চট্টগ্রামে সন্তানদের হত্যার পর আত্মহত্যা করেন সুমিতা
jugantor
চট্টগ্রামে সন্তানদের হত্যার পর আত্মহত্যা করেন সুমিতা

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছিলেন মা সুমিতা খাতুন (৩০)। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পারিবারিক কলহের জের ধরেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন সুমিতা। তার ফুপা হাজি সামছুল আলম সুমিতার স্বামী সোহেল রানাকে একমাত্র আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। শনিবার নগরীর পাঁচলাইশ থানায় এ মামলা করা হয়। এদিন পুলিশ সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। সোহেল রানা একজন ইউনানি চিকিৎসক। বাসার অদূরে মুরাদপুর মোড়ে তার একটি ইউনানি ফার্মেসি রয়েছে।

শুক্রবার সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার মোহাম্মদপুর এলাকায় ইসমাইল কলোনির নিজ বাসা থেকে সুমিতা খাতুন ও দুই শিশুসন্তান সাত বছরের জান্নাত আরা মুন এবং আড়াই বছরের সান বাবুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মা ও আড়াই বছর বয়সি সান বাবুর লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং জান্নাত আরা মুনের নিথর দেহ খাটে ছিল।

পাঁচলাইশ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুই সন্তানকে হত্যার পর মা সুমিতা খাতুন আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে। কেননা আমরা যখন স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই, তখন বাসার ভেতর থেকে মূল দরজায় হুক লাগানো ছিল। আমরা সেটি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছি। একইভাবে যে বেডরুমটিতে লাশ পাওয়া যায়, সেটিতেও ভেতর থেকে হুক লাগানো ছিল। সেটিও ভাঙা হয়। এতে মনে হচ্ছে এটি হত্যা নয়, আত্মহত্যা। এরপরও মা ও দুই শিশুসন্তানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে তখন বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত সুমিতা খাতুনের ফুপা হাজি সামছুল আলম বলেন, ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাসিয়া এলাকার মৃত মো. আজিজুর রহমান শেখের ছেলে সোহেল রানার সঙ্গে সুমিতা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নানা কারণে সুমিতাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত সোহেল রানা। যৌতুকের জন্যও বিভিন্ন সময় নির্যাতন করেছে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে দফায় দফায় ৭ লাখ টাকা সোহেল রানাকে দিয়েছে সুমিতার বাবা। এরপরও সুমিতার ওপর নির্যাতন থামেনি। পারিবারিকভাবে একাধিকবার তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। এ ঘটনার জন্য অবশ্যই তার স্বামী সোহেল রানা দায়ী। আমি এর বিচার দাবি করছি।

পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল কবির যুগান্তরকে বলেন, ‘মাসহ দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। ইতোমধ্যে আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার বিকালে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি।

চট্টগ্রামে সন্তানদের হত্যার পর আত্মহত্যা করেন সুমিতা

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছিলেন মা সুমিতা খাতুন (৩০)। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পারিবারিক কলহের জের ধরেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন সুমিতা। তার ফুপা হাজি সামছুল আলম সুমিতার স্বামী সোহেল রানাকে একমাত্র আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। শনিবার নগরীর পাঁচলাইশ থানায় এ মামলা করা হয়। এদিন পুলিশ সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। সোহেল রানা একজন ইউনানি চিকিৎসক। বাসার অদূরে মুরাদপুর মোড়ে তার একটি ইউনানি ফার্মেসি রয়েছে।

শুক্রবার সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার মোহাম্মদপুর এলাকায় ইসমাইল কলোনির নিজ বাসা থেকে সুমিতা খাতুন ও দুই শিশুসন্তান সাত বছরের জান্নাত আরা মুন এবং আড়াই বছরের সান বাবুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মা ও আড়াই বছর বয়সি সান বাবুর লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং জান্নাত আরা মুনের নিথর দেহ খাটে ছিল।

পাঁচলাইশ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুই সন্তানকে হত্যার পর মা সুমিতা খাতুন আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে। কেননা আমরা যখন স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই, তখন বাসার ভেতর থেকে মূল দরজায় হুক লাগানো ছিল। আমরা সেটি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছি। একইভাবে যে বেডরুমটিতে লাশ পাওয়া যায়, সেটিতেও ভেতর থেকে হুক লাগানো ছিল। সেটিও ভাঙা হয়। এতে মনে হচ্ছে এটি হত্যা নয়, আত্মহত্যা। এরপরও মা ও দুই শিশুসন্তানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে তখন বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত সুমিতা খাতুনের ফুপা হাজি সামছুল আলম বলেন, ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাসিয়া এলাকার মৃত মো. আজিজুর রহমান শেখের ছেলে সোহেল রানার সঙ্গে সুমিতা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নানা কারণে সুমিতাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত সোহেল রানা। যৌতুকের জন্যও বিভিন্ন সময় নির্যাতন করেছে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে দফায় দফায় ৭ লাখ টাকা সোহেল রানাকে দিয়েছে সুমিতার বাবা। এরপরও সুমিতার ওপর নির্যাতন থামেনি। পারিবারিকভাবে একাধিকবার তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। এ ঘটনার জন্য অবশ্যই তার স্বামী সোহেল রানা দায়ী। আমি এর বিচার দাবি করছি।

পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল কবির যুগান্তরকে বলেন, ‘মাসহ দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। ইতোমধ্যে আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার বিকালে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন