৩৫টি পাকা বাড়ি কারণ ছাড়াই দেবে গেছে
jugantor
চাঁপাইয়ের শিবগঞ্জ উপজেলা
৩৫টি পাকা বাড়ি কারণ ছাড়াই দেবে গেছে

  মনোয়ার হোসেন জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাড়ি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩৫টি পাকা বাড়ি দেবে গেছে। কোনো কারণ ছাড়াই ১৪ নভেম্বর থেকে উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের জহুরপুর গ্রামে পাকা ঘরবাড়িগুলো মাটিতে দেবে যেতে শুরু করে। ঘরবাড়ি হারিয়ে পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

এ ঘটনায় গ্রামাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেন এমন ঘটনা ঘটছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উদঘাটন করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, যে ঘরবাড়িগুলো দেবে গেছে সেগুলো সরানোর পর বুঝতে পারব সেখানকার মাটির অবস্থা। ঘরবাড়ি ভাঙার দরকার পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমরা জানাব। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন বিপর্যয় কি-না বিষয়টি মাথায় রেখে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বহুল আলোচিত কানসাটের পাগলা দাঁড়া ক্যানেলের জেলেপল্লি এবং পাশের পাড়ায় কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘরবাড়িগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেলেপল্লির সুন্দরী রানি জানান, বুধবার (১৭ নভেম্বর) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ির পাশ দিয়ে মাটিতে হালকা হালকা ফাটল ধরেছে।

ঘরের মেঝেও দেবে গেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি পুরো বাড়িটা আস্তে আস্তে মাটির নিচে বসে যাচ্ছে। এরমধ্যে প্রায় এক হাঁটু মাটির নিচে বাড়ি ঢুকে গেছে। এভাবে আস্তে আস্তে বিম-কলামবিশিষ্ট পুরো বাড়ি মাটির নিচে যায়। একই বক্তব্য প্রতিবেশী রেখা বেগম আর সামসুন্নাহারের। কোনো কারণ ছাড়াই ঠিক একইভাবে তাদের দালানবাড়ি ভেঙে পড়েছে।

আগের দিনও যেখানে ঘরবাড়ি ছিল সেখানে এখন ধ্বংসস্তূপ। গ্রাম পুলিশ সফিকুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্প, বন্যা, ক্যানালের পাড় ভাঙন বা বৃষ্টি কোনো কিছুই হয়নি। অথচ কোনো কারণ ছাড়াই এ এলাকার ৩০-৩৫টি ঘরবাড়ি মাটির নিচে বসে গেছে।

আমরা বুঝতে পারছি না কেন এরকম হচ্ছে। অনিল চন্দ্র হালদার জানান, আমাদের তেমন কোনো সহায় সম্বল নেই। হঠাৎ এমন বিপর্যয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নেই। এ অবস্থায় আমরা এতোগুলো পরিবার কী করব, কোথায় যাব তা বুঝে উঠতে পারছি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বি জানান, ঘটনাটি আকস্মিক ও দুঃখজনক। ভূমিহীনদের আমরা আগে পুনর্বাসন করছি। সরকারি জায়গায় তাদের রাখার ব্যবস্থা করছি। এছাড়া বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

চাঁপাইয়ের শিবগঞ্জ উপজেলা

৩৫টি পাকা বাড়ি কারণ ছাড়াই দেবে গেছে

 মনোয়ার হোসেন জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বাড়ি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের জহুরপুর গ্রামে মাটির নিচে দেবে যাওয়া ঘরবাড়ি দেখতে এলাকাবাসীর ভিড়। মঙ্গলবার তোলা -যুগান্তর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩৫টি পাকা বাড়ি দেবে গেছে। কোনো কারণ ছাড়াই ১৪ নভেম্বর থেকে উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের জহুরপুর গ্রামে পাকা ঘরবাড়িগুলো মাটিতে দেবে যেতে শুরু করে। ঘরবাড়ি হারিয়ে পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

এ ঘটনায় গ্রামাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেন এমন ঘটনা ঘটছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উদঘাটন করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। 

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, যে ঘরবাড়িগুলো দেবে গেছে সেগুলো সরানোর পর বুঝতে পারব সেখানকার মাটির অবস্থা। ঘরবাড়ি ভাঙার দরকার পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমরা জানাব। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন বিপর্যয় কি-না বিষয়টি মাথায় রেখে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। 

শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বহুল আলোচিত কানসাটের পাগলা দাঁড়া ক্যানেলের জেলেপল্লি এবং পাশের পাড়ায় কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘরবাড়িগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেলেপল্লির সুন্দরী রানি জানান, বুধবার (১৭ নভেম্বর) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ির পাশ দিয়ে মাটিতে হালকা হালকা ফাটল ধরেছে।

ঘরের মেঝেও দেবে গেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি পুরো বাড়িটা আস্তে আস্তে মাটির নিচে বসে যাচ্ছে। এরমধ্যে প্রায় এক হাঁটু মাটির নিচে বাড়ি ঢুকে গেছে। এভাবে আস্তে আস্তে বিম-কলামবিশিষ্ট পুরো বাড়ি মাটির নিচে যায়। একই বক্তব্য প্রতিবেশী রেখা বেগম আর সামসুন্নাহারের। কোনো কারণ ছাড়াই ঠিক একইভাবে তাদের দালানবাড়ি ভেঙে পড়েছে।

আগের দিনও যেখানে ঘরবাড়ি ছিল সেখানে এখন ধ্বংসস্তূপ। গ্রাম পুলিশ সফিকুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্প, বন্যা, ক্যানালের পাড় ভাঙন বা বৃষ্টি কোনো কিছুই হয়নি। অথচ কোনো কারণ ছাড়াই এ এলাকার ৩০-৩৫টি ঘরবাড়ি মাটির নিচে বসে গেছে।

আমরা বুঝতে পারছি না কেন এরকম হচ্ছে। অনিল চন্দ্র হালদার জানান, আমাদের তেমন কোনো সহায় সম্বল নেই। হঠাৎ এমন বিপর্যয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নেই। এ অবস্থায় আমরা এতোগুলো পরিবার কী করব, কোথায় যাব তা বুঝে উঠতে পারছি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বি জানান, ঘটনাটি আকস্মিক ও দুঃখজনক। ভূমিহীনদের আমরা আগে পুনর্বাসন করছি। সরকারি জায়গায় তাদের রাখার ব্যবস্থা করছি। এছাড়া বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন