অর্থ পরিশোধের শর্তে ইয়াসিরের জামিন
jugantor
লালবাগের প্রতারক মমতাজের ভাই
অর্থ পরিশোধের শর্তে ইয়াসিরের জামিন
আগে পলিথিনের ব্যবসা করলেও প্রতারণাই এখন মমতাজ জাফরের একমাত্র ব্যবসা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যথাসময়ে অর্থ পরিশোধের শর্তে প্রতারণার মামলায় জামিন পেয়েছেন লালবাগে কথিত ব্যবসায়ী মমতাজ জাফরের ভাই ইয়াসির সামসি। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিনের এ আদেশ দেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। অর্থ পরিশোধ না করলে আদালত চাইলে আসামির জামিন বাতিল করতে পারেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এর আগে আদালত আসামি ইয়াসিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর লালবাগ থানার এসআই কৃষ্ণের নেতৃত্ব আসামির ধানমন্ডির বাসায় গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে এএসআই বাবুলের নেতৃত্বে পুরান ঢাকার ১৫১ লালবাগ রোডের সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সে আসামি গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। সেখানেও আসামিকে পায়নি পুলিশ। পরবর্তী সময়ে দুদিন আদালতে এলেও আত্মসমর্পণ করে জামিন না চেয়েই আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন বলে যুগান্তরকে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সের মালিক ব্যবসায়ী হাজি মমতাজ জাফরের প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেরই পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক দানা ও পলিথিনের কাঁচামাল কিনে টাকা না দিয়ে চেক দিয়ে অভিনব কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন তারা। প্রতারণার শিকার এমকাবা লিমিটেড এবং বাচ্চু এন্টারপ্রাইজ মমতাজ জাফর ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। এমকাবা লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান আনন্দের ২০১৮ সালের একটি মামলায় আদালত সম্প্রতি মমতাজ জাফরকে জামিন দিয়েছেন। এমকাবা লিমিটেডের মামলায় ১ নম্বর আসামি মমতাজ জাফর ও ২ নম্বর আসামি ইয়াসির সামসি। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মমতাজ জাফর ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ৬ জুন পর্যন্ত এমকাবা লিমিটেডের কাছ থেকে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার ডিওপি কেমিক্যাল বাকিতে ক্রয় করেন। কিন্তু ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় মমতাজ জাফর এমকাবার পণ্যের বকেয়া টাকা আংশিক পরিশোধের জন্য ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দেন। এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেডের চেক নম্বর সিএসিডিএ-০১৯২৩৩১, চলতি হিসাব নম্বর ০১১১১০০০০২০২৩৬। চেকটি ইসলামী ব্যাংক গুলশান শাখায় নগদায়নের জন্য জমা দিলে ২০১৮ সালের ১ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিল উল্লেখ করে ফেরত দেওয়া হয়। এমকাবা লিমিটেড ওই চেকের টাকা ও অন্যান্য মালামালসহ ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনার পরিপ্রেক্ষিতে টাকা পরিশোধের জন্য ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোর্শেদুজ্জামানের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। নোটিশটি ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর পান মমতাজ জাফর। এরপর ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের মাধ্যমে এর জবাব দেন। ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে স্বীকার করেন ও লিগ্যাল নোটিশের সত্যতা সঠিক বলে জবাবে উল্লেখ করেন। সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সের মালিক মমতাজ জাফর সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দেবেন মর্মে ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানের প্যাডে একটি অঙ্গীকারনামা দেন। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর লিগ্যাল নোটিশের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের প্রতিশ্রুতিমতে ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর বিকালে এমকাবার প্রতিনিধি শাহিদুর রহমান আনন্দ ও আরও দুজন সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সে গেলে মমতাজ জাফর ও ইয়াসির টাকা না দিয়ে মামলার বাদী ও তার সঙ্গীদের খুন, গুম ও অপহরণের হুমকি দেন। এরপর বাদী আদালতে ৪০৬/৪২০/৫০৬/১০৯ ধারায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, মমতাজ জাফর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কাঁচামাল নিয়ে টাকা না দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন। আগে পলিথিনের ব্যবসা করলেও এখন প্রতারণাই তার একমাত্র ব্যবসা। পুরান ঢাকার শাহীনূর রহমান, মোকলেস, শাহিদুর রহমান, রাহাত খান, হুমায়ুনসহ বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মমতাজ জাফরের প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছেন। তাদের অভিযোগ-জাফরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ অদৃশ্য কারণে তা নেয়নি। পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। অভিযোগ আছে, মমতাজ জাফর নানা কৌশলে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। প্লাস্টিকের দানার ব্যবসার আড়ালে ব্যবসায়ীদের ঠকানোই যেন তার পেশায় পরিণত হয়েছে। মমতাজ জাফর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক দানা ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে নগদ টাকা না দিয়ে চেক দেন। আর ব্যবসায়ীরা সেই চেক ব্যাংকে জমা দিলেই তা ডিজঅনার হয়। পরে টাকা চাইতে গেলে পালটা মমতাজ জাফর ও তার লোকজন ওই ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে বিদায় করে দেন। এভাবেই মমতাজ জাফর, তার ভাই ইয়াসির সামসি, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোলাম নবী, স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফিজ ও তার বাবা তৌসিফ সামসির সহযোগিতায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছেন।

লালবাগের প্রতারক মমতাজের ভাই

অর্থ পরিশোধের শর্তে ইয়াসিরের জামিন

আগে পলিথিনের ব্যবসা করলেও প্রতারণাই এখন মমতাজ জাফরের একমাত্র ব্যবসা
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যথাসময়ে অর্থ পরিশোধের শর্তে প্রতারণার মামলায় জামিন পেয়েছেন লালবাগে কথিত ব্যবসায়ী মমতাজ জাফরের ভাই ইয়াসির সামসি। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিনের এ আদেশ দেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। অর্থ পরিশোধ না করলে আদালত চাইলে আসামির জামিন বাতিল করতে পারেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এর আগে আদালত আসামি ইয়াসিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর লালবাগ থানার এসআই কৃষ্ণের নেতৃত্ব আসামির ধানমন্ডির বাসায় গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে এএসআই বাবুলের নেতৃত্বে পুরান ঢাকার ১৫১ লালবাগ রোডের সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সে আসামি গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। সেখানেও আসামিকে পায়নি পুলিশ। পরবর্তী সময়ে দুদিন আদালতে এলেও আত্মসমর্পণ করে জামিন না চেয়েই আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন বলে যুগান্তরকে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সের মালিক ব্যবসায়ী হাজি মমতাজ জাফরের প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেরই পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক দানা ও পলিথিনের কাঁচামাল কিনে টাকা না দিয়ে চেক দিয়ে অভিনব কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন তারা। প্রতারণার শিকার এমকাবা লিমিটেড এবং বাচ্চু এন্টারপ্রাইজ মমতাজ জাফর ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। এমকাবা লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান আনন্দের ২০১৮ সালের একটি মামলায় আদালত সম্প্রতি মমতাজ জাফরকে জামিন দিয়েছেন। এমকাবা লিমিটেডের মামলায় ১ নম্বর আসামি মমতাজ জাফর ও ২ নম্বর আসামি ইয়াসির সামসি। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মমতাজ জাফর ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ৬ জুন পর্যন্ত এমকাবা লিমিটেডের কাছ থেকে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার ডিওপি কেমিক্যাল বাকিতে ক্রয় করেন। কিন্তু ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় মমতাজ জাফর এমকাবার পণ্যের বকেয়া টাকা আংশিক পরিশোধের জন্য ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দেন। এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেডের চেক নম্বর সিএসিডিএ-০১৯২৩৩১, চলতি হিসাব নম্বর ০১১১১০০০০২০২৩৬। চেকটি ইসলামী ব্যাংক গুলশান শাখায় নগদায়নের জন্য জমা দিলে ২০১৮ সালের ১ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিল উল্লেখ করে ফেরত দেওয়া হয়। এমকাবা লিমিটেড ওই চেকের টাকা ও অন্যান্য মালামালসহ ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনার পরিপ্রেক্ষিতে টাকা পরিশোধের জন্য ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোর্শেদুজ্জামানের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। নোটিশটি ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর পান মমতাজ জাফর। এরপর ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের মাধ্যমে এর জবাব দেন। ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে স্বীকার করেন ও লিগ্যাল নোটিশের সত্যতা সঠিক বলে জবাবে উল্লেখ করেন। সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সের মালিক মমতাজ জাফর সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দেবেন মর্মে ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানের প্যাডে একটি অঙ্গীকারনামা দেন। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর লিগ্যাল নোটিশের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের প্রতিশ্রুতিমতে ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর বিকালে এমকাবার প্রতিনিধি শাহিদুর রহমান আনন্দ ও আরও দুজন সনি প্লাস্টিক কমপ্লেক্সে গেলে মমতাজ জাফর ও ইয়াসির টাকা না দিয়ে মামলার বাদী ও তার সঙ্গীদের খুন, গুম ও অপহরণের হুমকি দেন। এরপর বাদী আদালতে ৪০৬/৪২০/৫০৬/১০৯ ধারায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, মমতাজ জাফর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কাঁচামাল নিয়ে টাকা না দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন। আগে পলিথিনের ব্যবসা করলেও এখন প্রতারণাই তার একমাত্র ব্যবসা। পুরান ঢাকার শাহীনূর রহমান, মোকলেস, শাহিদুর রহমান, রাহাত খান, হুমায়ুনসহ বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মমতাজ জাফরের প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছেন। তাদের অভিযোগ-জাফরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ অদৃশ্য কারণে তা নেয়নি। পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। অভিযোগ আছে, মমতাজ জাফর নানা কৌশলে লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। প্লাস্টিকের দানার ব্যবসার আড়ালে ব্যবসায়ীদের ঠকানোই যেন তার পেশায় পরিণত হয়েছে। মমতাজ জাফর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক দানা ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে নগদ টাকা না দিয়ে চেক দেন। আর ব্যবসায়ীরা সেই চেক ব্যাংকে জমা দিলেই তা ডিজঅনার হয়। পরে টাকা চাইতে গেলে পালটা মমতাজ জাফর ও তার লোকজন ওই ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে বিদায় করে দেন। এভাবেই মমতাজ জাফর, তার ভাই ইয়াসির সামসি, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোলাম নবী, স্থানীয় ব্যবসায়ী হাফিজ ও তার বাবা তৌসিফ সামসির সহযোগিতায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন