ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী সমিতির ১৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ
jugantor
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী সমিতির ১৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির ১৩২ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটেছে। জেলা সমবায় অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াসা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় একটি চক্র এই টাকা আত্মসাৎ করেছে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান কমিটির কর্মকর্তারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি ১৬ জুলাই ২০১৭ থেকে ৩০ জুন ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৯৯ কোটি ৬৫ লাখ ১৯ হাজার ১৭৩ টাকা ঢাকা ওয়াসা থেকে রাজস্ব আদায় কাজ বাবদ পায়। আর ২০১৮ থেকে ২০১৯ অর্থবছরে একই কাজ বাবদ সমিতি আয় করে ৩৪ কোটি ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯০ টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০১৮ অর্থবছরে সমিতির হিসাবে জমা হয় ১ লাখ ৭৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৩ টাকা। অবশিষ্ট ১৩২ কোটি ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা জমা হয়নি। এ টাকা কোথায় গেল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা ওয়াসার আশীর্বাদপুষ্ট কমিটির নেতারা এবং ঢাকা ওয়াসা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সমবায় অধিদপ্তরের অডিট প্রতিবেদনে আর্থিক লুটপাটের চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ৩০ এপ্রিল ২০১৯ সালে ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ওয়াসার এমডির পক্ষ থেকে ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়, বহুমুখী সমবায় সমিতি ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন। ১৯৯৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসা রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ দীর্ঘ সময় রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পরিচালনাকালে সুনির্দিষ্ট চুক্তির আওতায় ঢাকা ওয়াসা থেকে বিপুল অর্থ কমিশন পেয়েছে সমিতি। ২০১০ থেকে ২০১১ অর্থবছর এবং ২০১৮ থেকে ২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, ঢাকা ওয়াসা থেকে কর্মচারী সমবায় সমিতিকে ৪৪৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যয়ের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। কিন্তু সমিতি থেকে সে তথ্য জানানো হয়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন সরকার বলেন, ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী সমবায় সমিতি সরকার অনুমোদিত একটি সংগঠন। সমবায় অধিদপ্তরের আওতায় এ সমিতি পরিচালিত। সমিতির হিসাব, দেনা-পাওনা তদারকি করে সমবায় অধিদপ্তর। সমিতির অর্থ, সম্পদ আটকে রাখার কোনো আইনগত অধিকার নেই ওয়াসা প্রশাসনের। অথচ কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা জোরপূর্বক আটকে রেখেছে।

তিনি বলেন, সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ওয়াসা প্রশাসন আমাদের অফিসে বসতে দিচ্ছে না। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এক মাসের মধ্যে সমিতির সব প্রকার দেনা-পাওনাসহ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে কর্মসূচি গ্রহণ করব।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আতাউল করিম, নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির লিখন, আলী আহাম্মেদ, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, হাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী সমিতির ১৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির ১৩২ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটেছে। জেলা সমবায় অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াসা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় একটি চক্র এই টাকা আত্মসাৎ করেছে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান কমিটির কর্মকর্তারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি ১৬ জুলাই ২০১৭ থেকে ৩০ জুন ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৯৯ কোটি ৬৫ লাখ ১৯ হাজার ১৭৩ টাকা ঢাকা ওয়াসা থেকে রাজস্ব আদায় কাজ বাবদ পায়। আর ২০১৮ থেকে ২০১৯ অর্থবছরে একই কাজ বাবদ সমিতি আয় করে ৩৪ কোটি ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯০ টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০১৮ অর্থবছরে সমিতির হিসাবে জমা হয় ১ লাখ ৭৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৩ টাকা। অবশিষ্ট ১৩২ কোটি ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা জমা হয়নি। এ টাকা কোথায় গেল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা ওয়াসার আশীর্বাদপুষ্ট কমিটির নেতারা এবং ঢাকা ওয়াসা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সমবায় অধিদপ্তরের অডিট প্রতিবেদনে আর্থিক লুটপাটের চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ৩০ এপ্রিল ২০১৯ সালে ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ওয়াসার এমডির পক্ষ থেকে ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়, বহুমুখী সমবায় সমিতি ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন। ১৯৯৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসা রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ দীর্ঘ সময় রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পরিচালনাকালে সুনির্দিষ্ট চুক্তির আওতায় ঢাকা ওয়াসা থেকে বিপুল অর্থ কমিশন পেয়েছে সমিতি। ২০১০ থেকে ২০১১ অর্থবছর এবং ২০১৮ থেকে ২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, ঢাকা ওয়াসা থেকে কর্মচারী সমবায় সমিতিকে ৪৪৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যয়ের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। কিন্তু সমিতি থেকে সে তথ্য জানানো হয়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন সরকার বলেন, ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী সমবায় সমিতি সরকার অনুমোদিত একটি সংগঠন। সমবায় অধিদপ্তরের আওতায় এ সমিতি পরিচালিত। সমিতির হিসাব, দেনা-পাওনা তদারকি করে সমবায় অধিদপ্তর। সমিতির অর্থ, সম্পদ আটকে রাখার কোনো আইনগত অধিকার নেই ওয়াসা প্রশাসনের। অথচ কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা জোরপূর্বক আটকে রেখেছে।

তিনি বলেন, সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ওয়াসা প্রশাসন আমাদের অফিসে বসতে দিচ্ছে না। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এক মাসের মধ্যে সমিতির সব প্রকার দেনা-পাওনাসহ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে কর্মসূচি গ্রহণ করব।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আতাউল করিম, নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির লিখন, আলী আহাম্মেদ, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, হাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন