ই-কমার্সে অর্ডার করে প্রতারিত হয়েছি
jugantor
কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী
ই-কমার্সে অর্ডার করে প্রতারিত হয়েছি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে দুর্নীতি বেড়েছে, অনেকে ঘুস খাচ্ছে। এ পথ থেকে তাদের বের হয়ে আসার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি । রোববার প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বাড়ার সঙ্গে মানুষের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। অর্থনীতির আকার ২০ বছর আগের তুলনায় অনেক বড় হয়েছে। মানুষের

ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। ফলে ইভ্যালির মতো অনেক প্রতারক প্রতিষ্ঠান মানুষের টাকা মেরে দিচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিযোগী কমিশন এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২০ সালের কোরবানির ঈদের আগে একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করি। নিজের কুরবানির গরু কিনে দেওয়ার জন্য তাদের এক লাখ টাকা দিই। কিন্তু তারা আমাকে যে গরুটি দেখিয়েছিল, আমি সেটি পাইনি। আমি নিজেই তখন অর্ডার করে প্রতারিত হয়েছিলাম। তিনি বলেন, একটি জিনিস নতুন করে চালু করলে সেটা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়, তার ভুক্তভোগী আমি নিজেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আমার পরিচিত ছিল। যেহেতু আমাকে অন্য গরু দেবে বলেছে তাই মামলা করিনি। পরে এক লাখ টাকায় আমাকে গরুর সঙ্গে একটি ছাগলও দিয়েছে। যদি আমি শুনতাম টাকাও নেই, গরুও নেই তাহলে মামলা করা যেত।
এ সময় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি সম্পর্কে টিপু মুনশি বলেন, ব্যবসায়ীদের চেয়ে মানুষের প্রতি আমার টান অনেক বেশি। লাখ লাখ কোম্পানির মতোই ইভ্যালি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক (আরজেএসসি) থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করছে। ইভ্যালি প্রচার প্রোপাগান্ডায় কী পরিমাণ খরচ করেছে আপনারা দেখেছেন। তাদের প্রচারণা ব্যয় থেকেই বোঝা যায় তারা কী করতে চেয়েছে। আপনারা শুনে আরও অবাক হবেন ই-অরেঞ্জ তো নিবন্ধনও নেয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা করেছে কেবল ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে। এদের বর্তমান আইনের ৪২০ ধারায় মামলা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তাকে কী লাভ হবে? কয়েকদিন পরে তারা জমিন নিয়ে চলে যাবে। তাই আইন পরিবর্তন করতে হবে।
ই-কমার্সের সমস্যা সমাধানে সবাই মিলে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি আইন পরিবর্তন করে ই-কমার্স খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার। এই তিন-চার কিংবা ১৫-২০টা কোম্পানির জন্য ই-কমার্স খাতকে বিপদে ফেলতে চাই না। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, যুবক ও ডেসটিনির কথা শুনেছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যদি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে, তাহলে ৫০-৬০ শতাংশ মানুষের টাকা পরিশোধ হবে। কিন্তু সেটা আমি চাইলে তো হবে না। আইনমন্ত্রীর সহযোগিতা লাগবে। মন্ত্রীকে বলেছি, তিনি বলেন, এটা আদালতের ব্যাপার। আইনের ঝামেলা মেটাতে আদালতের রায় পেতে হবে।
ইভ্যালিসহ এসব প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে দিলে ভালো হবে না। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইন মন্ত্রণালয়ের সাহায্য দরকার। কারণ বর্তমান আইন পরিবর্তন করতে হবে। সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে মফিজুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালের নভেম্বরে ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। মামলাটি আদালতে চলমান আছে। শিগগিরই রায় হবে। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কমিশনের সদস্য বিএম সালে উদ্দীন, ড. মো. মনজুর কাদির, নাসরিন বেগম, কমিশনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাফরুহ মুরফি, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি শারমিন রিনভি এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ।
অর্ধেক টাকা ফেরত পাবেন ডেসটিনি ও যুবকের গ্রাহকরা : বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডেসটিনি ও যুবকের প্রতারিত গ্রাহকেরা অন্তত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ টাকা ফেরত পেতে পারেন। এ দুই প্রতিষ্ঠানের অনেক সম্পদ রয়েছে। সম্পদগুলোর দামও বেড়েছে অনেক। ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করলে যে টাকা পাওয়া যাবে তা দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা মেটানো যাবে।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গ্রাহকের অন্তত সাত হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে ডেসটিনি ও যুবকের মালিকপক্ষ।

কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী

ই-কমার্সে অর্ডার করে প্রতারিত হয়েছি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে দুর্নীতি বেড়েছে, অনেকে ঘুস খাচ্ছে। এ পথ থেকে তাদের বের হয়ে আসার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি । রোববার প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বাড়ার সঙ্গে মানুষের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। অর্থনীতির আকার ২০ বছর আগের তুলনায় অনেক বড় হয়েছে। মানুষের

ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। ফলে ইভ্যালির মতো অনেক প্রতারক প্রতিষ্ঠান মানুষের টাকা মেরে দিচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিযোগী কমিশন এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২০ সালের কোরবানির ঈদের আগে একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করি। নিজের কুরবানির গরু কিনে দেওয়ার জন্য তাদের এক লাখ টাকা দিই। কিন্তু তারা আমাকে যে গরুটি দেখিয়েছিল, আমি সেটি পাইনি। আমি নিজেই তখন অর্ডার করে প্রতারিত হয়েছিলাম। তিনি বলেন, একটি জিনিস নতুন করে চালু করলে সেটা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়, তার ভুক্তভোগী আমি নিজেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আমার পরিচিত ছিল। যেহেতু আমাকে অন্য গরু দেবে বলেছে তাই মামলা করিনি। পরে এক লাখ টাকায় আমাকে গরুর সঙ্গে একটি ছাগলও দিয়েছে। যদি আমি শুনতাম টাকাও নেই, গরুও নেই তাহলে মামলা করা যেত।
এ সময় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি সম্পর্কে টিপু মুনশি বলেন, ব্যবসায়ীদের চেয়ে মানুষের প্রতি আমার টান অনেক বেশি। লাখ লাখ কোম্পানির মতোই ইভ্যালি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক (আরজেএসসি) থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করছে। ইভ্যালি প্রচার প্রোপাগান্ডায় কী পরিমাণ খরচ করেছে আপনারা দেখেছেন। তাদের প্রচারণা ব্যয় থেকেই বোঝা যায় তারা কী করতে চেয়েছে। আপনারা শুনে আরও অবাক হবেন ই-অরেঞ্জ তো নিবন্ধনও নেয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা করেছে কেবল ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে। এদের বর্তমান আইনের ৪২০ ধারায় মামলা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তাকে কী লাভ হবে? কয়েকদিন পরে তারা জমিন নিয়ে চলে যাবে। তাই আইন পরিবর্তন করতে হবে।
ই-কমার্সের সমস্যা সমাধানে সবাই মিলে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি আইন পরিবর্তন করে ই-কমার্স খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার। এই তিন-চার কিংবা ১৫-২০টা কোম্পানির জন্য ই-কমার্স খাতকে বিপদে ফেলতে চাই না। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, যুবক ও ডেসটিনির কথা শুনেছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যদি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে, তাহলে ৫০-৬০ শতাংশ মানুষের টাকা পরিশোধ হবে। কিন্তু সেটা আমি চাইলে তো হবে না। আইনমন্ত্রীর সহযোগিতা লাগবে। মন্ত্রীকে বলেছি, তিনি বলেন, এটা আদালতের ব্যাপার। আইনের ঝামেলা মেটাতে আদালতের রায় পেতে হবে।
ইভ্যালিসহ এসব প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে দিলে ভালো হবে না। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইন মন্ত্রণালয়ের সাহায্য দরকার। কারণ বর্তমান আইন পরিবর্তন করতে হবে। সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে মফিজুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালের নভেম্বরে ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। মামলাটি আদালতে চলমান আছে। শিগগিরই রায় হবে। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কমিশনের সদস্য বিএম সালে উদ্দীন, ড. মো. মনজুর কাদির, নাসরিন বেগম, কমিশনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাফরুহ মুরফি, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি শারমিন রিনভি এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ।
অর্ধেক টাকা ফেরত পাবেন ডেসটিনি ও যুবকের গ্রাহকরা : বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডেসটিনি ও যুবকের প্রতারিত গ্রাহকেরা অন্তত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ টাকা ফেরত পেতে পারেন। এ দুই প্রতিষ্ঠানের অনেক সম্পদ রয়েছে। সম্পদগুলোর দামও বেড়েছে অনেক। ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করলে যে টাকা পাওয়া যাবে তা দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা মেটানো যাবে।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গ্রাহকের অন্তত সাত হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে ডেসটিনি ও যুবকের মালিকপক্ষ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন