সিরাজগঞ্জে ৫০ কিমি. মহাসড়কে তীব্র যানজট
jugantor
সিরাজগঞ্জে ৫০ কিমি. মহাসড়কে তীব্র যানজট

  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যানজট

ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের নলকা সেতুর অংশবিশেষ ভেঙে যাওয়া এবং সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। বিকল্প হিসাবে শহরে প্রবেশের বিভিন্ন সড়কেও যানবাহন ঢুকে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ যাত্রী ও ২০ হাজারের বেশি ছোট-বড় যানবাহন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম পাড়ের নলকা সেতু হয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা পেরিয়ে বগুড়ার দিকে, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের কাছিকাটা ১০নং সেতু হয়ে নাটোরের দিকে ও ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে এই যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার রাত ২টা থেকে এখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার যানবাহন। পেশাগত কাজে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের মুলিবাড়ি এলাকায় যানজটে আটকে থাকা প্রকৌশলী মোস্তাকিম জানান, রাত ২টার দিকে এখানে বাস দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত একটুও আগাতে পারেনি। তিনি বলেন, ঈদেও মহাসড়কে এমন যানজট ও দুর্ভোগ কখনো দেখিনি। এছাড়া দীর্ঘ সময় মহাসড়কে আটকে পড়ে যাত্রীদের ক্ষুধা নিবারণে একমাত্র ভরসা এখন ফেরিওয়ালারা।
সওজ (সড়ক ও জনপথ) বিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলজোড় নদীর ওপর নলকা সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালে আঞ্চলিক এ সড়ক মহাসড়কে পরিণত হলেও সেতুটির কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন হয়নি। ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পর থেকে এ সেতু দিয়েই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেতুটি একেবারেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। এ কাজ চলায় এই সেতুর এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একই সঙ্গে মহাসড়কটিতে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাটিকুমরুল গোলচত্বরে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইনস্পেকটর (টিআই) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যানজট একদিকে টাঙ্গাইল অন্যদিকে নাটোর ও বগুড়া জেলার মধ্যে পৌঁছে গেছে। তবে আমরা তা নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, নলকা সেতুর কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় সেতুর এক পাশ দিয়ে যান চলাচল করাতে হচ্ছে। এতে একদিকের গাড়ি বন্ধ রেখে অন্যদিকের যান চলতে দিতে হচ্ছে। এছাড়া সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যান চলাচল করাতে হচ্ছে খুব সাবধানে ও ধীরে। এ ছাড়াও সেতুর আশপাশের সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ফলে যানবাহন চাইলেও দ্রুত চলতে পারছে না। মূলত এ কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান এই ট্রাফিক কর্মকর্তা। সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার জানান, নলকা সেতুতে সংস্কার কাজ শুরুর পর সেতুটির মাঝামাঝি পশ্চিমাংশে বেশকিছু গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে এসব স্থানে ইস্পাতের পাটাতন দিয়ে সেতুর সংস্কার করা হচ্ছে। সংস্কার শেষ করে আশপাশের সড়ক মেরামত করতে আরও ২/৩ দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জে ৫০ কিমি. মহাসড়কে তীব্র যানজট

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
যানজট
দুর্ভোগে লাখো যাত্রী: সিরাজগঞ্জে যানজটে স্থবির ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়ক। নলকা সেতু ভেঙে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি। নলকা থেকে বৃহস্পতিবার তোলা -যুগান্তর

ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের নলকা সেতুর অংশবিশেষ ভেঙে যাওয়া এবং সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। বিকল্প হিসাবে শহরে প্রবেশের বিভিন্ন সড়কেও যানবাহন ঢুকে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ যাত্রী ও ২০ হাজারের বেশি ছোট-বড় যানবাহন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম পাড়ের নলকা সেতু হয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা পেরিয়ে বগুড়ার দিকে, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের কাছিকাটা ১০নং সেতু হয়ে নাটোরের দিকে ও ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে এই যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার রাত ২টা থেকে এখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার যানবাহন। পেশাগত কাজে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের মুলিবাড়ি এলাকায় যানজটে আটকে থাকা প্রকৌশলী মোস্তাকিম জানান, রাত ২টার দিকে এখানে বাস দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত একটুও আগাতে পারেনি। তিনি বলেন, ঈদেও মহাসড়কে এমন যানজট ও দুর্ভোগ কখনো দেখিনি। এছাড়া দীর্ঘ সময় মহাসড়কে আটকে পড়ে যাত্রীদের ক্ষুধা নিবারণে একমাত্র ভরসা এখন ফেরিওয়ালারা। 
সওজ (সড়ক ও জনপথ) বিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলজোড় নদীর ওপর নলকা সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালে আঞ্চলিক এ সড়ক মহাসড়কে পরিণত হলেও সেতুটির কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন হয়নি। ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পর থেকে এ সেতু দিয়েই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সেতুটি একেবারেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছে। এ কাজ চলায় এই সেতুর এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একই সঙ্গে মহাসড়কটিতে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাটিকুমরুল গোলচত্বরে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইনস্পেকটর (টিআই) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যানজট একদিকে টাঙ্গাইল অন্যদিকে নাটোর ও বগুড়া জেলার মধ্যে পৌঁছে গেছে। তবে আমরা তা নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, নলকা সেতুর কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় সেতুর এক পাশ দিয়ে যান চলাচল করাতে হচ্ছে। এতে একদিকের গাড়ি বন্ধ রেখে অন্যদিকের যান চলতে দিতে হচ্ছে। এছাড়া সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যান চলাচল করাতে হচ্ছে খুব সাবধানে ও ধীরে। এ ছাড়াও সেতুর আশপাশের সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ফলে যানবাহন চাইলেও দ্রুত চলতে পারছে না। মূলত এ কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান এই ট্রাফিক কর্মকর্তা। সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার জানান, নলকা সেতুতে সংস্কার কাজ শুরুর পর সেতুটির মাঝামাঝি পশ্চিমাংশে বেশকিছু গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে এসব স্থানে ইস্পাতের পাটাতন দিয়ে সেতুর সংস্কার করা হচ্ছে। সংস্কার শেষ করে আশপাশের সড়ক মেরামত করতে আরও ২/৩ দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন