বিএনপির সিদ্ধান্ত মানছে না সিলেটের দলীয় নেতাকর্মীরা
jugantor
দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচন
বিএনপির সিদ্ধান্ত মানছে না সিলেটের দলীয় নেতাকর্মীরা
আ.লীগে একক প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী একাধিক! * প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির তিনজন

  সংগ্রাম সিংহ, সিলেট  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। রোববার সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে এসে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু দলের এমন কঠোর সিদ্ধান্ত মানছে না বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির তিন সদস্যও ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। দ্বিতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র পরিচয়ে তারা প্রার্থী হয়েছেন।

আগামী ১১ নভেম্বর সিলেটের তিনটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ১০টিতে নির্বাচন হবে। এরমধ্যে সদর উপজেলার চারটি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং বালাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে। এসব ইউনিয়নের ভোটযুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মুখোমুখি বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনকি এসব ইউনিয়নের কয়েকটিতে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিলেও বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থী লড়ছেন। স্থানীয় ও কেন্দ্রের হুমকি-ধমকিকে তারা কানেই নিচ্ছে না। এদিকে, দ্বিতীয় দফার চেয়ে তৃতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এমন সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরে ‘স্বতন্ত্র’ পরিচয়ে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি কিছুটা নমনীয় হয়ে পড়ছে। সিলেট সদর উপজেলার চার ইউপির মধ্যে তিনটিতে বিএনপির পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থী হয়েছেন।

এর মধ্যে হাটখোলা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জালালাবাদে আশিক আলী, মুজিবুর রহমান ও ইসলাম উদ্দিন এবং মোগলগাঁওয়ে ফজলু মিয়া প্রার্থী হয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের চারটিতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সাত নেতাকর্মী নির্বাচন করছেন। এরমধ্যে ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নে আলমগীর আলম, ইছাকলস ইউনিয়নে মকবুল আলী, আবু সাদ আব্দুল্লাহ ও বর্তমান চেয়ারম্যান কুটি মিয়া, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে গিয়াস উদ্দিন এবং দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে শামস উদ্দিন শাহীন ও শাহাব উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বালাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের তিনটিতে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির তিন নেতা। তারা তিনজনই সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর মধ্যে দেওয়ানবাজার ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল আলম, বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মুনিম এবং পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি সিদ্ধান্তে অটল। যারা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন তারা দলের পরিচয় ব্যবহার করতে পারবে না, দলও তাদের পাশে থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতেও যারা প্রার্থী হয়েছেন, তারা নিজ দায়িত্বে প্রার্থী হয়েছেন। এটাকে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বলা যায় না। তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচন করছেন তাদের ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিলেট জেলার কোনো ইউনিয়ন পরিষদের নাম ছিল না। দ্বিতীয় ধাপে ১৫টি এবং তৃতীয় ধাপে ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচন আগামী ১১ নভেম্বর এবং তৃতীয় দফার নির্বাচন ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তৃতীয় ধাপে গোয়াইনঘাট উপজেলার ছয়টি, জৈন্তাপুর উপজেলার পাঁচটি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। এ তিন উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে নির্বাচনে প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী।

দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচন

বিএনপির সিদ্ধান্ত মানছে না সিলেটের দলীয় নেতাকর্মীরা

আ.লীগে একক প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী একাধিক! * প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির তিনজন
 সংগ্রাম সিংহ, সিলেট 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। রোববার সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে এসে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু দলের এমন কঠোর সিদ্ধান্ত মানছে না বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির তিন সদস্যও ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। দ্বিতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র পরিচয়ে তারা প্রার্থী হয়েছেন।

আগামী ১১ নভেম্বর সিলেটের তিনটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ১০টিতে নির্বাচন হবে। এরমধ্যে সদর উপজেলার চারটি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং বালাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে। এসব ইউনিয়নের ভোটযুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মুখোমুখি বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনকি এসব ইউনিয়নের কয়েকটিতে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিলেও বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থী লড়ছেন। স্থানীয় ও কেন্দ্রের হুমকি-ধমকিকে তারা কানেই নিচ্ছে না। এদিকে, দ্বিতীয় দফার চেয়ে তৃতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এমন সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরে ‘স্বতন্ত্র’ পরিচয়ে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি কিছুটা নমনীয় হয়ে পড়ছে। সিলেট সদর উপজেলার চার ইউপির মধ্যে তিনটিতে বিএনপির পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থী হয়েছেন।

এর মধ্যে হাটখোলা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জালালাবাদে আশিক আলী, মুজিবুর রহমান ও ইসলাম উদ্দিন এবং মোগলগাঁওয়ে ফজলু মিয়া প্রার্থী হয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের চারটিতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সাত নেতাকর্মী নির্বাচন করছেন। এরমধ্যে ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নে আলমগীর আলম, ইছাকলস ইউনিয়নে মকবুল আলী, আবু সাদ আব্দুল্লাহ ও বর্তমান চেয়ারম্যান কুটি মিয়া, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে গিয়াস উদ্দিন এবং দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে শামস উদ্দিন শাহীন ও শাহাব উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বালাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের তিনটিতে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির তিন নেতা। তারা তিনজনই সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর মধ্যে দেওয়ানবাজার ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল আলম, বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মুনিম এবং পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি সিদ্ধান্তে অটল। যারা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন তারা দলের পরিচয় ব্যবহার করতে পারবে না, দলও তাদের পাশে থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতেও যারা প্রার্থী হয়েছেন, তারা নিজ দায়িত্বে প্রার্থী হয়েছেন। এটাকে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বলা যায় না। তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচন করছেন তাদের ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিলেট জেলার কোনো ইউনিয়ন পরিষদের নাম ছিল না। দ্বিতীয় ধাপে ১৫টি এবং তৃতীয় ধাপে ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচন আগামী ১১ নভেম্বর এবং তৃতীয় দফার নির্বাচন ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তৃতীয় ধাপে গোয়াইনঘাট উপজেলার ছয়টি, জৈন্তাপুর উপজেলার পাঁচটি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। এ তিন উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে নির্বাচনে প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন