দিনাজপুরে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুই মাসে ১৮ মামলা!
jugantor
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
দিনাজপুরে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুই মাসে ১৮ মামলা!

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুর পুলিশ সুপারের (এসপি) রোষানলে পড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন যুবলীগ নেতা খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন। প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে তার বিরুদ্ধে ১৩টি জিআর ও ৫টি এনজিআর মিলে ১৮টি মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ করেন। এসব মামলার অধিকাংশই দায়ের হয়েছে তার ৪ মাস ৫ দিন কারাভোগকালে। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এরপর থেকে তার গ্রাম ও শহরের বাসায় সার্বক্ষণিক অজানা ও অজ্ঞাত লোকজনের আনাগোনা ও নজরদারির কারণে পরিবারের সদস্যরা ভয়ে দিন পার করছেন। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দিনাজপুরের ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন। তার বিরুদ্ধে দেওয়া সব মামলার বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র কর্মী। দিনাজপুর জেলা পরিষদ, পিডব্লিউডি, এলজিইডিসহ অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। করোনার শুরুতে তিনি দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রান সহায়তা তহবিলে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এর কয়েকদিন পর খানসামা থানার ওসি দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের কথা বলে তাদের ত্রাণ তহবিলে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দিতে বলেন। এত টাকা তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়, জানালে ওসি বিষয়টি ভেবে দেখতে বলে চলে যান। কয়েকদিন পর ওসি আবারও এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বিরক্ত হন ও কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়নে। এরপর থেকেই তার গ্রাম ও শহরের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে।

মিল্টন বলেন, বিষয়টি আমার জেলার নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা উদ্যোগী হয়ে এসপির সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাদেরকে ‘তেমন কিছু নয়’ বলে এড়িয়ে যান এসপি। এরপর জানতে পারি, সাজেদুল নামে এক ব্যক্তি আমার বিরদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছে। ১৯ নভেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় খানসামা থানা পুলিশ। আমাকে হ্যান্ডকাফ ও কোমরে রশি পেঁচিয়ে বেঁধে নিয়ে যায় পুলিশ। আমার বাসা থেকে আগে ব্যবহৃত একটি পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধার দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায়। আমাকে ১৩টি পুলিশের গাড়িবহরসহ এসপির কার্যালয়ে এসপির সামনে হাজির করা হয়। সেখানে টানা তিন ঘণ্টা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এই মামলার আগে আমার বিরুদ্ধে দেশের কোথাও একটি জিডি কিংবা মামলা ছিল না। জেলে থাকা অবস্থায় প্রায় দেড় মাসের ব্যবধানে আমার নামে ১৩টি জিআর ও ৫টি এনজিআর মামলা দেওয়া হয়। সব মামলায় খুব স্বল্প সময়ে চার্জশিট দেওয়া হয়। হয়রানিমূলক এসব মামলায় জামিন নিয়ে গত ২৫ মার্চ দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাই। পরবর্তীতে এসপির নির্দেশনায় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বহীন শাখার একটি অ্যাকাউন্টে টাকা দেখিয়ে আমাকে ও আমার মাকে মানলন্ডারিং ও প্রতিরোধ আইনে মামলার আসামি করা হয়। সব মামলার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সে বিষয়ে আমার কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

তিনি বলেন,সামগ্রিক ঘটনায় নিরুপায় হয়ে গত ১৪ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে আবেদন করি। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়েও তাদের নানামুখী চাপের কারণে করতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে ঢাকায় এসে সংবাদ সম্মেলন করে এসব মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিসহ প্রকৃত তথ্য প্রচারের জন্য অনুরোধ করছি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে রোববার রাতে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনের তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তাতেও তিনি সাড়া দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

দিনাজপুরে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুই মাসে ১৮ মামলা!

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুর পুলিশ সুপারের (এসপি) রোষানলে পড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন যুবলীগ নেতা খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন। প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে তার বিরুদ্ধে ১৩টি জিআর ও ৫টি এনজিআর মিলে ১৮টি মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ করেন। এসব মামলার অধিকাংশই দায়ের হয়েছে তার ৪ মাস ৫ দিন কারাভোগকালে। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এরপর থেকে তার গ্রাম ও শহরের বাসায় সার্বক্ষণিক অজানা ও অজ্ঞাত লোকজনের আনাগোনা ও নজরদারির কারণে পরিবারের সদস্যরা ভয়ে দিন পার করছেন। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দিনাজপুরের ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন। তার বিরুদ্ধে দেওয়া সব মামলার বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র কর্মী। দিনাজপুর জেলা পরিষদ, পিডব্লিউডি, এলজিইডিসহ অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। করোনার শুরুতে তিনি দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রান সহায়তা তহবিলে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এর কয়েকদিন পর খানসামা থানার ওসি দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের কথা বলে তাদের ত্রাণ তহবিলে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দিতে বলেন। এত টাকা তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়, জানালে ওসি বিষয়টি ভেবে দেখতে বলে চলে যান। কয়েকদিন পর ওসি আবারও এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বিরক্ত হন ও কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়নে। এরপর থেকেই তার গ্রাম ও শহরের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে।

মিল্টন বলেন, বিষয়টি আমার জেলার নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা উদ্যোগী হয়ে এসপির সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাদেরকে ‘তেমন কিছু নয়’ বলে এড়িয়ে যান এসপি। এরপর জানতে পারি, সাজেদুল নামে এক ব্যক্তি আমার বিরদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছে। ১৯ নভেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় খানসামা থানা পুলিশ। আমাকে হ্যান্ডকাফ ও কোমরে রশি পেঁচিয়ে বেঁধে নিয়ে যায় পুলিশ। আমার বাসা থেকে আগে ব্যবহৃত একটি পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধার দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায়। আমাকে ১৩টি পুলিশের গাড়িবহরসহ এসপির কার্যালয়ে এসপির সামনে হাজির করা হয়। সেখানে টানা তিন ঘণ্টা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এই মামলার আগে আমার বিরুদ্ধে দেশের কোথাও একটি জিডি কিংবা মামলা ছিল না। জেলে থাকা অবস্থায় প্রায় দেড় মাসের ব্যবধানে আমার নামে ১৩টি জিআর ও ৫টি এনজিআর মামলা দেওয়া হয়। সব মামলায় খুব স্বল্প সময়ে চার্জশিট দেওয়া হয়। হয়রানিমূলক এসব মামলায় জামিন নিয়ে গত ২৫ মার্চ দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাই। পরবর্তীতে এসপির নির্দেশনায় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বহীন শাখার একটি অ্যাকাউন্টে টাকা দেখিয়ে আমাকে ও আমার মাকে মানলন্ডারিং ও প্রতিরোধ আইনে মামলার আসামি করা হয়। সব মামলার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সে বিষয়ে আমার কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

তিনি বলেন,সামগ্রিক ঘটনায় নিরুপায় হয়ে গত ১৪ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে আবেদন করি। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়েও তাদের নানামুখী চাপের কারণে করতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে ঢাকায় এসে সংবাদ সম্মেলন করে এসব মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিসহ প্রকৃত তথ্য প্রচারের জন্য অনুরোধ করছি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে রোববার রাতে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনের তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তাতেও তিনি সাড়া দেননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন