ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে বাড়বে বাস-ট্রাকের ভাড়া
jugantor
পায়রার অতিরিক্ত টোল নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ
ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে বাড়বে বাস-ট্রাকের ভাড়া

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল  

২৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পায়রা সেতুর অতিরিক্ত টোল নিয়ে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। ফেরির তুলনায় তিন থেকে সাড়ে সাত গুণ পর্যন্ত টোল বৃদ্ধি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না দক্ষিণের তিন জেলার বাস-ট্রাক মালিকরা।

টোল কমানোর আবেদন জানিয়ে তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় চিঠিও দিয়েছেন। টোলের হার কমানো না হলে বাস ও ট্রাকের ভাড়া বাড়বে বলে তারা জানান। এদিকে সড়ক ও সেতু বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, টোল নির্ধারণ বিষয়ে তাদের কোনো এখতিয়ার নেই। এটা পুরোপুরি মন্ত্রণালয়ের বিষয়।

প্রায় দেড় হাজার কোটি ব্যয়ে নির্মিত পায়রা সেতু চালু হওয়ায় বরিশাল থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় সড়কপথে যেতে মাত্র ২ ঘণ্টা লাগছে। এছাড়া ফরিদপুরের পদ্মার পাড় থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত পৌঁছতে ফেরির ঝক্কিও পোহাতে হচ্ছে না। পায়রা সেতুর কারণে দক্ষিণের সড়ক যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসবে বলে আশা সবার। তবে এসব আশা ম্লান হতে বসেছে পায়রা সেতু পারাপারে যানবাহনের নির্ধারিত টোলের হার নিয়ে। ফেরিতে পায়রা পার হওয়ার ক্ষেত্রে যানবাহনগুলোকে যে ভাড়া দিতে হতো সেই তুলনায় তিন থেকে সাড়ে সাত গুণ পর্যন্ত বেশি টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের প্রায় দেড় মাস আগে নির্ধারণ হওয়া সেই টোলের হার নিয়ে শুরু থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল এ অঞ্চলের পরিবহণ মালিকরা। এ নিয়ে সড়ক ও সেতু বিভাগের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের কাছে দফায় দফায় ধরনাও দিয়েছেন তারা। তবে তাদের সেই দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ২৪ অক্টোবর থেকে পায়রা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। সরকার নির্ধারিত অতিরিক্ত টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে বাস-ট্রাকসহ সব যানবাহন। আর এ নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে অসন্তোষ। বিশেষ করে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কথা বলছেন বাস ও ট্রাকের মালিকরা।

ফেরি ও সেতুর টোলের হার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে-ফেরিতে ভারি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১০০ টাকা, পায়রা সেতুতে টোল নির্ধারিত হয়েছে ৭৫০ টাকা। এ ভাড়া ফেরির তুলনায় সাড়ে সাত গুণ বেশি। বড় বাসের ফেরি ভাড়া ছিল ৯৫ টাকা, সেতুতে তা হয়েছে ৩৪০। মাইক্রোবাসের ৪০ টাকার ফেরি ভাড়া সেতুতে হয়েছে ১৫০ টাকা। ফেরিতে ট্রেইলারের ভাড়া ছিল ৩৭৫ টাকা, সেতুতে হয়েছে ৯৪০ টাকা। মাঝারি ট্রাকের ফেরি ভাড়া ছিল ৯৫ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭৫ টাকা। ছোট ট্রাকের ফেরি ভাড়া ছিল ৯৫ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮০ টাকা। কৃষিকাজে ব্যবহৃত যানবাহনের ফেরি ভাড়া ছিল ৯০ টাকা, টোল ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫ টাকা। কোস্টারে ফেরি ভাড়া ছিল ৫০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯০ টাকা। চার চাকার মোটরযানের ফেরি ভাড়া ছিল ৪০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। সেডান কারে ফেরি ভাড়া ছিল ২০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ টাকা। ৩-৪ চাকার যানে ফেরি ভাড়া ছিল ১০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। মোটরসাইকেলে ফেরি ভাড়া ছিল ৫ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা। রিকশা, ভ্যান, সাইকেল ও ঠেলাগাড়িতে ফেরি ভাড়া ছিল ৫ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।

দুমকির পাগলা এলাকার বাসিন্দা থ্রি-হুইলার চালক নিরব হাওলাদার বলেন, যাত্রী নিয়ে বাকেরগঞ্জ গিয়ে আসতে ভাড়া পাই সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। সেখানে সেতুর টোল ৮০ টাকা হলে থাকে আর কি? প্রায় একই রকম কথা বলেন বিভিন্ন ধরনের বেশ কয়েকটি যানবাহনের চালক-মালিকরা।

সেতু পার হওয়া কুয়াকাটা থেকে বরিশালগামী জননী পরিবহণের চালক আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ফেরিতে আমরা ভাড়া দিতাম ৯৫ টাকা। তাতে লেবুখালী পারাপার হতে ১৯০ টাকা খরচ হতো। এখন টোল নির্ধারণ করেছে ৩৪০ টাকা। একটি সেতু পারাপারে খরচ হচ্ছে ৬৮০ টাকা। এ হারে টোল দেশের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। একই রুটের আরেক বাস চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে তেমন যাত্রী হয় না। এর ওপরে এত বেশি টোল ধরা হয়েছে তা অস্বাভাবিক। এভাবে টোল ধরা হলে লোকসান দিয়ে বাস চালাতে হবে।

ট্রাকচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ফেরিতে ভারী ট্রাকের ভাড়া ছিল ১০০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭০০ টাকা। আগের চেয়ে সাড়ে সাত গুণ টোল ধরাটা উচিত হয়নি। এতে আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ব্যয় বাড়ছে। এ ব্যয় পণ্য মালিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। ফলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে।

সিএনজি চালক মজিবর মিঞা বলেন, আগে ১০ টাকা দিয়ে ফেরি পার হতাম। এখন সেখানে ৪০ টাকা টোল দিতে হচ্ছে। অথচ আমাদের গাড়িতে ছয়জন যাত্রী বসাতে পারি। এতে ভাড়া পাই ৬০ টাকা। ফেরি ভাড়ার চেয়ে দেড় বা দুইগুণ বেশি টোল আদায় করা যেতে পারে। এক লাফে তিন-চারগুণ বেশি আদায় আমাদের ওপর জুলুম।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, বরিশাল থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত মাত্র ৪০ কিলোমিটার সড়কে তিনটি ব্রিজে টোল দিতে হয়। সেখানে পায়রা সেতুতে যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে মুনাফা তোর দূরের কথা, বাড়ি থেকে টাকা এনে বাস চালাতে হবে। টোল পুনঃনির্ধারণের জন্য বরিশাল বিভাগের সব জেলার মালিক-শ্রমিক সমিতি সেতু কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছি। সেতু কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, টোল মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করে দিয়েছে। দাবির বিষয়টি তারা মন্ত্রণালয়ে জানাবেন। তবে টোল পুনর্বিবেচনার আবেদনের বিষয়ে পায়রা সেতুর দপ্তর থেকে কোনো আশ্বাসও পাওয়া যায়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্র্তৃপক্ষ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না দিলে বাসভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। লোকসান দিয়ে তো আর কেউ বাস চালাবেন না।

বরিশাল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সালাম বলেন, পায়রা সেতুতে যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে তা আমাদের সাধ্যের বাইরে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়বে। পণ্যের দামও বেড়ে যাবে। এজন্য আমাদের দাবি টোল কমাতে হবে।

সড়ক ও জনপথ পটুয়াখালী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান বলেন, নির্ধারিত টোল ফি সম্পর্কে সবারই আপত্তি আছে। অনেকে দাবি তুলেছেন টোল কমানোর। আমরাও বিবেচনা করছি। যদিও বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে। তবে আমরা সুপারিশ করব। এখানকার ৩৫ কিলোমিটার অতিক্রম করতে গিয়ে তিনটি সেতু পার হতে হচ্ছে। সব সেতুতেই টোল দিতে হচ্ছে পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের। ফলে কোনো টোলে অস্বাভাবিক ফি আদায় হলে সেই চাপ সঙ্গত কারণেই বাস-ট্রাক ভাড়ার ওপর গিয়ে পড়বে। এজন্য আমরা সুপারিশ করব পায়রা সেতুর টোল পুনর্বিবেচনা করার।

পায়রার অতিরিক্ত টোল নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে বাড়বে বাস-ট্রাকের ভাড়া

 আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল 
২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পায়রা সেতুর অতিরিক্ত টোল নিয়ে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। ফেরির তুলনায় তিন থেকে সাড়ে সাত গুণ পর্যন্ত টোল বৃদ্ধি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না দক্ষিণের তিন জেলার বাস-ট্রাক মালিকরা।

টোল কমানোর আবেদন জানিয়ে তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় চিঠিও দিয়েছেন। টোলের হার কমানো না হলে বাস ও ট্রাকের ভাড়া বাড়বে বলে তারা জানান। এদিকে সড়ক ও সেতু বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, টোল নির্ধারণ বিষয়ে তাদের কোনো এখতিয়ার নেই। এটা পুরোপুরি মন্ত্রণালয়ের বিষয়।

প্রায় দেড় হাজার কোটি ব্যয়ে নির্মিত পায়রা সেতু চালু হওয়ায় বরিশাল থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় সড়কপথে যেতে মাত্র ২ ঘণ্টা লাগছে। এছাড়া ফরিদপুরের পদ্মার পাড় থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত পৌঁছতে ফেরির ঝক্কিও পোহাতে হচ্ছে না। পায়রা সেতুর কারণে দক্ষিণের সড়ক যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসবে বলে আশা সবার। তবে এসব আশা ম্লান হতে বসেছে পায়রা সেতু পারাপারে যানবাহনের নির্ধারিত টোলের হার নিয়ে। ফেরিতে পায়রা পার হওয়ার ক্ষেত্রে যানবাহনগুলোকে যে ভাড়া দিতে হতো সেই তুলনায় তিন থেকে সাড়ে সাত গুণ পর্যন্ত বেশি টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের প্রায় দেড় মাস আগে নির্ধারণ হওয়া সেই টোলের হার নিয়ে শুরু থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল এ অঞ্চলের পরিবহণ মালিকরা। এ নিয়ে সড়ক ও সেতু বিভাগের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের কাছে দফায় দফায় ধরনাও দিয়েছেন তারা। তবে তাদের সেই দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ২৪ অক্টোবর থেকে পায়রা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। সরকার নির্ধারিত অতিরিক্ত টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে বাস-ট্রাকসহ সব যানবাহন। আর এ নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে অসন্তোষ। বিশেষ করে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কথা বলছেন বাস ও ট্রাকের মালিকরা।

ফেরি ও সেতুর টোলের হার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে-ফেরিতে ভারি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১০০ টাকা, পায়রা সেতুতে টোল নির্ধারিত হয়েছে ৭৫০ টাকা। এ ভাড়া ফেরির তুলনায় সাড়ে সাত গুণ বেশি। বড় বাসের ফেরি ভাড়া ছিল ৯৫ টাকা, সেতুতে তা হয়েছে ৩৪০। মাইক্রোবাসের ৪০ টাকার ফেরি ভাড়া সেতুতে হয়েছে ১৫০ টাকা। ফেরিতে ট্রেইলারের ভাড়া ছিল ৩৭৫ টাকা, সেতুতে হয়েছে ৯৪০ টাকা। মাঝারি ট্রাকের ফেরি ভাড়া ছিল ৯৫ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭৫ টাকা। ছোট ট্রাকের ফেরি ভাড়া ছিল ৯৫ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮০ টাকা। কৃষিকাজে ব্যবহৃত যানবাহনের ফেরি ভাড়া ছিল ৯০ টাকা, টোল ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫ টাকা। কোস্টারে ফেরি ভাড়া ছিল ৫০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯০ টাকা। চার চাকার মোটরযানের ফেরি ভাড়া ছিল ৪০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। সেডান কারে ফেরি ভাড়া ছিল ২০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ টাকা। ৩-৪ চাকার যানে ফেরি ভাড়া ছিল ১০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। মোটরসাইকেলে ফেরি ভাড়া ছিল ৫ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা। রিকশা, ভ্যান, সাইকেল ও ঠেলাগাড়িতে ফেরি ভাড়া ছিল ৫ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।

দুমকির পাগলা এলাকার বাসিন্দা থ্রি-হুইলার চালক নিরব হাওলাদার বলেন, যাত্রী নিয়ে বাকেরগঞ্জ গিয়ে আসতে ভাড়া পাই সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। সেখানে সেতুর টোল ৮০ টাকা হলে থাকে আর কি? প্রায় একই রকম কথা বলেন বিভিন্ন ধরনের বেশ কয়েকটি যানবাহনের চালক-মালিকরা।

সেতু পার হওয়া কুয়াকাটা থেকে বরিশালগামী জননী পরিবহণের চালক আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ফেরিতে আমরা ভাড়া দিতাম ৯৫ টাকা। তাতে লেবুখালী পারাপার হতে ১৯০ টাকা খরচ হতো। এখন টোল নির্ধারণ করেছে ৩৪০ টাকা। একটি সেতু পারাপারে খরচ হচ্ছে ৬৮০ টাকা। এ হারে টোল দেশের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। একই রুটের আরেক বাস চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে তেমন যাত্রী হয় না। এর ওপরে এত বেশি টোল ধরা হয়েছে তা অস্বাভাবিক। এভাবে টোল ধরা হলে লোকসান দিয়ে বাস চালাতে হবে।

ট্রাকচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ফেরিতে ভারী ট্রাকের ভাড়া ছিল ১০০ টাকা, সেতুতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭০০ টাকা। আগের চেয়ে সাড়ে সাত গুণ টোল ধরাটা উচিত হয়নি। এতে আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ব্যয় বাড়ছে। এ ব্যয় পণ্য মালিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। ফলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে।

সিএনজি চালক মজিবর মিঞা বলেন, আগে ১০ টাকা দিয়ে ফেরি পার হতাম। এখন সেখানে ৪০ টাকা টোল দিতে হচ্ছে। অথচ আমাদের গাড়িতে ছয়জন যাত্রী বসাতে পারি। এতে ভাড়া পাই ৬০ টাকা। ফেরি ভাড়ার চেয়ে দেড় বা দুইগুণ বেশি টোল আদায় করা যেতে পারে। এক লাফে তিন-চারগুণ বেশি আদায় আমাদের ওপর জুলুম।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, বরিশাল থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত মাত্র ৪০ কিলোমিটার সড়কে তিনটি ব্রিজে টোল দিতে হয়। সেখানে পায়রা সেতুতে যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে মুনাফা তোর দূরের কথা, বাড়ি থেকে টাকা এনে বাস চালাতে হবে। টোল পুনঃনির্ধারণের জন্য বরিশাল বিভাগের সব জেলার মালিক-শ্রমিক সমিতি সেতু কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছি। সেতু কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, টোল মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করে দিয়েছে। দাবির বিষয়টি তারা মন্ত্রণালয়ে জানাবেন। তবে টোল পুনর্বিবেচনার আবেদনের বিষয়ে পায়রা সেতুর দপ্তর থেকে কোনো আশ্বাসও পাওয়া যায়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্র্তৃপক্ষ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না দিলে বাসভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। লোকসান দিয়ে তো আর কেউ বাস চালাবেন না।

বরিশাল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সালাম বলেন, পায়রা সেতুতে যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে তা আমাদের সাধ্যের বাইরে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়বে। পণ্যের দামও বেড়ে যাবে। এজন্য আমাদের দাবি টোল কমাতে হবে।

সড়ক ও জনপথ পটুয়াখালী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান বলেন, নির্ধারিত টোল ফি সম্পর্কে সবারই আপত্তি আছে। অনেকে দাবি তুলেছেন টোল কমানোর। আমরাও বিবেচনা করছি। যদিও বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে। তবে আমরা সুপারিশ করব। এখানকার ৩৫ কিলোমিটার অতিক্রম করতে গিয়ে তিনটি সেতু পার হতে হচ্ছে। সব সেতুতেই টোল দিতে হচ্ছে পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের। ফলে কোনো টোলে অস্বাভাবিক ফি আদায় হলে সেই চাপ সঙ্গত কারণেই বাস-ট্রাক ভাড়ার ওপর গিয়ে পড়বে। এজন্য আমরা সুপারিশ করব পায়রা সেতুর টোল পুনর্বিবেচনা করার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন