সরকারের মদদে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
jugantor
সরকারের মদদে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের মদদে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকারের মদদ ছাড়া কখনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি হয় না। যারা সরকারে থাকে তারাই করে। সারা দেশে পূজামণ্ডপে সংঘটিত হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে সরকারকে উদ্দেশে করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কেন আপনারা (সরকার) ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে গেল সেখানে পুলিশ পাঠালেন না? পুলিশ গেল না কেন বা পুলিশ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নিল না। কেন এটা হলো? কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া যুবক ইকবাল হোসেন এতদিন কোথায় ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শুক্রবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ সভা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন ইকবাল নামের একজন অপ্রকৃতিস্থ এবং মাদকসেবীকে ধরা হয়েছে। এটা (ইকবাল) এতদিন কোথায় ছিল? এ বিশ্বাসটা কে করবে? কারা তাকে সেখানে নিল?

তিনি বলেন, রংপুরের ঘটনায় দেখলাম একদিকে ওসি, চেয়ারম্যান সবাই মিলে আলোচনা করছে, একটা আপস করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বাইরে থেকে এসে লোকজন মাঝিপাড়া জ্বালিয়ে দিয়েছে। দুর্ভাগ্য আমাদের। তাহলে কি আমরা বলব যে, তাদের ছত্রছায়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক) কী করলেন? যখনই সেদিন ঘটনাগুলো ঘটল প্রথমে তিনি (ওবায়দুল কাদের) বললেন, এটা বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা করেছে। কথায় কথায় উনি একটাই কথা বলবেন যে, যত দোষ নন্দ ঘোষ। আপনাদের চরম ব্যর্থতা, আজকে এ সমাজে কোনো মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারেন না।

তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবেন, মুসিলম ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবেন, বৌদ্ধরা ও খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবেন-এটাই তো বাংলাদেশ। অথচ আপনারা (সরকার) কী করছেন? অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছেন; যা হাজার বছর ধরে চলে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে শুধু মানুষের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সরকার এ বিষয়টাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার একেক সময়ে একেকটা বিভাজন তৈরি করছে। সেই বিভাজনে একেক সময় একেকটাকে সামনে নিয়ে আসে। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তি, বিপক্ষের শক্তি। এখন তারা ধর্মীয় বিভাজনে নেমে পড়েছে কি করে মানুষের মূল যে সমস্যা তা থেকে তাদের বিভ্রান্ত করা যায়। আমাদের সমস্যা এখন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, আমরা ভোট দিতে পারি না। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমাদের অধিকারগুলো নেই, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই জায়গাগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে এসে একটা সাম্প্রদায়িক সংকট, সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি করছে।

দেশের অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ দুঃসহ অবস্থার মধ্যে বাস করছে। একদিকে প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। চাল, তেল, লবণ, চিনির দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু মানুষের প্রকৃত আয় বাড়েনি। যার ফলে মানুষ গরিব থেকে আরও গরিব হচ্ছে। আর আওয়ামী লীগের লুটেরারা ধনী থেকে ধনী হচ্ছে। দুর্নীতি এমন একটা পর্যায় গেছে এখন বলা হয় যে, সিস্টেম অব দ্য স্টেট হচ্ছে দুর্নীতি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে জনগণের ঐক্য সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে সরকার হটানোর জন্য দলমত নির্বিশেষে আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরা খাতুন জুঁই ও মেজবাউল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন-জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির একাংশের শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, জাগাপার একাংশের খন্দকার লুৎফুর রহমান, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারুক রহমান, সহ-সভাপতি এসএম ইউসুফ আলী, রামকৃষ্ণ সাহা প্রমুখ।

সরকারের মদদে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের মদদে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকারের মদদ ছাড়া কখনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি হয় না। যারা সরকারে থাকে তারাই করে। সারা দেশে পূজামণ্ডপে সংঘটিত হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে সরকারকে উদ্দেশে করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কেন আপনারা (সরকার) ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে গেল সেখানে পুলিশ পাঠালেন না? পুলিশ গেল না কেন বা পুলিশ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নিল না। কেন এটা হলো? কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া যুবক ইকবাল হোসেন এতদিন কোথায় ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শুক্রবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ সভা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন ইকবাল নামের একজন অপ্রকৃতিস্থ এবং মাদকসেবীকে ধরা হয়েছে। এটা (ইকবাল) এতদিন কোথায় ছিল? এ বিশ্বাসটা কে করবে? কারা তাকে সেখানে নিল?

তিনি বলেন, রংপুরের ঘটনায় দেখলাম একদিকে ওসি, চেয়ারম্যান সবাই মিলে আলোচনা করছে, একটা আপস করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বাইরে থেকে এসে লোকজন মাঝিপাড়া জ্বালিয়ে দিয়েছে। দুর্ভাগ্য আমাদের। তাহলে কি আমরা বলব যে, তাদের ছত্রছায়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক) কী করলেন? যখনই সেদিন ঘটনাগুলো ঘটল প্রথমে তিনি (ওবায়দুল কাদের) বললেন, এটা বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা করেছে। কথায় কথায় উনি একটাই কথা বলবেন যে, যত দোষ নন্দ ঘোষ। আপনাদের চরম ব্যর্থতা, আজকে এ সমাজে কোনো মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারেন না।

তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবেন, মুসিলম ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবেন, বৌদ্ধরা ও খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবেন-এটাই তো বাংলাদেশ। অথচ আপনারা (সরকার) কী করছেন? অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছেন; যা হাজার বছর ধরে চলে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে শুধু মানুষের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সরকার এ বিষয়টাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার একেক সময়ে একেকটা বিভাজন তৈরি করছে। সেই বিভাজনে একেক সময় একেকটাকে সামনে নিয়ে আসে। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তি, বিপক্ষের শক্তি। এখন তারা ধর্মীয় বিভাজনে নেমে পড়েছে কি করে মানুষের মূল যে সমস্যা তা থেকে তাদের বিভ্রান্ত করা যায়। আমাদের সমস্যা এখন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, আমরা ভোট দিতে পারি না। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমাদের অধিকারগুলো নেই, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই জায়গাগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে এসে একটা সাম্প্রদায়িক সংকট, সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি করছে।

দেশের অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ দুঃসহ অবস্থার মধ্যে বাস করছে। একদিকে প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। চাল, তেল, লবণ, চিনির দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু মানুষের প্রকৃত আয় বাড়েনি। যার ফলে মানুষ গরিব থেকে আরও গরিব হচ্ছে। আর আওয়ামী লীগের লুটেরারা ধনী থেকে ধনী হচ্ছে। দুর্নীতি এমন একটা পর্যায় গেছে এখন বলা হয় যে, সিস্টেম অব দ্য স্টেট হচ্ছে দুর্নীতি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে জনগণের ঐক্য সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে সরকার হটানোর জন্য দলমত নির্বিশেষে আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরা খাতুন জুঁই ও মেজবাউল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন-জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির একাংশের শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, জাগাপার একাংশের খন্দকার লুৎফুর রহমান, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারুক রহমান, সহ-সভাপতি এসএম ইউসুফ আলী, রামকৃষ্ণ সাহা প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন