কমিটি বাতিল দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি
jugantor
সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ
কমিটি বাতিল দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি
বাসায় হামলা, ভাঙচুর, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ * কোটি টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার অভিযোগ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে

  সিলেট ব্যুরো  

১৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি বাতিলের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন। প্রায় ৪ বছর পর মঙ্গলবার জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

জেলায় কমিটিতে নতুন সভাপতি হয়েছেন নাজমুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রাহেল সিরাজ। অপরদিকে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন কিশোয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নাঈম হাসান।

দুই কমিটি ঘোষণার পরই পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার বিকালেই কমিটি বাতিলের দাবিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিতরা। নবগঠিত জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বাসায় পদবঞ্চিতরা হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তার ভাই গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রুমেল সিরাজ। বি

ক্ষোভকারীরা অর্থের বিনিময়ে কমিটি প্রদানের অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করেন বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে অছাত্রদের দিয়ে কমিটি দিয়েছেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সম্প্রতি দেশে-বিদেশে সমালোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ধর্ষণ মামলার আসামিদের গডফাদার, বিভিন্ন চেক অবমূল্যায়ন (ডিজঅনার) মামলার আসামি, বিশেষ করে ফ্রিডম পার্টির নেতার নাতিকে নিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যা দেখে সিলেটের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লজ্জিত, চরম হতাশ এবং বিব্রত। ঘোষিত এ কমিটি আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছাড়াই ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সামাদ বলেন, সিলেট ছাত্রলীগের অভিভাবক সংগঠন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অবহিত না করেই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই অর্থের বিনিময়ে অছাত্র, অপরাধের গডফাদার, বিভিন্ন চেক অবমূল্যায়ন (ডিজঅনার) মামলার আসামি, বিশেষ করে ফ্রিডম পার্টির নেতার নাতিকে নিয়ে ঘোষিত জেলা ও মহানগর কমিটি মেনে নেব না। এসময় তিনি ছাত্রলীগের নবগঠিত জেলা ও মহানগর ইউনিটের কমিটি বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে। প্রকৃত ত্যাগী ও গ্রাহণযোগ্য ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নতুন করে গঠন করতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আলা উদ্দিন পারভেজ, সাইফুর রহমান, সায়েদ আহমদ, খালেদুর রহমান, আসরাফুল ইসলাম বাপ্পি, নাঈম রশিদ চৌধুরী, দিপংকর টিপু, তুফায়েল ইসলাম সানি, সৌরভ জায়গীরদার, আসফাক আহমদ মাসুদ, মুহিবুর রহমান, ইমন ইবনে সমরাজ, সৌরভ সাওয়ান এবং শ্রীমন রায়।

মঙ্গলবার জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পাশাপাশি সিলেটের ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়। তারা সবাই জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদ পাওয়ারা হলেন-বিপ্লব কান্তি দাস, কনক পাল অরূপ, হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, সঞ্জয় পাশী জয়, জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান ও মুহিবুর রহমান মুহিব। নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিকালেই দুজন (জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান ও মুহিবুর রহমান মুহিব) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যরা যে কোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

কমিটি গঠন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যরে মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ

কমিটি বাতিল দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি

বাসায় হামলা, ভাঙচুর, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ * কোটি টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার অভিযোগ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে
 সিলেট ব্যুরো 
১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি বাতিলের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন। প্রায় ৪ বছর পর মঙ্গলবার জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

জেলায় কমিটিতে নতুন সভাপতি হয়েছেন নাজমুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রাহেল সিরাজ। অপরদিকে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন কিশোয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নাঈম হাসান।

দুই কমিটি ঘোষণার পরই পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার বিকালেই কমিটি বাতিলের দাবিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিতরা। নবগঠিত জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বাসায় পদবঞ্চিতরা হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তার ভাই গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রুমেল সিরাজ। বি

ক্ষোভকারীরা অর্থের বিনিময়ে কমিটি প্রদানের অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করেন বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে অছাত্রদের দিয়ে কমিটি দিয়েছেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সম্প্রতি দেশে-বিদেশে সমালোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ধর্ষণ মামলার আসামিদের গডফাদার, বিভিন্ন চেক অবমূল্যায়ন (ডিজঅনার) মামলার আসামি, বিশেষ করে ফ্রিডম পার্টির নেতার নাতিকে নিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যা দেখে সিলেটের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লজ্জিত, চরম হতাশ এবং বিব্রত। ঘোষিত এ কমিটি আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছাড়াই ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সামাদ বলেন, সিলেট ছাত্রলীগের অভিভাবক সংগঠন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অবহিত না করেই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই অর্থের বিনিময়ে অছাত্র, অপরাধের গডফাদার, বিভিন্ন চেক অবমূল্যায়ন (ডিজঅনার) মামলার আসামি, বিশেষ করে ফ্রিডম পার্টির নেতার নাতিকে নিয়ে ঘোষিত জেলা ও মহানগর কমিটি মেনে নেব না। এসময় তিনি ছাত্রলীগের নবগঠিত জেলা ও মহানগর ইউনিটের কমিটি বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে। প্রকৃত ত্যাগী ও গ্রাহণযোগ্য ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নতুন করে গঠন করতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আলা উদ্দিন পারভেজ, সাইফুর রহমান, সায়েদ আহমদ, খালেদুর রহমান, আসরাফুল ইসলাম বাপ্পি, নাঈম রশিদ চৌধুরী, দিপংকর টিপু, তুফায়েল ইসলাম সানি, সৌরভ জায়গীরদার, আসফাক আহমদ মাসুদ, মুহিবুর রহমান, ইমন ইবনে সমরাজ, সৌরভ সাওয়ান এবং শ্রীমন রায়।

মঙ্গলবার জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পাশাপাশি সিলেটের ৬ ছাত্রলীগ নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়। তারা সবাই জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদ পাওয়ারা হলেন-বিপ্লব কান্তি দাস, কনক পাল অরূপ, হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, সঞ্জয় পাশী জয়, জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান ও মুহিবুর রহমান মুহিব। নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিকালেই দুজন (জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান ও মুহিবুর রহমান মুহিব) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যরা যে কোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

কমিটি গঠন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যরে মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন