রংপুরে ৩ কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি উদ্ধার
jugantor
রংপুরে ৩ কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি উদ্ধার
যুবলীগ নেতা রনির নামে মামলা

  রংপুর ব্যুরো  

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নগরীর একটি গ্যারেজে লুকিয়ে রাখা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার টয়োটা কোম্পানির ‘জাগুয়া এক্স’ স্পোর্টস কার (নম্বর চট্রো মেট্রো ভ-১১-০০৩৯) উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাড়িটি সেখানে লুকিয়ে রাখা ছিল। গত বুধবার গভীর রাতে গাড়িটি উদ্ধার হলেও এ নিয়ে চরম গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। অবশেষে গত শুক্রবার রাতে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ডা. লুৎফে আলী রনিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক লতিফা শওকতের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য গ্রহণ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

মামলার (নম্বর-৩৬ তারিখ : ১৫.১০.২১) বাদী রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ধাপ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামি রনি ২০১৭ সালে পালস্ কেয়ার ডায়াগস্টিক সেন্টারের জন্য একটি ভবন ভাড়া নেন। ওই চিকিৎসক লুৎফে আলী রনি তার মা আওয়ামী লীগ নেত্রী লতিফা শওকতের নামে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সেখানেই তার গাড়ি রাখার জন্য গ্যারেজও ভাড়া করেন। পরে পালস্ কেয়ার ডায়াগস্টিক সেন্টারের সেখান থেকে স্থানান্তর করা হলেও ওই গাড়ি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে গ্যারেজের মালিক পক্ষ একাধিকবার বললেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেখান থেকে চোরাই গাড়িটি সরিয়ে নেওয়া হয়নি। অবশেষে গত মঙ্গলবার গ্যারেজের মালিক পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ে। পুলিশ বুধবার গভীর রাতে গাড়িটি উদ্ধার করে।

এই গাড়ির মালিক এবং গাড়ির বিষয়ে কিচ্ছু জানেন না বলে সাংবাদিকদের সাফ জানান ডা. লুৎফে আলী রনি। তিনি বলেন, এই গাড়ির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

রনি বলেন, আগের মালিক আমার ভাড়া করা ‘পালস্ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের’ জায়গা বিক্রি করেন ‘পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে। আমি পরে সেখান থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩০ লাখ টাকা নিয়ে চলে আসি। আমি এখন মোস্তাফিজুর রহমানের জমি বিক্রির টাকা পাই। এখন ওনার ক্রয়কৃত জমির সীমানা প্রাচীরের ভেতরে আমার জমি রয়েছে। আমার জমি দখল করে রেখেছেন উনি। পপুলার ডায়াগনস্টিকের মালিকের সঙ্গে জমি নিয়ে চুক্তি হয়েছে, তিনি আমাকে জমির টাকা দেবেন। কিন্তু টাকা দিতে ১৩ দিন ধরে বসিয়ে রেখেছেন। গাড়ির মামলা কেন দিল তাও জানি না। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জায়গাটি আমার ক্রয় করা। রনি জায়গা ছাড়ছিল না। আমরা থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ এসে গাড়িটি একটি রুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। যারা জায়গা দখল করে রেখেছে তারাই হয়তো গাড়িটি রেখেছে। এই গাড়ি আমাদের নয়।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, যে জায়গাটিতে গাড়িটি ছিল সেটি এক সময় ডা. লুৎফে আলী রনি মায়ের নামে পরিচালিত পালস্ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চালাত। পরে সে জায়গাটি বিক্রি করে দেয় তারা। জমিটি ক্রয় করেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, জমিটি বিক্রির পর সবাই জায়গা ছেড়ে চলে যায় কিন্তু ডা. রনি সেখান থেকে যায়নি। ফলে মোস্তাফিজুর রহমান গত ১০ অক্টোবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা গত বুধবার রাতে ঘটনাস্থলে যাই। এরপর সেখানে এই গাড়িটি তালাবদ্ধ একটি ঘরে দেখতে পাই। কিন্তু এই গাড়িটির মালিকানা কেউই দাবি করছে না। না ডা. লুৎফে আলম রনি, না মোস্তাফিজার রহমান। যেহেতু জায়গাটিতে ডা. রনি অবস্থান করছিলেন তাই আমরা তার নামে মামলা দিয়েছি। গাড়িটি অনেকদিন ধরেই পড়ে ছিল। গাড়ি স্টার্ট নেয় না। স্থানীয় মেকার ডেকে এনেছি, তারাও পায়নি। ফলে রেকার দিয়ে গাড়িটি থানায় নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গাড়ি উদ্ধারের পর মামলা হয়েছে। বিআরটিএর মাধ্যমে প্রকৃত মালিককে খুঁজতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

রংপুরে ৩ কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি উদ্ধার

যুবলীগ নেতা রনির নামে মামলা
 রংপুর ব্যুরো 
১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নগরীর একটি গ্যারেজে লুকিয়ে রাখা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার টয়োটা কোম্পানির ‘জাগুয়া এক্স’ স্পোর্টস কার (নম্বর চট্রো মেট্রো ভ-১১-০০৩৯) উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাড়িটি সেখানে লুকিয়ে রাখা ছিল। গত বুধবার গভীর রাতে গাড়িটি উদ্ধার হলেও এ নিয়ে চরম গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। অবশেষে গত শুক্রবার রাতে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ডা. লুৎফে আলী রনিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক লতিফা শওকতের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য গ্রহণ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

মামলার (নম্বর-৩৬ তারিখ : ১৫.১০.২১) বাদী রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ধাপ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামি রনি ২০১৭ সালে পালস্ কেয়ার ডায়াগস্টিক সেন্টারের জন্য একটি ভবন ভাড়া নেন। ওই চিকিৎসক লুৎফে আলী রনি তার মা আওয়ামী লীগ নেত্রী লতিফা শওকতের নামে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সেখানেই তার গাড়ি রাখার জন্য গ্যারেজও ভাড়া করেন। পরে পালস্ কেয়ার ডায়াগস্টিক সেন্টারের সেখান থেকে স্থানান্তর করা হলেও ওই গাড়ি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে গ্যারেজের মালিক পক্ষ একাধিকবার বললেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেখান থেকে চোরাই গাড়িটি সরিয়ে নেওয়া হয়নি। অবশেষে গত মঙ্গলবার গ্যারেজের মালিক পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ে। পুলিশ বুধবার গভীর রাতে গাড়িটি উদ্ধার করে।

এই গাড়ির মালিক এবং গাড়ির বিষয়ে কিচ্ছু জানেন না বলে সাংবাদিকদের সাফ জানান ডা. লুৎফে আলী রনি। তিনি বলেন, এই গাড়ির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

রনি বলেন, আগের মালিক আমার ভাড়া করা ‘পালস্ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের’ জায়গা বিক্রি করেন ‘পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে। আমি পরে সেখান থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩০ লাখ টাকা নিয়ে চলে আসি। আমি এখন মোস্তাফিজুর রহমানের জমি বিক্রির টাকা পাই। এখন ওনার ক্রয়কৃত জমির সীমানা প্রাচীরের ভেতরে আমার জমি রয়েছে। আমার জমি দখল করে রেখেছেন উনি। পপুলার ডায়াগনস্টিকের মালিকের সঙ্গে জমি নিয়ে চুক্তি হয়েছে, তিনি আমাকে জমির টাকা দেবেন। কিন্তু টাকা দিতে ১৩ দিন ধরে বসিয়ে রেখেছেন। গাড়ির মামলা কেন দিল তাও জানি না। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জায়গাটি আমার ক্রয় করা। রনি জায়গা ছাড়ছিল না। আমরা থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ এসে গাড়িটি একটি রুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। যারা জায়গা দখল করে রেখেছে তারাই হয়তো গাড়িটি রেখেছে। এই গাড়ি আমাদের নয়।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, যে জায়গাটিতে গাড়িটি ছিল সেটি এক সময় ডা. লুৎফে আলী রনি মায়ের নামে পরিচালিত পালস্ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চালাত। পরে সে জায়গাটি বিক্রি করে দেয় তারা। জমিটি ক্রয় করেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, জমিটি বিক্রির পর সবাই জায়গা ছেড়ে চলে যায় কিন্তু ডা. রনি সেখান থেকে যায়নি। ফলে মোস্তাফিজুর রহমান গত ১০ অক্টোবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা গত বুধবার রাতে ঘটনাস্থলে যাই। এরপর সেখানে এই গাড়িটি তালাবদ্ধ একটি ঘরে দেখতে পাই। কিন্তু এই গাড়িটির মালিকানা কেউই দাবি করছে না। না ডা. লুৎফে আলম রনি, না মোস্তাফিজার রহমান। যেহেতু জায়গাটিতে ডা. রনি অবস্থান করছিলেন তাই আমরা তার নামে মামলা দিয়েছি। গাড়িটি অনেকদিন ধরেই পড়ে ছিল। গাড়ি স্টার্ট নেয় না। স্থানীয় মেকার ডেকে এনেছি, তারাও পায়নি। ফলে রেকার দিয়ে গাড়িটি থানায় নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গাড়ি উদ্ধারের পর মামলা হয়েছে। বিআরটিএর মাধ্যমে প্রকৃত মালিককে খুঁজতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন