প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ পঞ্চম
jugantor
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ পঞ্চম

  ইকবাল হোসেন  

১৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগের বছরের চেয়ে কমলেও ২০২১ সালে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।

কোভিডের আশঙ্কা দূর করে চলতি বছর বাংলাদেশে ২৩ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বা ১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা (এক ডলার সমান ৮৪ টাকা) প্রবাসী আয় আসতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এ সময় প্রবাসী আয় প্রাপ্তির দিক থেকে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে থাকবে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল সপ্তম এবং ২০১৯ সালে অষ্টম। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চলতি বছর প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হবে তৃতীয়।

‘অভিবাসনের সাপেক্ষে কোভিড-১৯ সংকট উত্তোরণ’ শীর্ষক বিশ্বব্যাংক ও নোম্যাডের (গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এটি বুধবার রাতে ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রবাসী বাড়বে ৬ শতাংশ, যা ২০২০ সালে ছিল ৮ শতাংশ। যদিও ২০২১ সালের প্রথম দশ মাসে প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ২১ শতাংশ কমেছে।

বিদেশে কর্মী প্রেরণ ও দেশে আসা প্রবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে বৈশ্বিক প্রবাসী আয়প্রবাহ ২০২০ সালের চেয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। কোভিডের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ায় ২০২০ সালে প্রবাসী আয় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে শীর্ষস্থানে থাকবে ভারত। চলতি বছর দেশটিতে প্রবাসী আয় আসবে ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে থাকবে চীন ও মেক্সিকো। উভয় দেশই পাবে প্রায় ৫৩ বিলিয়ন ডলার। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফিলিপাইন (৩৬ বিলিয়ন ডলার), যৌথভাবে চতুর্থ মিসর ও পাকিস্তান (৩৩ বিলিয়ন ডলার)। এরপরই আছে বাংলাদেশ।

করোনার মধ্যেও গত বছর বাংলাদেশে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০১৯ সালে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৮ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ভালো প্রবাসী আয় এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অবস্থা খুবই ভালো। ২০২১ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হবে ৮২ শতাংশ, পরিমাণগত দিক থেকে যা ১৫৯ বিলিয়ন ডলার।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় আহরণে ভারত, পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। এছাড়া চলতি বছর নেপালে প্রবাসী আয় আসবে সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার (চতুর্থ) ও শ্রীলংকায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার (পঞ্চম)।

তবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) অনুপাতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ। বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবাসী আয়ের অবদান ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ ক্ষেত্রে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে প্রথম স্থানে আছে নেপাল, ১২ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান, ৮ দশমিক ৩ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে শ্রীলংকা, আফগানিস্তান পঞ্চম (৩.১ শতাংশ) ও ভারত ষষ্ঠ (৩ শতাংশ)।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ পঞ্চম

 ইকবাল হোসেন 
১৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগের বছরের চেয়ে কমলেও ২০২১ সালে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।

কোভিডের আশঙ্কা দূর করে চলতি বছর বাংলাদেশে ২৩ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বা ১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা (এক ডলার সমান ৮৪ টাকা) প্রবাসী আয় আসতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এ সময় প্রবাসী আয় প্রাপ্তির দিক থেকে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে থাকবে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল সপ্তম এবং ২০১৯ সালে অষ্টম। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চলতি বছর প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হবে তৃতীয়।

‘অভিবাসনের সাপেক্ষে কোভিড-১৯ সংকট উত্তোরণ’ শীর্ষক বিশ্বব্যাংক ও নোম্যাডের (গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এটি বুধবার রাতে ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০২১ সালে বাংলাদেশে প্রবাসী বাড়বে ৬ শতাংশ, যা ২০২০ সালে ছিল ৮ শতাংশ। যদিও ২০২১ সালের প্রথম দশ মাসে প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ২১ শতাংশ কমেছে।

বিদেশে কর্মী প্রেরণ ও দেশে আসা প্রবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে বৈশ্বিক প্রবাসী আয়প্রবাহ ২০২০ সালের চেয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। কোভিডের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ায় ২০২০ সালে প্রবাসী আয় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে শীর্ষস্থানে থাকবে ভারত। চলতি বছর দেশটিতে প্রবাসী আয় আসবে ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে থাকবে চীন ও মেক্সিকো। উভয় দেশই পাবে প্রায় ৫৩ বিলিয়ন ডলার। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফিলিপাইন (৩৬ বিলিয়ন ডলার), যৌথভাবে চতুর্থ মিসর ও পাকিস্তান (৩৩ বিলিয়ন ডলার)। এরপরই আছে বাংলাদেশ।

করোনার মধ্যেও গত বছর বাংলাদেশে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০১৯ সালে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৮ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ভালো প্রবাসী আয় এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অবস্থা খুবই ভালো। ২০২১ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হবে ৮২ শতাংশ, পরিমাণগত দিক থেকে যা ১৫৯ বিলিয়ন ডলার।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয় আহরণে ভারত, পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। এছাড়া চলতি বছর নেপালে প্রবাসী আয় আসবে সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার (চতুর্থ) ও শ্রীলংকায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার (পঞ্চম)।

তবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) অনুপাতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ। বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবাসী আয়ের অবদান ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ ক্ষেত্রে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে প্রথম স্থানে আছে নেপাল, ১২ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান, ৮ দশমিক ৩ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে শ্রীলংকা, আফগানিস্তান পঞ্চম (৩.১ শতাংশ) ও ভারত ষষ্ঠ (৩ শতাংশ)।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন