মুহিবুল্লাহ হত্যায় অংশ নেয় ১৯ জন গ্রেফতার আরও ৪
jugantor
মুহিবুল্লাহ হত্যায় অংশ নেয় ১৯ জন গ্রেফতার আরও ৪

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও কক্সবাজার প্রতিনিধি  

২৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে আরও চারজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। কক্সবাজারের উখিয়ার লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবির থেকে শনিবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন লম্বাশিয়া শিবিরের বাসিন্দা আজিজুল হক, ক্যাম্প-১/ইস্ট ব্লক ডি-৮-এর বাসিন্দা মো. রশিদ প্রকাশ মুরশিদ আমিন, একই ক্যাম্পের ব্লক-বি-এর মো. আনাছ ও নূর মোহাম্মদ। এর মধ্যে আজিজুল হককে আটকের সময় একটি ওয়ান শুটারগান ও একটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে কিলিং স্কোয়াডের সদস্য আজিজুলসহ চারজনকে গ্রেফতার ও হত্যার ছক সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার এসব তথ্য জানান ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক। এদিকে গ্রেফতার আসামি আজিজুল হক শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের উখিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মুহিবুল্লাহ হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এপিবিএন জানায়, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও নেতা হিসাবে উত্থান ঠেকাতে মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় ১৯ জন। এদের মাঝে পাঁচজন ছিল অস্ত্রধারী। পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী কয়েক মিনিটেই কিলিং মিশন শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ তরে দুর্বৃত্তরা।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আজিজুলের স্বীকারোক্তির কথা জানিয়ে ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক বলেন, মুহিবুল্লার হত্যার দুদিন আগে মরকাজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে ১৯ জনকে মিশনে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে পাঁচজনকে সশস্ত্রাবস্থায় পাঠানো হয়।

জিঙ্গাসাবাদে পুলিশকে আজিজুল জানায়, দিন দিন মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের নেতা হিসাবে পরিচিতি পাচ্ছিল। তার উত্থান ও প্রত্যাবাসন ঠেকাতে যেকোনো মূল্যে তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা মতো ২৯ সেপ্টেম্বর এশার নামজের পর বাসায় চলে যাওয়া মুহিবুল্লাহকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে কয়েকজন কথা বলতে ডাকছে বলে বাসা থেকে বের করে আনে গ্রেফতার কথিত দুর্বৃত্ত সংগঠন আরসার সদস্য মুরশিদ। পরে অন্যদের সংকেত দিয়ে তিনি অফিস থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু কিলিং মিশনের দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকলে দরজায় অস্ত্রসহ পাহারা দেন মুরশিদ আমিন।

নাইমুল হক আরও জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা অফিসে ঢুকে একজন মুহিবুল্লাহকে বলে ‘ওঠ’ তোর সঙ্গে কথা আছে। বসা থেকে উঠতেই প্রথমজন একটি, তার পরেরজন দুটিসহ চারটি গুলি করা হয় মুহিবুল্লাহকে। গুলির পর মাটিতে পড়ে গেলে কিলিং স্কোয়াডের পাঁচজন মুহিবুল্লাহর বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে অন্যরা সরে পড়ে। হত্যায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এপিবিএনের এ কর্মকর্তা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পের ভেতরে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরের দিন নিহত মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা করেন। পরে পাঁচজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তাদের মধ্যে ইলিয়াস নামের একজন রোহিঙ্গা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার চারজনসহ এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন গ্রেফতার হলো।

মুহিবুল্লাহ হত্যায় অংশ নেয় ১৯ জন গ্রেফতার আরও ৪

 যুগান্তর প্রতিবেদন ও কক্সবাজার প্রতিনিধি 
২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে আরও চারজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। কক্সবাজারের উখিয়ার লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবির থেকে শনিবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন লম্বাশিয়া শিবিরের বাসিন্দা আজিজুল হক, ক্যাম্প-১/ইস্ট ব্লক ডি-৮-এর বাসিন্দা মো. রশিদ প্রকাশ মুরশিদ আমিন, একই ক্যাম্পের ব্লক-বি-এর মো. আনাছ ও নূর মোহাম্মদ। এর মধ্যে আজিজুল হককে আটকের সময় একটি ওয়ান শুটারগান ও একটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে কিলিং স্কোয়াডের সদস্য আজিজুলসহ চারজনকে গ্রেফতার ও হত্যার ছক সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার এসব তথ্য জানান ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক। এদিকে গ্রেফতার আসামি আজিজুল হক শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের উখিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মুহিবুল্লাহ হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এপিবিএন জানায়, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও নেতা হিসাবে উত্থান ঠেকাতে মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় ১৯ জন। এদের মাঝে পাঁচজন ছিল অস্ত্রধারী। পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী কয়েক মিনিটেই কিলিং মিশন শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ তরে দুর্বৃত্তরা।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আজিজুলের স্বীকারোক্তির কথা জানিয়ে ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক বলেন, মুহিবুল্লার হত্যার দুদিন আগে মরকাজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে ১৯ জনকে মিশনে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে পাঁচজনকে সশস্ত্রাবস্থায় পাঠানো হয়।

জিঙ্গাসাবাদে পুলিশকে আজিজুল জানায়, দিন দিন মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের নেতা হিসাবে পরিচিতি পাচ্ছিল। তার উত্থান ও প্রত্যাবাসন ঠেকাতে যেকোনো মূল্যে তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা মতো ২৯ সেপ্টেম্বর এশার নামজের পর বাসায় চলে যাওয়া মুহিবুল্লাহকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে কয়েকজন কথা বলতে ডাকছে বলে বাসা থেকে বের করে আনে গ্রেফতার কথিত দুর্বৃত্ত সংগঠন আরসার সদস্য মুরশিদ। পরে অন্যদের সংকেত দিয়ে তিনি অফিস থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু কিলিং মিশনের দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকলে দরজায় অস্ত্রসহ পাহারা দেন মুরশিদ আমিন।

নাইমুল হক আরও জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা অফিসে ঢুকে একজন মুহিবুল্লাহকে বলে ‘ওঠ’ তোর সঙ্গে কথা আছে। বসা থেকে উঠতেই প্রথমজন একটি, তার পরেরজন দুটিসহ চারটি গুলি করা হয় মুহিবুল্লাহকে। গুলির পর মাটিতে পড়ে গেলে কিলিং স্কোয়াডের পাঁচজন মুহিবুল্লাহর বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে অন্যরা সরে পড়ে। হত্যায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এপিবিএনের এ কর্মকর্তা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পের ভেতরে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরের দিন নিহত মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা করেন। পরে পাঁচজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তাদের মধ্যে ইলিয়াস নামের একজন রোহিঙ্গা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার চারজনসহ এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন গ্রেফতার হলো।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন