সরকারি সেবা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী: টিআইবি
jugantor
সরকারি সেবা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী: টিআইবি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এসব সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে বাধা, বৈষম্য ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন। সংস্থাটির মতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা নিশ্চিতে জবাবদিহি ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এ সময় সংকট উত্তরণে ১০ দফা সুপারিশ করে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোস্তফা কামাল।

গবেষণায় দেখা যায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট উপাত্ত নেই। এটি তাদের প্রতি উদাসীনতা ও অবজ্ঞা। ফলে তাদের মূলধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বাধা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি সেবা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রচারে ঘাটতি রয়েছে। আবার আইনি সীমাবদ্ধতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগে ব্যর্থতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বাধার মুখে পড়ে। বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান জবাবদিহি কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়।

দেশের সংবিধানে আছে, নাগরিকের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে অধিকার ও সেবায় তার প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। কিন্তু কিছু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিশেষ অবস্থা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় আইন এবং আলাদা নির্দেশনা থাকে। আইনিভাবে সব আদিবাসীর পরিচয় ও তাদের ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন থাকলেও সমতলে বসবাসরত বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি কমিশন নেই। আবার বৈষম্যবিরোধী আইন না থাকায় বেশকিছু ক্ষেত্রে অধিকারবঞ্চিত হলেও মামলা করা যায় না।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সেবাপ্রাপ্তি থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত। অভিযোগ দায়ের করলেও তখন তারা বাধাগ্রস্ত ও হুমকির সম্মুখীন হন। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশ মূলত প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করেন। তাদের মানসিকতাও অনেক সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গণতান্ত্রিক দেশে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংকট উত্তরণে ১০টি সুপারিশ করে টিআইবি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-বিভিন্ন সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে বাধা দূর করা, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত প্রণয়ন করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে এবং গণমাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের ভাষায় যথাযথ এবং নিয়মিত প্রচার।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ গবেষণায় গত বছর অক্টোবর থেকে এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাদের মানদণ্ড ধরে গবেষণা করা হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার, দলিত, চা বাগান শ্রমিক ও হিজড়া জনগোষ্ঠী।

সরকারি সেবা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী: টিআইবি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এসব সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে বাধা, বৈষম্য ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন। সংস্থাটির মতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা নিশ্চিতে জবাবদিহি ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এ সময় সংকট উত্তরণে ১০ দফা সুপারিশ করে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোস্তফা কামাল।

গবেষণায় দেখা যায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট উপাত্ত নেই। এটি তাদের প্রতি উদাসীনতা ও অবজ্ঞা। ফলে তাদের মূলধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বাধা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি সেবা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রচারে ঘাটতি রয়েছে। আবার আইনি সীমাবদ্ধতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগে ব্যর্থতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বাধার মুখে পড়ে। বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান জবাবদিহি কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়।

দেশের সংবিধানে আছে, নাগরিকের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে অধিকার ও সেবায় তার প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। কিন্তু কিছু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিশেষ অবস্থা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় আইন এবং আলাদা নির্দেশনা থাকে। আইনিভাবে সব আদিবাসীর পরিচয় ও তাদের ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন থাকলেও সমতলে বসবাসরত বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি কমিশন নেই। আবার বৈষম্যবিরোধী আইন না থাকায় বেশকিছু ক্ষেত্রে অধিকারবঞ্চিত হলেও মামলা করা যায় না।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সেবাপ্রাপ্তি থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত। অভিযোগ দায়ের করলেও তখন তারা বাধাগ্রস্ত ও হুমকির সম্মুখীন হন। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশ মূলত প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করেন। তাদের মানসিকতাও অনেক সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গণতান্ত্রিক দেশে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংকট উত্তরণে ১০টি সুপারিশ করে টিআইবি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-বিভিন্ন সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে বাধা দূর করা, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত প্রণয়ন করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে এবং গণমাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের ভাষায় যথাযথ এবং নিয়মিত প্রচার।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ গবেষণায় গত বছর অক্টোবর থেকে এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাদের মানদণ্ড ধরে গবেষণা করা হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার, দলিত, চা বাগান শ্রমিক ও হিজড়া জনগোষ্ঠী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন