২৪-৩০ ডিসেম্বর চলবে মানুষ গণনা
jugantor
কেটে যাচ্ছে জনশুমারি প্রকল্পের জটিলতা
২৪-৩০ ডিসেম্বর চলবে মানুষ গণনা
শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট ২৩ ডিসেম্বর রাত ১২টা * প্রস্তাব যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে নতুন দিনক্ষণ নির্ধারণ হতে যাচ্ছে জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের। আগামী ২৩ ডিসেম্বরকে শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ২৪-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব মানুষকেই আনা হবে গণনার আওতায়। একে বলা হচ্ছে শুমারি সপ্তাহ। এবার পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এর আগে গত ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর এ কার্যক্রম চলার কথা ছিল।

কিন্তু করোনা মহামারি এবং ট্যাব কেনায় দেরি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। নতুন তারিখটি নির্ধারণ করতে প্রস্তাব পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এলেই এটি ঘোষণা দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জনশুমারি। ফলে ব্যয় কিছুটা কম হবে। তবে এই পদ্ধতির জন্য ট্যাব কেনায় কিছুটা জটিলতার সৃৃষ্টি হয়। ফলে একদিকে করোনা মহামারি অন্যদিকে এই জটিলতায় শুমারির মূল কাজ পিছিয়ে যায়। তবে এখন ট্যাব কেনার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হয়েছে। আশা করছি নতুন সময়সূচি নির্ধারণ হলে এর মধ্যেই গণনার কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট এই প্রকল্পের আওতায় ‘ট্যাবলেট ফর ক্যাপি (কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং) ফর মেইন সেন্সাস’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে।

মাঠপর্যায়ে জনশুমারির তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রকল্পটির আওতায় তিন লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট কেনার জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ২টি দরপত্র জমা পড়ে। এ ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া ক্রুটির কথা বলে প্রস্তাবটি ফেরত দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, জনশুমারি গৃহগণনা (সাবেক আদম শুমারি) প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রতি ১০ বছর পরপর দেশের প্রতিটি মানুষকে গণনার আওতায় আনা হয়। ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১’ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর।

এটির মোট ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। প্রকল্পটির শুরু থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ৬ দশমিক ২২ শতাংশ আর বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ২২ শতাংশ। এই পর্যায়ে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনীতে মোট ২১ খাতের ব্যয়ের মধ্যে ১৭টির ব্যয় যুক্তিসঙ্গতভাবে কমানো হয়।

বাকি তিনটি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পায়। একটি খাতে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৫৭৫ কোটি টাকায়। এবারের জনশুমারি ও গৃহগণনা চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এগুলো হলো পর্যায়-১, এর আওতায় শুমারির ব্লক এলাকা প্রণয়ন, জিআইএস পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশের সব এলাকা ম্যাপ ও জিও কোডের আওতায় স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায় ২-এর আওতায় শুমারি পরিচালনা দেশের সব খানা (পরিবার), ব্যক্তি এবং আবাসন ইউনিট গণনা করা হচ্ছে।

পর্যায়-৩ এর আওতায় শুমারি পরবর্তী জরিপ পরিচালনা শুমারির গুণগত মান পরিমাপ করা। পর্যায়-৪ এর আওতায় আর্থ-সামাজিক ও জনমিতিক জরিপ পরিচালনা খানা ও জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা।

কেটে যাচ্ছে জনশুমারি প্রকল্পের জটিলতা

২৪-৩০ ডিসেম্বর চলবে মানুষ গণনা

শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট ২৩ ডিসেম্বর রাত ১২টা * প্রস্তাব যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে নতুন দিনক্ষণ নির্ধারণ হতে যাচ্ছে জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের। আগামী ২৩ ডিসেম্বরকে শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ২৪-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব মানুষকেই আনা হবে গণনার আওতায়। একে বলা হচ্ছে শুমারি সপ্তাহ। এবার পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এর আগে গত ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর এ কার্যক্রম চলার কথা ছিল।

কিন্তু করোনা মহামারি এবং ট্যাব কেনায় দেরি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। নতুন তারিখটি নির্ধারণ করতে প্রস্তাব পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এলেই এটি ঘোষণা দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জনশুমারি। ফলে ব্যয় কিছুটা কম হবে। তবে এই পদ্ধতির জন্য ট্যাব কেনায় কিছুটা জটিলতার সৃৃষ্টি হয়। ফলে একদিকে করোনা মহামারি অন্যদিকে এই জটিলতায় শুমারির মূল কাজ পিছিয়ে যায়। তবে এখন ট্যাব কেনার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হয়েছে। আশা করছি নতুন সময়সূচি নির্ধারণ হলে এর মধ্যেই গণনার কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট এই প্রকল্পের আওতায় ‘ট্যাবলেট ফর ক্যাপি (কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং) ফর মেইন সেন্সাস’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে।

মাঠপর্যায়ে জনশুমারির তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রকল্পটির আওতায় তিন লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট কেনার জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ২টি দরপত্র জমা পড়ে। এ ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া ক্রুটির কথা বলে প্রস্তাবটি ফেরত দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, জনশুমারি গৃহগণনা (সাবেক আদম শুমারি) প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রতি ১০ বছর পরপর দেশের প্রতিটি মানুষকে গণনার আওতায় আনা হয়। ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১’ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর।

এটির মোট ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। প্রকল্পটির শুরু থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ৬ দশমিক ২২ শতাংশ আর বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ২২ শতাংশ। এই পর্যায়ে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনীতে মোট ২১ খাতের ব্যয়ের মধ্যে ১৭টির ব্যয় যুক্তিসঙ্গতভাবে কমানো হয়।

বাকি তিনটি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পায়। একটি খাতে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৫৭৫ কোটি টাকায়। এবারের জনশুমারি ও গৃহগণনা চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এগুলো হলো পর্যায়-১, এর আওতায় শুমারির ব্লক এলাকা প্রণয়ন, জিআইএস পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশের সব এলাকা ম্যাপ ও জিও কোডের আওতায় স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায় ২-এর আওতায় শুমারি পরিচালনা দেশের সব খানা (পরিবার), ব্যক্তি এবং আবাসন ইউনিট গণনা করা হচ্ছে।

পর্যায়-৩ এর আওতায় শুমারি পরবর্তী জরিপ পরিচালনা শুমারির গুণগত মান পরিমাপ করা। পর্যায়-৪ এর আওতায় আর্থ-সামাজিক ও জনমিতিক জরিপ পরিচালনা খানা ও জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন