ব্যানার টানিয়ে ঘের দখল মাছ লুট
jugantor
দেবহাটায় ‘শেখ মুজিবনগর প্রকল্প’
ব্যানার টানিয়ে ঘের দখল মাছ লুট
মালিকরা ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে, সড়কে ব্যারিকেড, পাহারায় নারী

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেবহাটা উপজেলার খলিসাখালিতে ১৩২০ বিঘার মৎস্য ঘের জোর করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দখলকারীরা প্রতিদিন চার লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে সেখানে লুটপাট শুরু করেছে।

এই জমি ও ঘেরের রেকর্ডীয় মালিকরা তাদের জমি ফিরে পেতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ছোটাছুটি করছেন। দখলদাররা নিজেদের ভূমিহীন দাবি করলেও এলাকাবাসী বলছেন, এরা ভূমিদস্যু। তারা বিভিন্ন সময়ের ডাকাতি মামলার আসামি। তাদের নেপথ্যে রয়েছে গোপন চরমপন্থিরা। দখলকারীদের দাবি, এ জমি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। আমরা এখানে আবাসন প্রকল্প করব। তবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বলেছেন, দখলকৃত জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। যেটুকু খাস জমি রয়েছে তা সবই রাস্তা ও একটি খালের মধ্যে। পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, দখলদাররা ভূমিহীন নন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে জমি ও ঘের দখল এবং সন্ত্রাস ও ডাকাতির অভিযোগ আছে।

জানা গেছে, ১০ সেপ্টেম্বর রাতে খলিসাখালি, ঢেবুখালি, নোড়ারচকসহ কয়েকটি এলাকার কিছু লোকের নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক সন্ত্রাসী রাতারাতি ওই ঘের দখল করে নেয়। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে জমি ও ঘের মালিকদের বাসাবাড়ি ভেঙে চুরে কর্মচারীদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। তারা দুই-তিন দিনের ব্যবধানে ২ কোটি টাকার মাছ ওই ঘের থেকে লুট করে বিক্রির টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। এরপর থেকে দৈনিক সাদা জাতের রুই, কাতল ভেটকিসহ নানা প্রজাতির মাছ লুট করে তা বেচাকেনা করছে। ওই এলাকায় যাতে কেউ যেতে না পারে সেজন্য তারা সড়কে বাঁশ আড় করে বেঁধে রেখে নারীদের পাহারায় বসিয়েছে। এভাবে তারা সেখানে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে লুটপাট করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জমির মালিক ডা. নজরুল ইসলাম, গোলাম মোরশেদ ও মো. আনসার আলি জানান, পুরো জমি আমাদের রেকর্ডীয়। চলতি সন পর্যন্ত ভূমিকরও পরিশোধিত। এ এলাকার একটি ভূমিগ্রাসী চক্র আমাদের জমি ও মাছের ঘের অস্ত্রের মুখে দখল করে নিয়ে লুটতরাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাধা দিতে গেলেই তারা হামলা করছে। এমন অবস্থায় নিজেদের জমি ফিরে পেতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সুফল পাইনি। দখলকারীরা সেখানে ‘শেখ মুজিবনগর খলিসাখালি আবাসন প্রকল্প’ নামের একটি ব্যানার টানিয়ে তাদের দখলকে পাকাপোক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার দখলদারদের পক্ষে সুনীল স্বর্ণকার ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটে এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, এ জমি খাস। কিছু লোক জাল দলিল করে তা দখল করে রেখেছিল। আমরা তাদের উচ্ছেদ করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।

জমির রেকর্ডীয় মালিকরা জানান, তারা এখানে ৩০ খণ্ড জমিতে গত ৭০ বছর ধরে চাষাবাদ ও মাছের ঘের করে আসছেন। কিছু দিন আগে সন্ত্রাসীদের একটি দল এই জমি দখল করে নেয়। এ ব্যাপারে দেবহাটা থানায় জানালেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ১২ সেপ্টেম্বর তারা সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা করেছেন।

জানা গেছে, ২৭টি দাগের ১৩২০ বিঘা এই জমির মালিক চন্ডীচরণ ঘোষ। তার কাছ থেকে বিনিময় সূত্রে এই জমি লাভ করেন কাজী আব্দুল মালেক। এই জমির এসএ রেকর্ডের পর মালিকপক্ষের কাছ থেকে বর্তমান মালিকরা তা কবলা দলিল মূলে ক্রয় করেন। এই জমি দখল করার অসৎ উদ্দেশ্যে জোনাব আলী নামের এক ব্যক্তি ১৮/২০১০ নম্বরের একটি মামলা করেন। মামলাটি এখন বিচারাধীন রয়েছে। এরই মধ্যে তা দখল করে নিয়েছে সুবিধাভোগী মহল। মালিকপক্ষ জানান, ডাকাত সর্দারসহ বেশ কয়েকজন সবসময় সশস্ত্র পাহারায় রয়েছে। তাদের দাবি, এই জমি খাস খতিয়ানভুক্ত। এটা কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন নয়। সাংবাদিক বা অন্য কেউ যাতে গাড়ি নিয়ে সেখানে যেতে না পারে সেজন্য তারা পথে বসিয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড। নারীদের পাহারায় বসিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির বলেন, খলিসাখালির ১৩২০ বিঘা জমির কাছে কয়েক একর খাসজমি রাস্তা ও খালের মধ্যে রয়েছে। বাকি জমি সব ব্যক্তি মালিকানাধীন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় সেখানে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

জানতে চাইলে দেবহাটা থানার ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহ্ জানান, এ বিষয়ে থানায় করা তিনটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

দেবহাটায় ‘শেখ মুজিবনগর প্রকল্প’

ব্যানার টানিয়ে ঘের দখল মাছ লুট

মালিকরা ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে, সড়কে ব্যারিকেড, পাহারায় নারী
 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেবহাটা উপজেলার খলিসাখালিতে ১৩২০ বিঘার মৎস্য ঘের জোর করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দখলকারীরা প্রতিদিন চার লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে সেখানে লুটপাট শুরু করেছে।

এই জমি ও ঘেরের রেকর্ডীয় মালিকরা তাদের জমি ফিরে পেতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ছোটাছুটি করছেন। দখলদাররা নিজেদের ভূমিহীন দাবি করলেও এলাকাবাসী বলছেন, এরা ভূমিদস্যু। তারা বিভিন্ন সময়ের ডাকাতি মামলার আসামি। তাদের নেপথ্যে রয়েছে গোপন চরমপন্থিরা। দখলকারীদের দাবি, এ জমি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। আমরা এখানে আবাসন প্রকল্প করব। তবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বলেছেন, দখলকৃত জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। যেটুকু খাস জমি রয়েছে তা সবই রাস্তা ও একটি খালের মধ্যে। পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, দখলদাররা ভূমিহীন নন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে জমি ও ঘের দখল এবং সন্ত্রাস ও ডাকাতির অভিযোগ আছে।

জানা গেছে, ১০ সেপ্টেম্বর রাতে খলিসাখালি, ঢেবুখালি, নোড়ারচকসহ কয়েকটি এলাকার কিছু লোকের নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক সন্ত্রাসী রাতারাতি ওই ঘের দখল করে নেয়। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে জমি ও ঘের মালিকদের বাসাবাড়ি ভেঙে চুরে কর্মচারীদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। তারা দুই-তিন দিনের ব্যবধানে ২ কোটি টাকার মাছ ওই ঘের থেকে লুট করে বিক্রির টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। এরপর থেকে দৈনিক সাদা জাতের রুই, কাতল ভেটকিসহ নানা প্রজাতির মাছ লুট করে তা বেচাকেনা করছে। ওই এলাকায় যাতে কেউ যেতে না পারে সেজন্য তারা সড়কে বাঁশ আড় করে বেঁধে রেখে নারীদের পাহারায় বসিয়েছে। এভাবে তারা সেখানে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে লুটপাট করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জমির মালিক ডা. নজরুল ইসলাম, গোলাম মোরশেদ ও মো. আনসার আলি জানান, পুরো জমি আমাদের রেকর্ডীয়। চলতি সন পর্যন্ত ভূমিকরও পরিশোধিত। এ এলাকার একটি ভূমিগ্রাসী চক্র আমাদের জমি ও মাছের ঘের অস্ত্রের মুখে দখল করে নিয়ে লুটতরাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাধা দিতে গেলেই তারা হামলা করছে। এমন অবস্থায় নিজেদের জমি ফিরে পেতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সুফল পাইনি। দখলকারীরা সেখানে ‘শেখ মুজিবনগর খলিসাখালি আবাসন প্রকল্প’ নামের একটি ব্যানার টানিয়ে তাদের দখলকে পাকাপোক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার দখলদারদের পক্ষে সুনীল স্বর্ণকার ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটে এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, এ জমি খাস। কিছু লোক জাল দলিল করে তা দখল করে রেখেছিল। আমরা তাদের উচ্ছেদ করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।

জমির রেকর্ডীয় মালিকরা জানান, তারা এখানে ৩০ খণ্ড জমিতে গত ৭০ বছর ধরে চাষাবাদ ও মাছের ঘের করে আসছেন। কিছু দিন আগে সন্ত্রাসীদের একটি দল এই জমি দখল করে নেয়। এ ব্যাপারে দেবহাটা থানায় জানালেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ১২ সেপ্টেম্বর তারা সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা করেছেন।

জানা গেছে, ২৭টি দাগের ১৩২০ বিঘা এই জমির মালিক চন্ডীচরণ ঘোষ। তার কাছ থেকে বিনিময় সূত্রে এই জমি লাভ করেন কাজী আব্দুল মালেক। এই জমির এসএ রেকর্ডের পর মালিকপক্ষের কাছ থেকে বর্তমান মালিকরা তা কবলা দলিল মূলে ক্রয় করেন। এই জমি দখল করার অসৎ উদ্দেশ্যে জোনাব আলী নামের এক ব্যক্তি ১৮/২০১০ নম্বরের একটি মামলা করেন। মামলাটি এখন বিচারাধীন রয়েছে। এরই মধ্যে তা দখল করে নিয়েছে সুবিধাভোগী মহল। মালিকপক্ষ জানান, ডাকাত সর্দারসহ বেশ কয়েকজন সবসময় সশস্ত্র পাহারায় রয়েছে। তাদের দাবি, এই জমি খাস খতিয়ানভুক্ত। এটা কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন নয়। সাংবাদিক বা অন্য কেউ যাতে গাড়ি নিয়ে সেখানে যেতে না পারে সেজন্য তারা পথে বসিয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড। নারীদের পাহারায় বসিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির বলেন, খলিসাখালির ১৩২০ বিঘা জমির কাছে কয়েক একর খাসজমি রাস্তা ও খালের মধ্যে রয়েছে। বাকি জমি সব ব্যক্তি মালিকানাধীন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় সেখানে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

জানতে চাইলে দেবহাটা থানার ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহ্ জানান, এ বিষয়ে থানায় করা তিনটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন