পাঁচ বছরে ভর্তুকি সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা
jugantor
সহায়তা ছাড়া অচল ১৬ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান
পাঁচ বছরে ভর্তুকি সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা
ছয় প্রতিষ্ঠানেই লোকসান ১৯৯৫ কোটি টাকা

  মিজান চৌধুরী  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভর্তুকি ছাড়া চলতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ১৬ প্রতিষ্ঠান। বিগত পাঁচ অর্থবছরে (২০১৬-২১) এসব প্রতিষ্ঠানে ৬ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ভর্তুকি হিসাবে।

শুধু গত এক বছরে দেওয়া হয় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১১টি লাভজনক প্রতিষ্ঠানও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ভর্তুকির টাকা নিচ্ছে।

এতকিছুর পরও লাভের মুখ দেখতে পারেনি বাকি ৫টি করপোরেশন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত ৪৮টি করপোরেশন ও প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা কমেছে ২২১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু ৬টি করপোরেশনের লোকসান হয়েছে ১৯৯৫ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো চলমান লোকসান দিচ্ছে। এটা পূরণ করতে ভর্তুকি ও অনুদান দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটা চলে আসছে। এক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে না পারলে এভাবে চলতেই থাকবে। তিনি বলেন, এ টাকা যদি লোকসানি সংস্থাগুলোর পেছনে ব্যয় করা না হতো তাহলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে আরও বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয় সম্ভব হতো।

সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সঙ্গে যুক্ত এমন কিছু পণ্য উৎপাদন, বিতরণ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি দেওয়াকে সমর্থন করা যায়। যেমন পানি ও বিদ্যুৎ খাত। এসব পণ্য প্রতিটি মানুষ ব্যবহার করছে। কিন্তু ভর্তুকির টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন নেবেন, পরিচালনা ব্যয় মেটানো হবে, এসব ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করা উচিত। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে ঠিক লাভজনক হয়ে উঠবে। তবে এগুলো বন্ধ করতে গেলে রাজনৈতিক একটি চাপ থাকে। যে কারণে অনেক সময় সরকার চাইলেও বন্ধ করতে পারে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলোর লোকসান হয়েছে ১৯৯৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৯৭২ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন চিনি উৎপাদন করে লোকসান দিচ্ছে বিএসএফআইসি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কারণে অনেক মিলে উৎপাদন বন্ধ। প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতির সন্ধানে সরকারের নিরীক্ষা বিভাগ কাজ করছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনের লোকসানের দিক থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে আছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন (বিসিআইসি)। যার লোকসান ৬৭৬ কোটি টাকা। তৃতীয় ধাপে আছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। এর লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৮০ কোটি টাকা। বিজেএমসির অনেক মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রতিষ্ঠানে গত অর্থবছরও ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৪০ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের লোকসান হয়েছে ১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সূত্রমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৬টি রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ১৪৬১ কোটি টাকার ভর্তুকি দিয়েছে। এরমধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি নেওয়ার পরও গত অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৮১ কোটি টাকা। করোনায় টানা লকডাউন থাকায় নৌপথে যাত্রী পরিবহণ কমছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওপর। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরে লোকসান দিয়েছে ৮১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিএসসিআইসি) ভর্তুকি হিসাবে একই সময়ে দেওয়া হয়েছে ১৯৭ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠানও লোকসান করেছে ১১ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডে (বিএসবি) ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠান গত বছর লাভজনক ছিল।

সূত্র জানা গেছে, লাভজনক থাকা অবস্থায় আরও যেসব প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি নিচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এ প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), খুলনা ও রাজশাহী ওয়াসা, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বিএসআরটিআই), বিএসএমআরএন, সিবিডিএ ও বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)।

এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৬টি করপোরেশনকে ভর্তুকি বাবদ দেওয়া হয়েছে ১৪৯৫ কোটি টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গেছে ১৩৬২ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৭-১৮ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যথাক্রমে ভর্তুকি হিসাবে ১২৬১ কোটি টাকা ও ১১০৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৪৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি হিসাব করেছে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর। সেখানে দেখা গেছে সার্বিক নিট মুনাফা দুই হাজার ২১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা কমেছে। অর্থবছরে (২০১৯-২০) লাভ-লোকসান মিলিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৭১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরের মুনাফা হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা।

সহায়তা ছাড়া অচল ১৬ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান

পাঁচ বছরে ভর্তুকি সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা

ছয় প্রতিষ্ঠানেই লোকসান ১৯৯৫ কোটি টাকা
 মিজান চৌধুরী 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভর্তুকি ছাড়া চলতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ১৬ প্রতিষ্ঠান। বিগত পাঁচ অর্থবছরে (২০১৬-২১) এসব প্রতিষ্ঠানে ৬ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ভর্তুকি হিসাবে।

শুধু গত এক বছরে দেওয়া হয় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১১টি লাভজনক প্রতিষ্ঠানও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ভর্তুকির টাকা নিচ্ছে।

এতকিছুর পরও লাভের মুখ দেখতে পারেনি বাকি ৫টি করপোরেশন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত ৪৮টি করপোরেশন ও প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা কমেছে ২২১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু ৬টি করপোরেশনের লোকসান হয়েছে ১৯৯৫ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো চলমান লোকসান দিচ্ছে। এটা পূরণ করতে ভর্তুকি ও অনুদান দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটা চলে আসছে। এক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে না পারলে এভাবে চলতেই থাকবে। তিনি বলেন, এ টাকা যদি লোকসানি সংস্থাগুলোর পেছনে ব্যয় করা না হতো তাহলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে আরও বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয় সম্ভব হতো।

সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সঙ্গে যুক্ত এমন কিছু পণ্য উৎপাদন, বিতরণ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি দেওয়াকে সমর্থন করা যায়। যেমন পানি ও বিদ্যুৎ খাত। এসব পণ্য প্রতিটি মানুষ ব্যবহার করছে। কিন্তু ভর্তুকির টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন নেবেন, পরিচালনা ব্যয় মেটানো হবে, এসব ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করা উচিত। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে ঠিক লাভজনক হয়ে উঠবে। তবে এগুলো বন্ধ করতে গেলে রাজনৈতিক একটি চাপ থাকে। যে কারণে অনেক সময় সরকার চাইলেও বন্ধ করতে পারে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলোর লোকসান হয়েছে ১৯৯৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৯৭২ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন চিনি উৎপাদন করে লোকসান দিচ্ছে বিএসএফআইসি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কারণে অনেক মিলে উৎপাদন বন্ধ। প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতির সন্ধানে সরকারের নিরীক্ষা বিভাগ কাজ করছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনের লোকসানের দিক থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে আছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন (বিসিআইসি)। যার লোকসান ৬৭৬ কোটি টাকা। তৃতীয় ধাপে আছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। এর লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৮০ কোটি টাকা। বিজেএমসির অনেক মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রতিষ্ঠানে গত অর্থবছরও ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৪০ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের লোকসান হয়েছে ১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সূত্রমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৬টি রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ১৪৬১ কোটি টাকার ভর্তুকি দিয়েছে। এরমধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি নেওয়ার পরও গত অর্থবছরে লোকসান দিয়েছে ৮১ কোটি টাকা। করোনায় টানা লকডাউন থাকায় নৌপথে যাত্রী পরিবহণ কমছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওপর। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরে লোকসান দিয়েছে ৮১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিএসসিআইসি) ভর্তুকি হিসাবে একই সময়ে দেওয়া হয়েছে ১৯৭ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠানও লোকসান করেছে ১১ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডে (বিএসবি) ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। এ প্রতিষ্ঠান গত বছর লাভজনক ছিল।

সূত্র জানা গেছে, লাভজনক থাকা অবস্থায় আরও যেসব প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি নিচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এ প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), খুলনা ও রাজশাহী ওয়াসা, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বিএসআরটিআই), বিএসএমআরএন, সিবিডিএ ও বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)।

এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৬টি করপোরেশনকে ভর্তুকি বাবদ দেওয়া হয়েছে ১৪৯৫ কোটি টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গেছে ১৩৬২ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৭-১৮ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যথাক্রমে ভর্তুকি হিসাবে ১২৬১ কোটি টাকা ও ১১০৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৪৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি হিসাব করেছে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর। সেখানে দেখা গেছে সার্বিক নিট মুনাফা দুই হাজার ২১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা কমেছে। অর্থবছরে (২০১৯-২০) লাভ-লোকসান মিলিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৭১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরের মুনাফা হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন