মোটর বাইকে আগুন দিলেন চালক
jugantor
ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষোভ
মোটর বাইকে আগুন দিলেন চালক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বাড্ডায় ট্রাফিক পুলিশের ওপর বিরক্ত হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন চালক শওকত আলম সোহেল। সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড্ডা লিংক রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এদিকে, পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার সারা দেশে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে অ্যাপ-বেইজড ঢাকা রাইডশেয়ারিং ড্রাইভারস ইউনিয়ন (ডিআরডিইউ)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়-রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি মোটরসাইকেল দাউ দাউ করে জ্বলছে। সেটিকে লক্ষ্য করে ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তির হেলমেট ছুড়ে মারতেও দেখা যায়। আশপাশের লোকজন আগুন নেভাতে চাইলে ওই ব্যক্তি তাতেও বাধা দেন। বরং তিনি আরও পেট্রল ছিটিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলটির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ট্রাফিককে চালক সে কথা জানালেও ট্রাফিক পুলিশ আবারও মামলা দিতে শুরু করলে চালক ক্ষুব্ধ হন। মামলার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তিনি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। বাড্ডা থানার এসআই আল ইমরান জানান, বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত এক সার্জেন্ট মোটরসাইকেলটির কাগজপত্র দেখে অসঙ্গতি পান। সার্জেন্ট মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে চালক সোহেল নিজেই তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সোহেল জানান, কেরানীগঞ্জে তার স্যানিটারি জিনিসপত্রের দোকান ছিল। দেড় বছর আগে তিনি সেটি বন্ধ করে দেন। দুই-তিন মাস আগে মোটরসাইকেল কিনে রাইড শেয়ারিং অ্যাপে যাত্রী আনা-নেওয়া শুরু করেন। তবে এ পেশায় তিনি বিরক্ত। গত সপ্তাহে ট্রাফিক পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দেয়। সোমবার পুলিশ আবারও মামলা দিতে চাইলে কষ্ট ও ক্ষোভে তিনি নিজের মোটরসাইকেলেই আগুন দেন।

গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার রবিউল ইসলাম বলেন, অফিস শুরুর সময় গুলশানের লিংক রোডে যানজটের সৃষ্টি হয়। রাস্তার পাশে মোটরসাইকেলগুলো দাঁড় করিয়ে রাখায় অন্য গাড়ির চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। যানজট নিরসনে পুলিশ সার্জেন্টরা উদ্যোগী হন। মোটরসাইকেল চালকদের কাগজপত্র যাচাই করে তারা ব্যবস্থা নেন। তিনি আরও বলেন, ওই সময় বেশ কয়েকজন চালককে মামলা দেওয়া হলেও সোহেলের মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। মামলা দেওয়ার আগেই সোহেল তার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

বাড্ডা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছোট ব্যবসা করতেন সোহেল। করোনা মহামারির কারণে তিনি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। দুই-তিন মাস ধরে তিনি রাইড শেয়ারিং করছেন। সকালে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেওয়ার জন্য তার গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করছিলেন, তখন তিনি মনের দুঃখে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দেন।

আজ সারা দেশে কর্মবিরতি : সোমবার দুপুরে ডিআরডিইউ’র সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ বলেন, পুলিশের হয়রানি সহ্য করতে না পেরে বাড্ডায় একজন চালক তার মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন। এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি আরও বলেন, গাড়ি কোথাও ব্রেক করলেই ট্রাফিক পুলিশ ধরে ফেলে। কিন্তু সরকার আমাদের জায়গা নির্ধারণ করে দিলে আমরা আর যত্রতত্র দাঁড়াব না। ১০টি স্পট দেওয়া হলে সেখানেই আমরা দাঁড়াব। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় আমরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েক দফা প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু কোনো সংস্থা আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। আমরা ষষ্ঠবারের মতো আন্দোলনে যাচ্ছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করব। এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সম্মিলিত রাইডারস অব চট্টগ্রাম (সিআরসি) ও কোথায় যাবেন রাইড শেয়ারিং গ্রুপ (কেআরজিএস)।

ডিআরডিইউ’র ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-অ্যাপসনির্ভর শ্রমিকদের শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি, কর্ম ও সময়ের মূল্য দাবি। সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা, মিথ্যা অজুহাতে কর্মহীন করা থেকে বিরত থাকা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে রাইড শেয়ারিংয়ের যানবাহন দাঁড়ানোর জায়গা নির্ধারণ করা এবং সব ধরনের পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা।

ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষোভ

মোটর বাইকে আগুন দিলেন চালক

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বাড্ডায় ট্রাফিক পুলিশের ওপর বিরক্ত হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন চালক শওকত আলম সোহেল। সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড্ডা লিংক রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এদিকে, পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার সারা দেশে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে অ্যাপ-বেইজড ঢাকা রাইডশেয়ারিং ড্রাইভারস ইউনিয়ন (ডিআরডিইউ)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়-রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি মোটরসাইকেল দাউ দাউ করে জ্বলছে। সেটিকে লক্ষ্য করে ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তির হেলমেট ছুড়ে মারতেও দেখা যায়। আশপাশের লোকজন আগুন নেভাতে চাইলে ওই ব্যক্তি তাতেও বাধা দেন। বরং তিনি আরও পেট্রল ছিটিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলটির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ট্রাফিককে চালক সে কথা জানালেও ট্রাফিক পুলিশ আবারও মামলা দিতে শুরু করলে চালক ক্ষুব্ধ হন। মামলার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তিনি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। বাড্ডা থানার এসআই আল ইমরান জানান, বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত এক সার্জেন্ট মোটরসাইকেলটির কাগজপত্র দেখে অসঙ্গতি পান। সার্জেন্ট মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে চালক সোহেল নিজেই তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সোহেল জানান, কেরানীগঞ্জে তার স্যানিটারি জিনিসপত্রের দোকান ছিল। দেড় বছর আগে তিনি সেটি বন্ধ করে দেন। দুই-তিন মাস আগে মোটরসাইকেল কিনে রাইড শেয়ারিং অ্যাপে যাত্রী আনা-নেওয়া শুরু করেন। তবে এ পেশায় তিনি বিরক্ত। গত সপ্তাহে ট্রাফিক পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দেয়। সোমবার পুলিশ আবারও মামলা দিতে চাইলে কষ্ট ও ক্ষোভে তিনি নিজের মোটরসাইকেলেই আগুন দেন।

গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার রবিউল ইসলাম বলেন, অফিস শুরুর সময় গুলশানের লিংক রোডে যানজটের সৃষ্টি হয়। রাস্তার পাশে মোটরসাইকেলগুলো দাঁড় করিয়ে রাখায় অন্য গাড়ির চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। যানজট নিরসনে পুলিশ সার্জেন্টরা উদ্যোগী হন। মোটরসাইকেল চালকদের কাগজপত্র যাচাই করে তারা ব্যবস্থা নেন। তিনি আরও বলেন, ওই সময় বেশ কয়েকজন চালককে মামলা দেওয়া হলেও সোহেলের মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। মামলা দেওয়ার আগেই সোহেল তার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

বাড্ডা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছোট ব্যবসা করতেন সোহেল। করোনা মহামারির কারণে তিনি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। দুই-তিন মাস ধরে তিনি রাইড শেয়ারিং করছেন। সকালে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেওয়ার জন্য তার গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করছিলেন, তখন তিনি মনের দুঃখে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দেন।

আজ সারা দেশে কর্মবিরতি : সোমবার দুপুরে ডিআরডিইউ’র সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ বলেন, পুলিশের হয়রানি সহ্য করতে না পেরে বাড্ডায় একজন চালক তার মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন। এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি আরও বলেন, গাড়ি কোথাও ব্রেক করলেই ট্রাফিক পুলিশ ধরে ফেলে। কিন্তু সরকার আমাদের জায়গা নির্ধারণ করে দিলে আমরা আর যত্রতত্র দাঁড়াব না। ১০টি স্পট দেওয়া হলে সেখানেই আমরা দাঁড়াব। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় আমরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েক দফা প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু কোনো সংস্থা আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। আমরা ষষ্ঠবারের মতো আন্দোলনে যাচ্ছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করব। এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সম্মিলিত রাইডারস অব চট্টগ্রাম (সিআরসি) ও কোথায় যাবেন রাইড শেয়ারিং গ্রুপ (কেআরজিএস)।

ডিআরডিইউ’র ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-অ্যাপসনির্ভর শ্রমিকদের শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি, কর্ম ও সময়ের মূল্য দাবি। সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা, মিথ্যা অজুহাতে কর্মহীন করা থেকে বিরত থাকা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে রাইড শেয়ারিংয়ের যানবাহন দাঁড়ানোর জায়গা নির্ধারণ করা এবং সব ধরনের পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন