কুমিল্লার ঘটনায় ১২ ইন্ধনদাতা নজরদারিতে
jugantor
কুমিল্লার ঘটনায় ১২ ইন্ধনদাতা নজরদারিতে

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা  

০৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রেখে সহিংসতা

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রেখে সহিংসতা সৃষ্টির ঘটনায় ১২ ইন্ধনদাতাকে শনাক্ত করেছে সিআইডি। এ তালিকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম রয়েছে। তারা নেপথ্যে থেকে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে দেশব্যাপী সহিংসতা সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শতাধিক আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং মূল হোতা ইকবালের জবানবন্দির ভিত্তিতে এসব ইন্ধনদাতাকে শনাক্ত করা হয়। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। এদিকে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন কয়েকজন এরই মধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, নগরীর নানুয়া দিঘীরপাড় এলাকায় পূজামণ্ডপে কুরআন রেখে সহিংসতা সৃষ্টি করা ছিল পরিকল্পিত। নেপথ্যে থেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাসহ একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতঃপূর্বে সিআইডির তদন্তে এসব ইন্ধনদাতার নাম বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মূল হোতা ইকবালসহ চার আসামির দেওয়া জবানবন্দি এবং পরে পুলিশের রিমান্ডে থাকা ১৭ আসামির দেওয়া তথ্যে ১২ ইন্ধনদাতার সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া গেছে।

এরই মধ্যে বেশিরভাগ ইন্ধনদাতার গতিবিধি নজরদারির আওতায় আনা হলেও বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কয়েকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে নজরদারিতে থাকা ইন্ধনদাতাদের যেকোনো সময় সিআইডি সদর দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দলের মুখোমুখি করা হতে পারে বলে জানান এক তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে, ইকবালসহ চার আসামিকে ১২ দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত বুধবার সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানোর পর কারা কর্তৃপক্ষও তাদেরকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছে। এ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে স্বজনদের কেউ দেখা করতে আসেননি বলে জানান কারা কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে এসব ঘটনায় সিআইডির হাতে ন্যস্ত ৫টি মামলা অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা।

সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, ঘটনার তদন্ত ও রিমান্ডে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দিতে নেপথ্যে থাকা ১২ ইন্ধনদাতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাও রয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পাওয়া তথ্যগুলো ডিজিটালি ও ম্যানুয়ালি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ মাসের মধ্যেই তাদেরকে ঢাকায় সিআইডি সদর দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দলের মুখোমুখি করা হতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব ইন্ধনদাতাদের নাম প্রকাশ করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, কুরআন অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলাটিতে সন্ত্রাস দমন আইনের তিনটি ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর নগরীর নানুয়াদীঘির পাড় এলাকায় পূজামণ্ডপে কুরআন অবমাননা ও ভাঙচুরসহ সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৮টি, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ২টি এবং দাউদকান্দি ও দেবিদ্বারে একটি করে মামলা করা হয়।

কুমিল্লার ঘটনায় ১২ ইন্ধনদাতা নজরদারিতে

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা 
০৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রেখে সহিংসতা
ফাইল ছবি

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রেখে সহিংসতা সৃষ্টির ঘটনায় ১২ ইন্ধনদাতাকে শনাক্ত করেছে সিআইডি। এ তালিকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম রয়েছে। তারা নেপথ্যে থেকে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে দেশব্যাপী সহিংসতা সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শতাধিক আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং মূল হোতা ইকবালের জবানবন্দির ভিত্তিতে এসব ইন্ধনদাতাকে শনাক্ত করা হয়। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। এদিকে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন কয়েকজন এরই মধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, নগরীর নানুয়া দিঘীরপাড় এলাকায় পূজামণ্ডপে কুরআন রেখে সহিংসতা সৃষ্টি করা ছিল পরিকল্পিত। নেপথ্যে থেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাসহ একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতঃপূর্বে সিআইডির তদন্তে এসব ইন্ধনদাতার নাম বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মূল হোতা ইকবালসহ চার আসামির দেওয়া জবানবন্দি এবং পরে পুলিশের রিমান্ডে থাকা ১৭ আসামির দেওয়া তথ্যে ১২ ইন্ধনদাতার সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া গেছে।

এরই মধ্যে বেশিরভাগ ইন্ধনদাতার গতিবিধি নজরদারির আওতায় আনা হলেও বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কয়েকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে নজরদারিতে থাকা ইন্ধনদাতাদের যেকোনো সময় সিআইডি সদর দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দলের মুখোমুখি করা হতে পারে বলে জানান এক তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে, ইকবালসহ চার আসামিকে ১২ দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত বুধবার সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানোর পর কারা কর্তৃপক্ষও তাদেরকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছে। এ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে স্বজনদের কেউ দেখা করতে আসেননি বলে জানান কারা কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে এসব ঘটনায় সিআইডির হাতে ন্যস্ত ৫টি মামলা অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা।

সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, ঘটনার তদন্ত ও রিমান্ডে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দিতে নেপথ্যে থাকা ১২ ইন্ধনদাতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাও রয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পাওয়া তথ্যগুলো ডিজিটালি ও ম্যানুয়ালি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ মাসের মধ্যেই তাদেরকে ঢাকায় সিআইডি সদর দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দলের মুখোমুখি করা হতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব ইন্ধনদাতাদের নাম প্রকাশ করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, কুরআন অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলাটিতে সন্ত্রাস দমন আইনের তিনটি ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর নগরীর নানুয়াদীঘির পাড় এলাকায় পূজামণ্ডপে কুরআন অবমাননা ও ভাঙচুরসহ সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৮টি, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ২টি এবং দাউদকান্দি ও দেবিদ্বারে একটি করে মামলা করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন