দক্ষিণের স্বপ্ন-আশার পথে বাধা অতিরিক্ত টোল
jugantor
আগামীকাল পায়রা সেতুর উদ্বোধন
দক্ষিণের স্বপ্ন-আশার পথে বাধা অতিরিক্ত টোল

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আর মাত্র একদিন পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামীকাল রোববার বহুল কাঙ্ক্ষিত পায়রা সেতুর উদ্বোধন করা হবে। এ উপলক্ষ্যে সেতুটিতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। রাতে শুধু সেতু নয়, পুরো পায়রা নদী ঝলমল করে উজ্জ্বল আলোয়।

তবে এ স্বপ্ন আর আশার গুড়ে বালি ফেলেছে সেতুটির অতিরিক্ত টোল। বেশি হারে টোল ধরার আপত্তি জানিয়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষসহ যানবাহন মালিকরা।

রোববার সকাল ১০টায় ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী ভ্রমণপিপাসু মানুষেরও আগ্রহের শেষ নেই এ সেতু ঘিরে। এছাড়া সেতুটির উদ্বোধন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বরিশালসহ দক্ষিণের ছয় জেলা। পায়রা সেতু উন্মোচনের পর পদ্মা পার থেকে বরিশাল হয়ে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা কিংবা সমুদ্রবন্দর পায়রা পর্যন্ত যেতে প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার পথে কোনো ফেরি থাকবে না। ফলে বরিশাল থেকে মাত্র ২ ঘণ্টায় কুয়াকাটায় পৌঁছানো যাবে।

এছাড়া পদ্মা পাড়ির সময়টুকু বাদ দিলে রাজধানী ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় পৌঁছতে মাত্র ৫ ঘণ্টা লাগবে। আগামী বছর পদ্মা সেতু চালু হলে এ সময় আরও কমে আসবে। তখন সাড়ে ৩ ঘণ্টা থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। এক সময় বরিশাল থেকে সড়কপথে কুয়াকাটা যেতে সময় লাগত ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা। কীর্তনখোলা আর পায়রাসহ বরিশাল-পটুয়াখালীর ছয়টি নদী পার হয়ে পৌঁছতে হতো কুয়াকাটায়।

বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, তখন সূর্যোদয়ের সময় বরিশাল থেকে রওয়ানা হয়েও কুয়াকাটায় গিয়ে সূর্যাস্ত দেখা কঠিন হয়ে পড়ত। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ছয়টি নদীর মধ্যে পাঁচটিতেই সেতু হয়েছে। বাকি থাকা পায়রা নদীর উপরও দাঁড়িয়েছে গর্বের সেতু। ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই নির্মাণ শুরু হওয়া পায়রা সেতু রোববার যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

তবে এত স্বপ্ন আর আশায় গুড়ে বালি ফেলেছে পায়রা সেতুর টোল নিয়ে। এ সেতু পারাপারে বর্তমানে চলাচলকারী ফেরির তুলনায় ক্ষেত্র বিশেষে তিন থেকে সাতগুণ পর্যন্ত বেশি হারে টোল ধরা হয়েছে। আর এতেই আপত্তি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষসহ যানবাহন মালিকদের। এ অতিরিক্ত টোলের কারণে বাস-ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধি করার কথা পর্যন্ত বলছে এখানকার মালিক সমিতিগুলো। সব মিলিয়ে এ ইস্যুতেই যেন ম্লান হতে বসেছে পায়রা সেতুর উপকারের দিকগুলো।

উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার প্রায় দেড় মাস আগে সেতুটি পারাপারে যানবাহনের টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আর এ টোল নিয়ে চলছে ক্ষোভ আর বিতর্ক। ফেরি পারাপারে আগে যেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া ছিল ৫০ টাকা সেখানে ৩৪০ টাকা টোল ধরা হয়েছে। ৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে ফেরি পার হওয়ার জায়গায় যাত্রীকে দিতে হবে ৯৫ টাকা।

একইভাবে ফোর হুইল গাড়ির ভাড়া ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা, ট্রাকের ভাড়া ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা, মোটরসাইকেলের ভাড়া ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করেছে মন্ত্রণালয়। অন্যসব যানবাহনের ক্ষেত্রেও একই হারে বাড়ানো হয়েছে টাকার পরিমাণ।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, ২৫ আসনের একটি মিনিবাস বরিশাল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা পটুয়াখালী যেতে ভাড়া নেওয়া হয় মাথাপিছু ৮০ টাকা। এ পথে আরও দুটি সেতু রয়েছে। ওই দুই সেতুতে ৫০ টাকা করে টোল দেই আমরা। সঙ্গে রয়েছে কর্মচারী বেতন এবং জ্বালানি ব্যয়। পায়রা সেতুতে ৩৪০ টাকা টোল দিতে হলে প্রতি রাউন্ড ট্রিপে আমাদের গুনতে হবে ৬৮০ টাকা। এতে করে লোকসানের মুখে পড়বেন বাস মালিকরা। বিষয়টি সম্পর্কে লিখিতভাবে জানিয়েছি আমরা। এরপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া আমাদের আরও কোনো গতি থাকবে না।

এ রুটে নিয়মিত ট্রাকে পণ্য পরিবহণ করা চালক নূর ইসলাম বলেন, সেতুর ক্ষেত্রে টোল বাড়তে পারে। কিন্তু ৩-৪ গুণ ভাড়া বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। আসা-যাওয়ায় ১২শ থেকে ১৪শ টাকা অতিরিক্ত টোল দিতে হলে ট্রাকের ভাড়া একই হারে বাড়াবে। লোকসান দিয়ে তো আর কেউ গাড়ি চালাবেন না।

নিয়মিত পটুয়াখালী গিয়ে অফিস করা বরিশালের ব্যাংককর্মী সোহেল রহমান জানান, মোটরসাইকেলের ভাড়া ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে। এটা তো ঠিক নয়। মধ্যবিত্তের বাহন হিসাবে মোটরসাইকেলের টোল হার নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্টদের আরেকটু চিন্তা-ভাবনা করা উচিত ছিল।

বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নিজামউদ্দিন বলেন, এ সেতু ঘিরে দক্ষিণের মানুষের এখন অনেক স্বপ্ন। কম সময়ে যাতায়াত মানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। সেই এগিয়ে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত টোল বাধা সৃষ্টি করলে তা সত্যিই দুঃখজনক। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব সরকার যেন পুরো বিষয়টি নতুন করে ভেবে দেখে। সেক্ষেত্রে সুখ স্বপ্নের পথে বর্তমান যেটুকু দুশ্চিন্তা তাও আর থাকবে না।

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল হালিম বলেন, সর্বোচ্চ জোয়ারেও নদীর উপরিভাগ থেকে ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচুতে থাকবে এ সেতু। চার লেন বিশিষ্ট সেতুর উভয় পাশে ১ হাজার ২৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে অ্যাপ্রোচ রোড নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম পায়রা সেতুতে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম বসানো হয়েছে। ভূমিকম্প, বজ্রপাত এবং ওভারলোডেড গাড়ির ক্ষেত্রে এ সিস্টেম আগাম সংকেত দেবে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা মুক্ত থাকবে সেতু।

টোল নির্ধারণের বিষয়ে আব্দুল হালিম বলেন, টোল নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। জানা গেছে, ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের ৮২ ভাগের জোগান দিয়েছে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপেক্স ফান্ড। কর্ণফুলী সেতুর মতো এটিও নির্মিত হয়েছে এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল পদ্ধতিতে। ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্টের কারণে দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি শূন্যে ভেসে আছে। ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ১৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে বেশ কিছু পাইল বসানো হয়েছে। এসব পাইল পদ্মা সেতুতে বসানো পাইলের চেয়েও বড়। ৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ ১০টি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত।

আগামীকাল পায়রা সেতুর উদ্বোধন

দক্ষিণের স্বপ্ন-আশার পথে বাধা অতিরিক্ত টোল

 আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আর মাত্র একদিন পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামীকাল রোববার বহুল কাঙ্ক্ষিত পায়রা সেতুর উদ্বোধন করা হবে। এ উপলক্ষ্যে সেতুটিতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। রাতে শুধু সেতু নয়, পুরো পায়রা নদী ঝলমল করে উজ্জ্বল আলোয়।

তবে এ স্বপ্ন আর আশার গুড়ে বালি ফেলেছে সেতুটির অতিরিক্ত টোল। বেশি হারে টোল ধরার আপত্তি জানিয়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষসহ যানবাহন মালিকরা।

রোববার সকাল ১০টায় ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী ভ্রমণপিপাসু মানুষেরও আগ্রহের শেষ নেই এ সেতু ঘিরে। এছাড়া সেতুটির উদ্বোধন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বরিশালসহ দক্ষিণের ছয় জেলা। পায়রা সেতু উন্মোচনের পর পদ্মা পার থেকে বরিশাল হয়ে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা কিংবা সমুদ্রবন্দর পায়রা পর্যন্ত যেতে প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার পথে কোনো ফেরি থাকবে না। ফলে বরিশাল থেকে মাত্র ২ ঘণ্টায় কুয়াকাটায় পৌঁছানো যাবে।

এছাড়া পদ্মা পাড়ির সময়টুকু বাদ দিলে রাজধানী ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় পৌঁছতে মাত্র ৫ ঘণ্টা লাগবে। আগামী বছর পদ্মা সেতু চালু হলে এ সময় আরও কমে আসবে। তখন সাড়ে ৩ ঘণ্টা থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। এক সময় বরিশাল থেকে সড়কপথে কুয়াকাটা যেতে সময় লাগত ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা। কীর্তনখোলা আর পায়রাসহ বরিশাল-পটুয়াখালীর ছয়টি নদী পার হয়ে পৌঁছতে হতো কুয়াকাটায়।

বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, তখন সূর্যোদয়ের সময় বরিশাল থেকে রওয়ানা হয়েও কুয়াকাটায় গিয়ে সূর্যাস্ত দেখা কঠিন হয়ে পড়ত। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ছয়টি নদীর মধ্যে পাঁচটিতেই সেতু হয়েছে। বাকি থাকা পায়রা নদীর উপরও দাঁড়িয়েছে গর্বের সেতু। ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই নির্মাণ শুরু হওয়া পায়রা সেতু রোববার যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

তবে এত স্বপ্ন আর আশায় গুড়ে বালি ফেলেছে পায়রা সেতুর টোল নিয়ে। এ সেতু পারাপারে বর্তমানে চলাচলকারী ফেরির তুলনায় ক্ষেত্র বিশেষে তিন থেকে সাতগুণ পর্যন্ত বেশি হারে টোল ধরা হয়েছে। আর এতেই আপত্তি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষসহ যানবাহন মালিকদের। এ অতিরিক্ত টোলের কারণে বাস-ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধি করার কথা পর্যন্ত বলছে এখানকার মালিক সমিতিগুলো। সব মিলিয়ে এ ইস্যুতেই যেন ম্লান হতে বসেছে পায়রা সেতুর উপকারের দিকগুলো।

উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার প্রায় দেড় মাস আগে সেতুটি পারাপারে যানবাহনের টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আর এ টোল নিয়ে চলছে ক্ষোভ আর বিতর্ক। ফেরি পারাপারে আগে যেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া ছিল ৫০ টাকা সেখানে ৩৪০ টাকা টোল ধরা হয়েছে। ৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে ফেরি পার হওয়ার জায়গায় যাত্রীকে দিতে হবে ৯৫ টাকা।

একইভাবে ফোর হুইল গাড়ির ভাড়া ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা, ট্রাকের ভাড়া ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা, মোটরসাইকেলের ভাড়া ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করেছে মন্ত্রণালয়। অন্যসব যানবাহনের ক্ষেত্রেও একই হারে বাড়ানো হয়েছে টাকার পরিমাণ।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, ২৫ আসনের একটি মিনিবাস বরিশাল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা পটুয়াখালী যেতে ভাড়া নেওয়া হয় মাথাপিছু ৮০ টাকা। এ পথে আরও দুটি সেতু রয়েছে। ওই দুই সেতুতে ৫০ টাকা করে টোল দেই আমরা। সঙ্গে রয়েছে কর্মচারী বেতন এবং জ্বালানি ব্যয়। পায়রা সেতুতে ৩৪০ টাকা টোল দিতে হলে প্রতি রাউন্ড ট্রিপে আমাদের গুনতে হবে ৬৮০ টাকা। এতে করে লোকসানের মুখে পড়বেন বাস মালিকরা। বিষয়টি সম্পর্কে লিখিতভাবে জানিয়েছি আমরা। এরপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া আমাদের আরও কোনো গতি থাকবে না।

এ রুটে নিয়মিত ট্রাকে পণ্য পরিবহণ করা চালক নূর ইসলাম বলেন, সেতুর ক্ষেত্রে টোল বাড়তে পারে। কিন্তু ৩-৪ গুণ ভাড়া বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। আসা-যাওয়ায় ১২শ থেকে ১৪শ টাকা অতিরিক্ত টোল দিতে হলে ট্রাকের ভাড়া একই হারে বাড়াবে। লোকসান দিয়ে তো আর কেউ গাড়ি চালাবেন না।

নিয়মিত পটুয়াখালী গিয়ে অফিস করা বরিশালের ব্যাংককর্মী সোহেল রহমান জানান, মোটরসাইকেলের ভাড়া ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে। এটা তো ঠিক নয়। মধ্যবিত্তের বাহন হিসাবে মোটরসাইকেলের টোল হার নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্টদের আরেকটু চিন্তা-ভাবনা করা উচিত ছিল।

বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নিজামউদ্দিন বলেন, এ সেতু ঘিরে দক্ষিণের মানুষের এখন অনেক স্বপ্ন। কম সময়ে যাতায়াত মানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। সেই এগিয়ে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত টোল বাধা সৃষ্টি করলে তা সত্যিই দুঃখজনক। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব সরকার যেন পুরো বিষয়টি নতুন করে ভেবে দেখে। সেক্ষেত্রে সুখ স্বপ্নের পথে বর্তমান যেটুকু দুশ্চিন্তা তাও আর থাকবে না।

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল হালিম বলেন, সর্বোচ্চ জোয়ারেও নদীর উপরিভাগ থেকে ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচুতে থাকবে এ সেতু। চার লেন বিশিষ্ট সেতুর উভয় পাশে ১ হাজার ২৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে অ্যাপ্রোচ রোড নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম পায়রা সেতুতে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম বসানো হয়েছে। ভূমিকম্প, বজ্রপাত এবং ওভারলোডেড গাড়ির ক্ষেত্রে এ সিস্টেম আগাম সংকেত দেবে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা মুক্ত থাকবে সেতু।

টোল নির্ধারণের বিষয়ে আব্দুল হালিম বলেন, টোল নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। জানা গেছে, ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের ৮২ ভাগের জোগান দিয়েছে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপেক্স ফান্ড। কর্ণফুলী সেতুর মতো এটিও নির্মিত হয়েছে এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল পদ্ধতিতে। ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্টের কারণে দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি শূন্যে ভেসে আছে। ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ১৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে বেশ কিছু পাইল বসানো হয়েছে। এসব পাইল পদ্মা সেতুতে বসানো পাইলের চেয়েও বড়। ৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ ১০টি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন