পরিকল্পিতভাবে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে সরকার: মির্জা ফখরুল
jugantor
পরিকল্পিতভাবে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনাকে পুঁজি করে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে। তারাই আবার (আওয়ামী লীগ) শান্তি মিছিল করেছে। অশান্তি ঘটালেন, আগুন দিলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা, মানুষ হত্যা করলেন; আর এখন শান্তি মিছিল করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন এ দেশের মানুষ অনেক বেশি কষ্ট পাবে। আমাদের সমস্ত অর্জন হারিয়ে যাবে। আমরা আরও বেশি নিচের দিকে নামতে থাকব। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সব সচেতন মানুষ সঙ্গে নিয়ে এই দানবীয় সরকারকে সরানো। এদেরকে সরাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাদা-কালো, বাম-ডান সবাইকে এক হয়ে এই সরকারকে সরাতে হবে। এদের সরিয়ে জনগণের রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে। জনগণের একটা সরকার তৈরি করতে হবে, জনগণের একটা বাসভূমি তৈরি করতে হবে।

এবারের পূজামণ্ডপে মানুষজন কম উপস্থিতি হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকেশ্বরী, বনানীসহ কয়েকটি মন্দিরে গিয়ে দেখেছি- অনেক কম মানুষ। কারণ আমাদের পাড়া-প্রতিবেশী, দেশের স্বাধীন নাগরিক তারা তাদের ধর্মের উৎসব পালন করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভাজন সৃষ্টি করছে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সংগঠনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়। আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, পেশাজীবী নেতা গাজী আব্দুল হক, প্রকৌশলী মিয়া মুহাম্মদ কাইয়ুম, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডা. পারভেজ রেজা কাঁকন, অধ্যাপক আবদুল করীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

আওয়ামী লীগ মিছিল করছে কেন প্রশ্ন মির্জা আব্বাসের : সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মিছিল করে কার কাছে কৈফিয়ত চাইবে? আমরা মিছিল করে প্রতিবাদ করতে পারি, কৈফিয়ত চাইতে পারি সরকারের কাছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কার কাছে দাবি করবে, আমি জানতে চাই। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিল হয়। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগ ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ করে।

সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, এখন তারা যদি মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে, তাহলে কী দাঁড়ায়? মিছিল নিয়ে নয়, গদি ছেড়ে রাস্তায় নামেন। আমার এলাকায় (শাহজাহানপুর) ২৫ ভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন। কেউ বলতে পারবে না যে এলাকায় কোনোদিন দাঙ্গা হয়েছে। আমি মির্জা আব্বাস ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙার সময়ে তাদের পাহারা দিয়েছি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে।

দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করার চক্রান্ত চলছে-রিজভী : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, খাল কেটে কুমির আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু একসময় সে কুমির সবকিছু গ্রাস করবে; আপনি এটা টের পাচ্ছেন না। নানাভাবে উসকানি দিয়ে দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। সরকারকে রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। যে আগুন নিয়ে খেলছেন তাতে সরকার ছারখার হয়ে যাবে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

পরিকল্পিতভাবে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনাকে পুঁজি করে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে। তারাই আবার (আওয়ামী লীগ) শান্তি মিছিল করেছে। অশান্তি ঘটালেন, আগুন দিলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা, মানুষ হত্যা করলেন; আর এখন শান্তি মিছিল করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন এ দেশের মানুষ অনেক বেশি কষ্ট পাবে। আমাদের সমস্ত অর্জন হারিয়ে যাবে। আমরা আরও বেশি নিচের দিকে নামতে থাকব। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সব সচেতন মানুষ সঙ্গে নিয়ে এই দানবীয় সরকারকে সরানো। এদেরকে সরাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাদা-কালো, বাম-ডান সবাইকে এক হয়ে এই সরকারকে সরাতে হবে। এদের সরিয়ে জনগণের রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে। জনগণের একটা সরকার তৈরি করতে হবে, জনগণের একটা বাসভূমি তৈরি করতে হবে।

এবারের পূজামণ্ডপে মানুষজন কম উপস্থিতি হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকেশ্বরী, বনানীসহ কয়েকটি মন্দিরে গিয়ে দেখেছি- অনেক কম মানুষ। কারণ আমাদের পাড়া-প্রতিবেশী, দেশের স্বাধীন নাগরিক তারা তাদের ধর্মের উৎসব পালন করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভাজন সৃষ্টি করছে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সংগঠনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়। আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, পেশাজীবী নেতা গাজী আব্দুল হক, প্রকৌশলী মিয়া মুহাম্মদ কাইয়ুম, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডা. পারভেজ রেজা কাঁকন, অধ্যাপক আবদুল করীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

আওয়ামী লীগ মিছিল করছে কেন প্রশ্ন মির্জা আব্বাসের : সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মিছিল করে কার কাছে কৈফিয়ত চাইবে? আমরা মিছিল করে প্রতিবাদ করতে পারি, কৈফিয়ত চাইতে পারি সরকারের কাছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কার কাছে দাবি করবে, আমি জানতে চাই। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিল হয়। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগ ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ করে।

সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, এখন তারা যদি মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে, তাহলে কী দাঁড়ায়? মিছিল নিয়ে নয়, গদি ছেড়ে রাস্তায় নামেন। আমার এলাকায় (শাহজাহানপুর) ২৫ ভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন। কেউ বলতে পারবে না যে এলাকায় কোনোদিন দাঙ্গা হয়েছে। আমি মির্জা আব্বাস ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙার সময়ে তাদের পাহারা দিয়েছি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে।

দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করার চক্রান্ত চলছে-রিজভী : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, খাল কেটে কুমির আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু একসময় সে কুমির সবকিছু গ্রাস করবে; আপনি এটা টের পাচ্ছেন না। নানাভাবে উসকানি দিয়ে দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। সরকারকে রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। যে আগুন নিয়ে খেলছেন তাতে সরকার ছারখার হয়ে যাবে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন