবন্ধকতাই থাকুক, কমলা লড়তেন। তিনি আমাদের হৃদয়ে থাকবেন।’ লেখক রিচা সিং লিখেছেন, ‘কমলা ভাসিন ছিলেন, থাকবেন নারীবাদীদের আশার বাতিঘর হয়ে। তার চিন্তাভাবনা আমাকে অনেকবারই নিজেকে বদলে নিতে সহযোগিতা করেছে। আমরা সব সময়ই তাকে মিস করব, কিন্তু তার বলা শব্দগুলো সর্বত্র, সব সময় মেয়েদের পথ দেখাবে।’

কমলা বিশ্বজুড়ে ছাপ ফেলা ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে এক দশক আগে এই প্রচারণা শুরু হয়েছিল। ২০০২ সালে কমলা ‘সঙ্গত’ নামের একটি ফেমিনিস্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। তিনি জাতিসংঘে কর্মরত থাকলেও পরে নেটওয়ার্কের কাজে বেশি সময় দেওয়ার আগ্রহে চাকরি ছেড়ে দেন। ২০১৭ সালে তিনি ‘লাডলি লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারে’ ভূষিত হয়েছিলেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন