সড়কে শৃঙ্খলা আনাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ: ওবায়দুল কাদের
jugantor
সড়কে শৃঙ্খলা আনাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ: ওবায়দুল কাদের

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ওবায়দুল কাদের

অনেক মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বিস্তর উন্নয়নের পরও সড়ককে নিরাপদ না রাখতে পেরে ‘স্বস্তিতে নেই’ সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশে এত রাস্তা, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, সীমান্ত সড়ক, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ হচ্ছে। তারপরও আমরা কেন সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পারব না। এখন মূল সংকট শৃঙ্খলার, পরিবহণে ও সড়কে। এখানে যদি আমরা ব্যর্থ হই, তবে আমাদের সব উন্নয়ন ব্যর্থ হয়ে যাবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, এতকিছু করার পরও আমি স্বস্তি পাচ্ছি না। আমরা সড়কে শৃঙ্খলা কেন আনতে পারব না? সড়কে শৃঙ্খলা আনাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।

শুক্রবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ। এবারের জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের স্লোগান-‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য দেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর। অনুষ্ঠানে গত ৯ মাসে সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জন্য কী পরিমাণ জরিমানা আদায় করা হয়েছে সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম। তার এ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, কত টাকা জরিমানা তুলেছেন, এটার হিসাব দিয়ে কোনো লাভ নেই। এটা কোনো বিষয় নয়। আমার কাছে বিষয় হলো সড়ক নিরাপদ আছে কিনা। গাড়িগুলো নিয়মমতো চলছে কিনা, গাড়ির ফিটনেস আছে কিনা, চালকের ফিটনেস-গাড়ির চালক গাড়ি চালাবার যোগ্য কিনা, গাড়ি ওভারলোডেড কিনা, গাড়ি বেশি গতিতে চলছে কিনা-আমি এটাই দেখব। আমার কাছে বিষয় হলো দুর্ঘটনা কমেছে কিনা। দুর্ঘটনা ‘অবিরাম দুর্ভাবনার কারণ হয়ে আছে’- মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিনই ঘটছে। পাখির মতো মানুষ মরে, মাছির মতো মানুষ মরে। এ মর্মান্তিক দৃশ্যপট মানুষ হিসাবে সইতে পারি না। অনেক কষ্ট হয়। অনেক ত্রুটি আমাদের আছে সেটা তো অস্বীকার করে লাভ নেই। সুন্দর সুন্দর ব্যানার পোস্টার করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ সড়ক দিবস করতে হবে প্রতিদিন।

প্রতিদিন সড়কে মৃত্যুর খবর মনের ওপর কতটা চাপ ফেলে সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবার দিন শুরু হয় একভাবে, আর আমার দিন শুরু হয় অন্যভাবে। কাগজের পাতার অপ্রত্যাশিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পড়ে আমার দিন শুরু হয়। মন্ত্রী হলেও আমি তো মানুষ। আমারও কষ্ট হয়। আমিও দগ্ধ হই অদেখা দহনে। মনে হয় আমিও সেই অসহায় পরিবারের একজন। যে পরিবারের কয়েকজনও একসঙ্গে পথের বলি হয়। কখনো দুই পরিবহণের সংঘর্ষে। কখনো তিন চাকার গাড়ি ইজিবাইকে, নসিমন, করিমনে। আগামী বছর সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি বড় প্রকল্পের উদ্বোধন হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগতভাবে পরিবর্তন দৃশ্যমান। আগামী বছর সড়কে আমি তো বলব বৈপ্লবিক পরিবর্তন পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। এত উন্নয়নমূলক কাজের পরও ‘স্বস্তি পাচ্ছেন না’ জানিয়ে কাদের বলেন, মন্ত্রণালয় নিয়মিত চালাচ্ছি। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, দশ বছর একাধারে আছি, এই মন্ত্রণালয়ে কোনো কমিশন, কোনো প্রমোশন বাণিজ্য কখনো করিনি। আমার বিবেকের কাছে আমি পরিষ্কার। এ মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক তদবিরও বন্ধ করেছি।

বিআরটিএ’র দুর্নীতির কথা তুলে ধরে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক তদবিরে সবাই মিরপুরে না হলে ইকোরিয়ায় (কেরানীগঞ্জ) আসতে চায়। টাকার খনি আছে ওখানে। যেখানে গাড়ি বেশি, সেখানে সবাই ট্রান্সফার হয়ে যেতে চায়। এসব অপকর্ম আমি বন্ধ করেছি। বিআরটিএ চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি বলব, যা বন্ধ হয়নি সেটা বন্ধ করেন। এখনো বিআরটিএ অফিসগুলোতে ‘সর্ষের মধ্যে ভূত’। এই ভূত হলো দালাল। ভেতরের আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেলে কীভাবে বাইরে থেকে তারা দৌরাত্ম্য করে? এগুলো বন্ধ করতে হবে যে কোনো মূল্যে। আমি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা কাউকে অ্যালাউ করি না। বিআরটিএ’তে যে অপকর্ম যারা করে, তাদের ভালো হয়ে যেতে বলুন। এগুলো নিয়ে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নিন।

আলোচনায় উপস্থিত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অনেক ইঞ্জিনিয়ার ভালো কাজ করেন। কিন্তু কেউ কেউ যে কাজ করেন, এক পশলা বৃষ্টি হলেই সেই রাস্তা ভেসে যায়। এ রাস্তা করার কোনো দরকার আছে? কাজের মান ঠিক রাখুন। যারা ভালো কাজ করে, আমি তাদের প্রশংসা করব। এক বছরের মধ্যে কিছু চার লেন রাস্তা এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। দেশের টাকা খরচ করে এই রাস্তা করার দরকারটা কী? মহাসড়কে চালকদের জন্য নির্মাণাধীন বিশ্রামাগার প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী।

মহাসড়কে তিন চাকার বাহন বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইজিবাইক গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ২২টি সড়কে আমরা নিষিদ্ধ করেছি। কিন্তু অনেক জায়গায় নিষেধ মানা হচ্ছে না। মানা হয়নি। আর ইদানীং নতুন উপদ্রব হচ্ছে মোটরসাইকেল।

সড়কে শৃঙ্খলা আনাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ: ওবায়দুল কাদের

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ওবায়দুল কাদের
ফাইল ছবি

অনেক মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বিস্তর উন্নয়নের পরও সড়ককে নিরাপদ না রাখতে পেরে ‘স্বস্তিতে নেই’ সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশে এত রাস্তা, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, সীমান্ত সড়ক, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ হচ্ছে। তারপরও আমরা কেন সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পারব না। এখন মূল সংকট শৃঙ্খলার, পরিবহণে ও সড়কে। এখানে যদি আমরা ব্যর্থ হই, তবে আমাদের সব উন্নয়ন ব্যর্থ হয়ে যাবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, এতকিছু করার পরও আমি স্বস্তি পাচ্ছি না। আমরা সড়কে শৃঙ্খলা কেন আনতে পারব না? সড়কে শৃঙ্খলা আনাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।

শুক্রবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ। এবারের জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের স্লোগান-‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য দেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর। অনুষ্ঠানে গত ৯ মাসে সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জন্য কী পরিমাণ জরিমানা আদায় করা হয়েছে সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম। তার এ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, কত টাকা জরিমানা তুলেছেন, এটার হিসাব দিয়ে কোনো লাভ নেই। এটা কোনো বিষয় নয়। আমার কাছে বিষয় হলো সড়ক নিরাপদ আছে কিনা। গাড়িগুলো নিয়মমতো চলছে কিনা, গাড়ির ফিটনেস আছে কিনা, চালকের ফিটনেস-গাড়ির চালক গাড়ি চালাবার যোগ্য কিনা, গাড়ি ওভারলোডেড কিনা, গাড়ি বেশি গতিতে চলছে কিনা-আমি এটাই দেখব। আমার কাছে বিষয় হলো দুর্ঘটনা কমেছে কিনা। দুর্ঘটনা ‘অবিরাম দুর্ভাবনার কারণ হয়ে আছে’- মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিনই ঘটছে। পাখির মতো মানুষ মরে, মাছির মতো মানুষ মরে। এ মর্মান্তিক দৃশ্যপট মানুষ হিসাবে সইতে পারি না। অনেক কষ্ট হয়। অনেক ত্রুটি আমাদের আছে সেটা তো অস্বীকার করে লাভ নেই। সুন্দর সুন্দর ব্যানার পোস্টার করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ সড়ক দিবস করতে হবে প্রতিদিন।

প্রতিদিন সড়কে মৃত্যুর খবর মনের ওপর কতটা চাপ ফেলে সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবার দিন শুরু হয় একভাবে, আর আমার দিন শুরু হয় অন্যভাবে। কাগজের পাতার অপ্রত্যাশিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পড়ে আমার দিন শুরু হয়। মন্ত্রী হলেও আমি তো মানুষ। আমারও কষ্ট হয়। আমিও দগ্ধ হই অদেখা দহনে। মনে হয় আমিও সেই অসহায় পরিবারের একজন। যে পরিবারের কয়েকজনও একসঙ্গে পথের বলি হয়। কখনো দুই পরিবহণের সংঘর্ষে। কখনো তিন চাকার গাড়ি ইজিবাইকে, নসিমন, করিমনে। আগামী বছর সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি বড় প্রকল্পের উদ্বোধন হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগতভাবে পরিবর্তন দৃশ্যমান। আগামী বছর সড়কে আমি তো বলব বৈপ্লবিক পরিবর্তন পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। এত উন্নয়নমূলক কাজের পরও ‘স্বস্তি পাচ্ছেন না’ জানিয়ে কাদের বলেন, মন্ত্রণালয় নিয়মিত চালাচ্ছি। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, দশ বছর একাধারে আছি, এই মন্ত্রণালয়ে কোনো কমিশন, কোনো প্রমোশন বাণিজ্য কখনো করিনি। আমার বিবেকের কাছে আমি পরিষ্কার। এ মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক তদবিরও বন্ধ করেছি।

বিআরটিএ’র দুর্নীতির কথা তুলে ধরে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক তদবিরে সবাই মিরপুরে না হলে ইকোরিয়ায় (কেরানীগঞ্জ) আসতে চায়। টাকার খনি আছে ওখানে। যেখানে গাড়ি বেশি, সেখানে সবাই ট্রান্সফার হয়ে যেতে চায়। এসব অপকর্ম আমি বন্ধ করেছি। বিআরটিএ চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি বলব, যা বন্ধ হয়নি সেটা বন্ধ করেন। এখনো বিআরটিএ অফিসগুলোতে ‘সর্ষের মধ্যে ভূত’। এই ভূত হলো দালাল। ভেতরের আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেলে কীভাবে বাইরে থেকে তারা দৌরাত্ম্য করে? এগুলো বন্ধ করতে হবে যে কোনো মূল্যে। আমি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা কাউকে অ্যালাউ করি না। বিআরটিএ’তে যে অপকর্ম যারা করে, তাদের ভালো হয়ে যেতে বলুন। এগুলো নিয়ে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নিন।

আলোচনায় উপস্থিত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অনেক ইঞ্জিনিয়ার ভালো কাজ করেন। কিন্তু কেউ কেউ যে কাজ করেন, এক পশলা বৃষ্টি হলেই সেই রাস্তা ভেসে যায়। এ রাস্তা করার কোনো দরকার আছে? কাজের মান ঠিক রাখুন। যারা ভালো কাজ করে, আমি তাদের প্রশংসা করব। এক বছরের মধ্যে কিছু চার লেন রাস্তা এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। দেশের টাকা খরচ করে এই রাস্তা করার দরকারটা কী? মহাসড়কে চালকদের জন্য নির্মাণাধীন বিশ্রামাগার প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী।

মহাসড়কে তিন চাকার বাহন বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইজিবাইক গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ২২টি সড়কে আমরা নিষিদ্ধ করেছি। কিন্তু অনেক জায়গায় নিষেধ মানা হচ্ছে না। মানা হয়নি। আর ইদানীং নতুন উপদ্রব হচ্ছে মোটরসাইকেল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন