নিঃস্ব হওয়ার পথে অনেক ব্যবসায়ী
jugantor
মমতাজ জাফর-ইয়াসির সামসির প্রতারণা
নিঃস্ব হওয়ার পথে অনেক ব্যবসায়ী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লালবাগে কথিত ব্যবসায়ী আলহাজ মমতাজ জাফর ও তার ভাই ইয়াসির সামসির প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকের পথে বসার উপক্রম। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক দানা ও পলিথিনের কাঁচামাল কিনে টাকা না দিয়ে চেক দিয়ে অভিনব কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন তারা।

এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবসায়ী আদালতে মামলা করেছেন। এমকাবা লিমিটেডের এমন এক মামলায় বুধবার মমতাজ জাফরের জামিন হলেও আদালত তার ভাই ইয়াসির সামসির জামিন বাতিল করে ওয়ারেন্ট জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, পুরান ঢাকার ১৫০ লালবাগ রোডের সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সের মালিক আলহাজ মমতাজ জাফর নানা কৌশলে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। প্লাস্টিকের দানার ব্যবসার আড়ালে ব্যবসায়ীদের ঠকানোই যেন তার পেশায় পরিণত হয়েছে। মমতাজ জাফর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক দানা এবং কেমিক্যালসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে নগদ টাকা না দিয়ে চেক দেন।

আর ব্যবসায়ীরা সেই চেক ব্যাংকে জমা দিলেই তা ডিজঅনার হয়। পরে টাকা চাইতে গেলে পালটা মমতাজ জাফর ও তার লোকজন ওই ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে বিদায় করে দেন। এভাবেই মমতাজ জাফর, তার ভাই ইয়াসির সামসি, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোলাম নবী, স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফিজ ও তার বাবা তৌসিফ সামসীর সহযোগিতায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মমতাজ জাফর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কাঁচামাল নিয়ে টাকা না দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন। আগে পলিথিনের ব্যবসা করলেও এখন প্রতারণাই তার একমাত্র ব্যবসা। পুরান ঢাকার শাহীনূর রহমান, মোকলেস, শাহিদুর রহমান, রাহাত খান, হুমায়ুনসহ বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মমতাজ জাফরের প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছেন। তাদের অভিযোগ-জাফরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ অদৃশ্য কারণে অভিযোগ নেয়নি।

পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর প্রতারণার শিকার এমকাবা লিমিটেড এবং বাচ্চু এন্টারপ্রাইজ মমতাজ জাফর ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে।

মকাবা লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শাহীদুর রহমান আনন্দের ২০১৮ সালের একটি মামলায় আদালত বুধবার মমতাজ জাফরকে জামিন দিয়েছেন। তবে তার ভাই ইয়াসির সামসি হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তার (ইয়াসিরের) বিরুদ্ধে যে কোনো সময় ওয়ারেন্ট ইস্যু হবে। এমকাবা লিমিটেডের মামলায় ১ নম্বর আসামি মমতাজ জাফর এবং দুই নম্বর আসামি তার ভাই ইয়াসির সামসি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মমতাজ জাফর ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ৬ জুন পর্যন্ত এমকাবা লিমিটেডের থেকে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার ডিওপি কেমিক্যাল বাকিতে ক্রয় করেন। কিন্তু ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় মমতাজ জাফর এমকাবার পণ্যের বকেয়া টাকা আংশিক পরিশোধের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দেন।

এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেডের চেক নম্বর সিএসিডিএ-০১৯২৩৩১, চলতি হিসাব নং-০১১১১০০০০২০২৩৬। চেকটি ইসলামী ব্যাংক গুলশান শাখায় নগদায়নের জন্য জমা দিলে ২০১৮ সালের ১ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিল উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেওয়া হয়। এমকাবা লিমিটেড ওই চেকের টাকা এবং অন্যান্য মালামালসহ ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনার প্রেক্ষিতে টাকা পরিশোধের জন্য ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোর্শেদুজ্জামানের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশ ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর পান মমতাজ জাফর। এরপর ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের মাধ্যমে এর জবাব দেন। ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে স্বীকার করেন এবং লিগ্যাল নোটিশের সত্যতা সঠিক বলে জবাবে উল্লেখ করেন। সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সের মালিক মমতাজ জাফর সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দেবেন মর্মে ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানের প্যাডে একটি অঙ্গীকারনামা দেন।

২০১৮ সালের ১ নভেম্বর লিগ্যাল নোটিশের জবাবের প্রেক্ষিতে আসামিদের প্রতিশ্রুতিমতে ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর বিকালে এমকাবার প্রতিনিধি শাহিদুর রহমান আনন্দ ও আরও দুজন ১৫০ লালবাগ রোডে সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সে গেলে মমতাজ জাফর ও তার ভাই ইয়াসির টাকা না দিয়ে মামলার বাদী ও তার সঙ্গীদের খুন, গুম ও অপহরণের হুমকি দেন। এরপর বাদী আদালতে ৪০৬/৪২০/৫০৬/১০৯ ধারায় মামলা করেন।

মমতাজ জাফর-ইয়াসির সামসির প্রতারণা

নিঃস্ব হওয়ার পথে অনেক ব্যবসায়ী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লালবাগে কথিত ব্যবসায়ী আলহাজ মমতাজ জাফর ও তার ভাই ইয়াসির সামসির প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকের পথে বসার উপক্রম। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক দানা ও পলিথিনের কাঁচামাল কিনে টাকা না দিয়ে চেক দিয়ে অভিনব কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন তারা।

এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবসায়ী আদালতে মামলা করেছেন। এমকাবা লিমিটেডের এমন এক মামলায় বুধবার মমতাজ জাফরের জামিন হলেও আদালত তার ভাই ইয়াসির সামসির জামিন বাতিল করে ওয়ারেন্ট জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, পুরান ঢাকার ১৫০ লালবাগ রোডের সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সের মালিক আলহাজ মমতাজ জাফর নানা কৌশলে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। প্লাস্টিকের দানার ব্যবসার আড়ালে ব্যবসায়ীদের ঠকানোই যেন তার পেশায় পরিণত হয়েছে। মমতাজ জাফর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক দানা এবং কেমিক্যালসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে নগদ টাকা না দিয়ে চেক দেন।

আর ব্যবসায়ীরা সেই চেক ব্যাংকে জমা দিলেই তা ডিজঅনার হয়। পরে টাকা চাইতে গেলে পালটা মমতাজ জাফর ও তার লোকজন ওই ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে বিদায় করে দেন। এভাবেই মমতাজ জাফর, তার ভাই ইয়াসির সামসি, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোলাম নবী, স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফিজ ও তার বাবা তৌসিফ সামসীর সহযোগিতায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মমতাজ জাফর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কাঁচামাল নিয়ে টাকা না দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন। আগে পলিথিনের ব্যবসা করলেও এখন প্রতারণাই তার একমাত্র ব্যবসা। পুরান ঢাকার শাহীনূর রহমান, মোকলেস, শাহিদুর রহমান, রাহাত খান, হুমায়ুনসহ বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মমতাজ জাফরের প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছেন। তাদের অভিযোগ-জাফরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ অদৃশ্য কারণে অভিযোগ নেয়নি।

পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর প্রতারণার শিকার এমকাবা লিমিটেড এবং বাচ্চু এন্টারপ্রাইজ মমতাজ জাফর ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে।

মকাবা লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শাহীদুর রহমান আনন্দের ২০১৮ সালের একটি মামলায় আদালত বুধবার মমতাজ জাফরকে জামিন দিয়েছেন। তবে তার ভাই ইয়াসির সামসি হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তার (ইয়াসিরের) বিরুদ্ধে যে কোনো সময় ওয়ারেন্ট ইস্যু হবে। এমকাবা লিমিটেডের মামলায় ১ নম্বর আসামি মমতাজ জাফর এবং দুই নম্বর আসামি তার ভাই ইয়াসির সামসি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মমতাজ জাফর ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ৬ জুন পর্যন্ত এমকাবা লিমিটেডের থেকে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার ডিওপি কেমিক্যাল বাকিতে ক্রয় করেন। কিন্তু ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় মমতাজ জাফর এমকাবার পণ্যের বকেয়া টাকা আংশিক পরিশোধের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দেন।

এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেডের চেক নম্বর সিএসিডিএ-০১৯২৩৩১, চলতি হিসাব নং-০১১১১০০০০২০২৩৬। চেকটি ইসলামী ব্যাংক গুলশান শাখায় নগদায়নের জন্য জমা দিলে ২০১৮ সালের ১ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিল উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেওয়া হয়। এমকাবা লিমিটেড ওই চেকের টাকা এবং অন্যান্য মালামালসহ ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনার প্রেক্ষিতে টাকা পরিশোধের জন্য ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোর্শেদুজ্জামানের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশ ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর পান মমতাজ জাফর। এরপর ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের মাধ্যমে এর জবাব দেন। ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে স্বীকার করেন এবং লিগ্যাল নোটিশের সত্যতা সঠিক বলে জবাবে উল্লেখ করেন। সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সের মালিক মমতাজ জাফর সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দেবেন মর্মে ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানের প্যাডে একটি অঙ্গীকারনামা দেন।

২০১৮ সালের ১ নভেম্বর লিগ্যাল নোটিশের জবাবের প্রেক্ষিতে আসামিদের প্রতিশ্রুতিমতে ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর বিকালে এমকাবার প্রতিনিধি শাহিদুর রহমান আনন্দ ও আরও দুজন ১৫০ লালবাগ রোডে সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সে গেলে মমতাজ জাফর ও তার ভাই ইয়াসির টাকা না দিয়ে মামলার বাদী ও তার সঙ্গীদের খুন, গুম ও অপহরণের হুমকি দেন। এরপর বাদী আদালতে ৪০৬/৪২০/৫০৬/১০৯ ধারায় মামলা করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন