কুমিরের মুখ থেকে বেঁচে ফিরেই বিয়ের পিঁড়িতে!

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

প্রথম দেখায় মনে হবে আর পাঁচজন সাধারণ জুটির মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তারা।

দীর্ঘ ও সুখী এক দাম্পত্য জীবনে প্রবেশের আশায় বিয়ের আসরে দাঁড়িয়ে মন্ত্র পড়ছেন বর-কনে। কিন্তু ভালো করে খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন, কনের ডান হাতের বাহুর নিচের অংশ নেই।

বিয়ের অনুষ্ঠানের মাত্র ৫ দিন আগে জিম্বাবুয়ের যামবেযি নদীর পাড় থেকে একটি কুমির কনে জ্যানেল নোলোভুকে টেনে পানির নিচে নিয়ে গিয়েছিল। উদ্ধার হওয়ার পর মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ফিরে এসেছেন তিনি। খবর বিবিসির।

কুমিরের ভয়াবহ সেই হামলার বিষয়ে ২৫ বছর বয়সী জ্যানেল জানান, জ্যানেল তার তৎকালীন প্রেমিক ও বর্তমানে স্বামী জেমি ফক্সের সঙ্গে যামবেযি নদীর পাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

সেখানে তারা যখন একটি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন। তখন তাদের বলা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে এক কুমির দম্পতির দেখা হবে। কিন্তু তারা আক্রমণ করতে পারে, এমন কোনো হুশিয়ারি তাদের দেয়া হয়নি।

২৭ বছর বয়সী বর জেমি ফক্স জানান, ডিঙ্গিতে তারা এতই নিশ্চিন্তে সময় কাটাচ্ছিলেন যে কুমির আসার কোনো আওয়াজই পাননি।

ডিঙ্গির একদম কাছে আসার পরই জেমি হঠাৎই একটি কুমিরের মাথা পানিতে ভেসে উঠতে দেখেছিলেন। সেটি যে আসলেই কুমির, তা বুঝতে তাদের দু’জনেরই কয়েক সেকেন্ড সময় লেগে যায়।

কিন্তু যতক্ষণে তারা বুঝতে পারেন, ততক্ষণে তাদের ডিঙ্গি উল্টে গেছে। আর জ্যানেলের হাত কামড়ে তাকে পানির কয়েক হাত নিচে নিয়ে গেছে কুমির।

জ্যানেল বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম, আমি মারা যাচ্ছি। আমার রক্তে চারপাশের পানি লাল হয়ে যায়। কিন্তু ভাবলাম মরার আগে আমাকে লড়াই করতে হবে। এরপর পর্যটন গাইড এসে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আমি শুধু টিকে থাকার চেষ্টা করেছি। পরে উদ্ধার করে যখন আমাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল, আমি তখনই বুঝেছিলাম, হাতটা গেছে! কিন্তু অন্যরা কনুইয়ের নিচ থেকে ঝুলে থাকা হাতটি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

তিনি জানান, তার বিয়ের জন্য নির্ধারিত দিন ধার্য করা হয়েছিল মে মাসের ৫ তারিখ। কিন্তু অপারেশনের পর চিকিৎসকরা জানান, কত দ্রুত জখম সারে তার ওপর নির্ভর করবে কবে ছাড়া পাবেন জ্যানেল। জ্যানেল বলেন, তবে অপারেশনের দু-এক দিন পরই একজন চিকিৎসক জানান, আমরা যদি হাসপাতালেই বিয়ে করতে চাই, তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা আয়োজন করবে। এরপর সেখানেই আয়োজন হয় বিয়ের অনুষ্ঠান।