এনটিএমসির ডাটা হাব ব্যবহার করবে র‌্যাব
jugantor
প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের যাত্রা শুরু
এনটিএমসির ডাটা হাব ব্যবহার করবে র‌্যাব
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের চক্রান্তকারীদের ছাড়া হবে না -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির সহায়তায় অপারেশনাল কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার’ (এনটিএমসি) উদ্ভাবিত ডাটা হাবের সঙ্গে সংযুক্ত হলো র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এখন থেকে র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন ও অপরাধ দমনে গঠিত মাঠপর্যায়ের বিশেষ ক্যাম্পগুলো এনটিএমসির ডাটা হাবে প্রবেশ করতে পারবে। ফলে ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং থেকে শুরু করে অপরাধীর অবস্থান শনাক্তসহ বেশকিছু সুবিধা পাবে সংস্থাটি।

বাহিনীর ‘প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন’ উপলক্ষ্যে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, র‌্যাব নামটা উচ্চারিত হলে মনের মধ্যে এক ধরনের আস্থার উদ্রেক হয়। এ জন্য র‌্যাবকে আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এনটিএমসি প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। এর সঙ্গে সংযুক্তির ফলে র‌্যাবের সক্ষমতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রী বলেন, অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না এটা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি পূজামণ্ডপে হামলার নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে ধরা হবে। ইতোমধ্যে ঘটনার মূল হোতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ-যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে তাদের ছাড়া হবে না। প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালে প্রথম ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তখন অনেকেই এটার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি। আজ যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে তখন আমরা বিষয়টি বুঝতে পারছি। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগে ভারত সফরে গেলে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীও সবক্ষেত্রে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন বলেন, স্বল্প সময়ে সক্ষমতার একটা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এনটিএমসি একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এ জন্য সংস্থাটির পরিচালক অবশ্যই সাধুবাদ পেতে পারেন। এখন এনটিএমসির ডাটা হাবে যুক্ত হওয়ার ফলে র‌্যাব পেশাগত কাজে আরও বেশি দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে ভিশন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন র‌্যাবকেও সে অনুযায়ী গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে র‌্যাবের দাপ্তরিক এবং আভিযানিক কার্যক্রমের অনেকটাই ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে। অচিরেই র‌্যাবের অফিস হবে পেপারলেস।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি ড. মইনুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তির উপকার যেমন আছে তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়ছে। আর তথ্যের ভুল ব্যবহার অস্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে। যেমন মধ্যপ্রাচ্যে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান চালালেও পরে তারা নিজেরাই ভুল স্বীকার করেছে। কিন্তু ততদিনে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। ফলে প্রযুক্তি এবং তথ্যের অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান তার বক্তব্যের শুরুতেই র‌্যাবে কাজের সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এ সংস্থার সঙ্গে তার বন্ধন দীর্ঘদিনের। চাকরি জীবনের বড় একটা অংশ তিনি র‌্যাবে কাটিয়েছেন। এজন্য সব সময় র‌্যাবের প্রতি বিশেষ দরদ এবং ভালোবাসা অনুভব করেন। র‌্যাবের সফলতা তাকে আনন্দ দেয়। তিনি বলেন, তথ্য এবং প্রযুক্তি হচ্ছে দুদিকে ধারালো অস্ত্রের মতো। ফলে এর উপকারিতা যেমন আছে তেমনি অপকারিতাও আছে। তথ্যের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এনটিএমসির ডাটা হাবের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় র‌্যাবের সব কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তিনি।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কেএম আজাদ বলেন, এনটিএমসি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডাটা প্ল্যাটফরম। এর ডাটা হাবে যুক্ত হওয়ায় অভিযান এবং অপরাধী গ্রেফতারে র‌্যাবের উৎকর্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে এখন থেকে ব্যাটালিয়ন এবং সিপিসি পর্যন্ত ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং করতে পারবে। যা এতদিন সদর দপ্তরের মাধ্যমে করতে হতো। এছাড়া র‌্যাবের জেল ডাটা বেজ, ক্রিমিনাল ডাটা বেজ রয়েছে। র‌্যাবে ক্লাউড ব্যাকআপ এবং ডিজিটাল অফিস ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর দক্ষিণখান, আশুলিয়া, সভার, সিলেটের দিরাই এবং রংপুরে সংঘটিত বেশ কয়েকটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে করা হয়েছে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রযুক্তির কল্যাণেই চাঞ্চল্যকর কাজী আরেক হত্যা মামলার আসামি দীর্ঘ সময় পালিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি। সম্প্রতি তাকেও গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের যাত্রা শুরু

এনটিএমসির ডাটা হাব ব্যবহার করবে র‌্যাব

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের চক্রান্তকারীদের ছাড়া হবে না -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির সহায়তায় অপারেশনাল কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার’ (এনটিএমসি) উদ্ভাবিত ডাটা হাবের সঙ্গে সংযুক্ত হলো র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এখন থেকে র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন ও অপরাধ দমনে গঠিত মাঠপর্যায়ের বিশেষ ক্যাম্পগুলো এনটিএমসির ডাটা হাবে প্রবেশ করতে পারবে। ফলে ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং থেকে শুরু করে অপরাধীর অবস্থান শনাক্তসহ বেশকিছু সুবিধা পাবে সংস্থাটি।

বাহিনীর ‘প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন’ উপলক্ষ্যে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, র‌্যাব নামটা উচ্চারিত হলে মনের মধ্যে এক ধরনের আস্থার উদ্রেক হয়। এ জন্য র‌্যাবকে আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এনটিএমসি প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। এর সঙ্গে সংযুক্তির ফলে র‌্যাবের সক্ষমতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রী বলেন, অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না এটা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি পূজামণ্ডপে হামলার নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে ধরা হবে। ইতোমধ্যে ঘটনার মূল হোতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ-যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে তাদের ছাড়া হবে না। প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালে প্রথম ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তখন অনেকেই এটার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি। আজ যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে তখন আমরা বিষয়টি বুঝতে পারছি। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগে ভারত সফরে গেলে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীও সবক্ষেত্রে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন বলেন, স্বল্প সময়ে সক্ষমতার একটা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এনটিএমসি একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এ জন্য সংস্থাটির পরিচালক অবশ্যই সাধুবাদ পেতে পারেন। এখন এনটিএমসির ডাটা হাবে যুক্ত হওয়ার ফলে র‌্যাব পেশাগত কাজে আরও বেশি দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে ভিশন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন র‌্যাবকেও সে অনুযায়ী গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে র‌্যাবের দাপ্তরিক এবং আভিযানিক কার্যক্রমের অনেকটাই ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে। অচিরেই র‌্যাবের অফিস হবে পেপারলেস।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি ড. মইনুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তির উপকার যেমন আছে তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়ছে। আর তথ্যের ভুল ব্যবহার অস্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে। যেমন মধ্যপ্রাচ্যে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান চালালেও পরে তারা নিজেরাই ভুল স্বীকার করেছে। কিন্তু ততদিনে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। ফলে প্রযুক্তি এবং তথ্যের অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান তার বক্তব্যের শুরুতেই র‌্যাবে কাজের সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এ সংস্থার সঙ্গে তার বন্ধন দীর্ঘদিনের। চাকরি জীবনের বড় একটা অংশ তিনি র‌্যাবে কাটিয়েছেন। এজন্য সব সময় র‌্যাবের প্রতি বিশেষ দরদ এবং ভালোবাসা অনুভব করেন। র‌্যাবের সফলতা তাকে আনন্দ দেয়। তিনি বলেন, তথ্য এবং প্রযুক্তি হচ্ছে দুদিকে ধারালো অস্ত্রের মতো। ফলে এর উপকারিতা যেমন আছে তেমনি অপকারিতাও আছে। তথ্যের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এনটিএমসির ডাটা হাবের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় র‌্যাবের সব কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তিনি।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কেএম আজাদ বলেন, এনটিএমসি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডাটা প্ল্যাটফরম। এর ডাটা হাবে যুক্ত হওয়ায় অভিযান এবং অপরাধী গ্রেফতারে র‌্যাবের উৎকর্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে এখন থেকে ব্যাটালিয়ন এবং সিপিসি পর্যন্ত ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং করতে পারবে। যা এতদিন সদর দপ্তরের মাধ্যমে করতে হতো। এছাড়া র‌্যাবের জেল ডাটা বেজ, ক্রিমিনাল ডাটা বেজ রয়েছে। র‌্যাবে ক্লাউড ব্যাকআপ এবং ডিজিটাল অফিস ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর দক্ষিণখান, আশুলিয়া, সভার, সিলেটের দিরাই এবং রংপুরে সংঘটিত বেশ কয়েকটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে করা হয়েছে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রযুক্তির কল্যাণেই চাঞ্চল্যকর কাজী আরেক হত্যা মামলার আসামি দীর্ঘ সময় পালিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি। সম্প্রতি তাকেও গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন