বিদ্রোহ এড়াতে ১৪টিতেই বর্তমানদের মনোনয়ন
jugantor
পটিয়া ও কর্ণফুলীর ২১ ইউনিয়ন
বিদ্রোহ এড়াতে ১৪টিতেই বর্তমানদের মনোনয়ন
মিশ্র প্রতিক্রিয়া * শান্তির হাটে সড়ক অবরোধ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৭টি এবং কর্ণফুলী উপজেলার চারটিসহ ২১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় বুধবার রাতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে দেখা যায় পটিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টিতেই বর্তমান চেয়ারম্যান এবং কর্ণফুলীর চারটি ইউনিয়নের মধ্যে ১টিতে বর্তমান চেয়ারম্যান পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন। পটিয়ায় চারটি এবং কর্ণফুলীতে ৩টি ইউনিয়নে এসেছে নতুন মুখ। এসব ইউপিতে বঞ্চিতদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ আছে তেমনি মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে আছে উচ্ছ্বাস।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মূলত বিদ্রোহ এড়াতে বেশিরভাগ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানদের পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নতুন কাউকে মনোনয়ন দিলে পুরনোরা বিদ্রোহ করতে পারেন এবং এতে ইউনিয়ন পরিষদ হাতছাড়া হতে পারে-এমন ধারণা থেকেই পুরোনোদের প্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রাপ্তির লক্ষ্যে বিগত পাঁচ বছর ধরেই দলের তৃণমূলের অনেক নেতা এলাকায় দলের কাজের পাশাপাশি সেবামূলক কাজ করে গেছেন। কিন্তু কেন্দ্রের এক সিদ্ধান্তে তাদের পাঁচ বছরের সাধনা মাটি হয়ে গেছে।

পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাচ্চুকে মনোনয়ন দেওয়ায় শান্তিরহাটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে মনোনয়ন বঞ্চিতরা। তারা ইব্রাহিম বাচ্চুকে অযোগ্য দাবি করেন। একইভাবে পটিয়ার জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন, শোভনদণ্ডী ইউনিয়ন ও দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানরা পুনরায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এসব ইউপির চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। তারা ফের মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকার অনেকেই ক্ষুব্ধ। পটিয়া উপজেলার ১৫ নম্বর ছনহরা ইউনিয়নে পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সামসুল আলম। তিনি নতুন মুখ। কর্ণফুলী উপজেলার ৩ নম্বর শিকলবাহা ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুল করিম ফোরকান। তিনি নতুন মুখ। এই মনোনয়নে এলাকাবাসী বেশ উচ্ছ্বসিত।

কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিকান্দার হোসেন রানা যুগান্তরকে বলেন, দলের জন্য ত্যাগী ও যোগ্য লোক আবদুল করিম ফোরকান। চেয়ারম্যান পদের জন্য তাকে মনোনয়ন দিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড যথার্থ কাজটিই করেছে। শিকলবাহায় এ প্রার্থীর পক্ষে বুধবার আনন্দ মিছিল হয়েছে।

২১ ইউনিয়নে যেসব প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তারা হলেন-পটিয়ায় ভাটিখাইন ইউনিয়নে বখতিয়ার (বর্তমান চেয়ারম্যান), বড়লিয়া ইউনিয়নে শাহীনুল ইসলাম সানু (বর্তমান চেয়ারম্যান), কেলিশহরে সরোজ কান্তি সেন (বর্তমান চেয়ারম্যান), দক্ষিণভূর্ষিতে মোহাম্মদ সেলিম (বর্তমান চেয়ারম্যান), কচুয়াইতে এসএম ইনজামুল হক (বর্তমান চেয়ারম্যান), ছনহরায় সামসুল আলম, শোভনদণ্ডীতে এহছানুল হক (বর্তমান চেয়ারম্যান), ধলঘাটে রনবির ঘোষ (বর্তমান চেয়ারম্যান), হাইদগাঁওয়ে মোহাম্মদ ফয়সাল, খরনায় মাহাবুবুর রহমান (বর্তমান চেয়ারম্যান), হাবিলাসদ্বীপে ফৌজুল কবির, কুসুমপুরায় মুহাম্মদ ইব্রাহিম (বর্তমান চেয়ারম্যান), জিরিতে আমিনুল ইসলাম খান, কাশিয়াইশে আবুল কাসেম (বর্তমান চেয়ারম্যান), আশিয়ায় মোহাম্মদ হাশেম (বর্তমান চেয়ারম্যান), জঙ্গলখাইন ইউনিয়নে গাজী ইদ্রিছ (বর্তমান চেয়ারম্যান) ও কোলাগাঁও ইউনিয়নে আহমদ নুর (বর্তমান চেয়ারম্যান)। কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নে আবদুল করিম ফোরকান, চরলক্ষ্যায় মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন হায়দার, বড় উঠানে মো. দিদারুল আলম (বর্তমান চেয়ারম্যান), জুলধা ইউনিয়নে হাজী নুরুল হক মনোনয়ন পেয়েছেন।

পটিয়া ও কর্ণফুলীর ২১ ইউনিয়ন

বিদ্রোহ এড়াতে ১৪টিতেই বর্তমানদের মনোনয়ন

মিশ্র প্রতিক্রিয়া * শান্তির হাটে সড়ক অবরোধ
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৭টি এবং কর্ণফুলী উপজেলার চারটিসহ ২১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় বুধবার রাতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে দেখা যায় পটিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টিতেই বর্তমান চেয়ারম্যান এবং কর্ণফুলীর চারটি ইউনিয়নের মধ্যে ১টিতে বর্তমান চেয়ারম্যান পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন। পটিয়ায় চারটি এবং কর্ণফুলীতে ৩টি ইউনিয়নে এসেছে নতুন মুখ। এসব ইউপিতে বঞ্চিতদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ আছে তেমনি মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে আছে উচ্ছ্বাস।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মূলত বিদ্রোহ এড়াতে বেশিরভাগ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানদের পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নতুন কাউকে মনোনয়ন দিলে পুরনোরা বিদ্রোহ করতে পারেন এবং এতে ইউনিয়ন পরিষদ হাতছাড়া হতে পারে-এমন ধারণা থেকেই পুরোনোদের প্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রাপ্তির লক্ষ্যে বিগত পাঁচ বছর ধরেই দলের তৃণমূলের অনেক নেতা এলাকায় দলের কাজের পাশাপাশি সেবামূলক কাজ করে গেছেন। কিন্তু কেন্দ্রের এক সিদ্ধান্তে তাদের পাঁচ বছরের সাধনা মাটি হয়ে গেছে।

পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাচ্চুকে মনোনয়ন দেওয়ায় শান্তিরহাটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে মনোনয়ন বঞ্চিতরা। তারা ইব্রাহিম বাচ্চুকে অযোগ্য দাবি করেন। একইভাবে পটিয়ার জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন, শোভনদণ্ডী ইউনিয়ন ও দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানরা পুনরায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এসব ইউপির চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। তারা ফের মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকার অনেকেই ক্ষুব্ধ। পটিয়া উপজেলার ১৫ নম্বর ছনহরা ইউনিয়নে পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সামসুল আলম। তিনি নতুন মুখ। কর্ণফুলী উপজেলার ৩ নম্বর শিকলবাহা ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুল করিম ফোরকান। তিনি নতুন মুখ। এই মনোনয়নে এলাকাবাসী বেশ উচ্ছ্বসিত।

কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিকান্দার হোসেন রানা যুগান্তরকে বলেন, দলের জন্য ত্যাগী ও যোগ্য লোক আবদুল করিম ফোরকান। চেয়ারম্যান পদের জন্য তাকে মনোনয়ন দিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড যথার্থ কাজটিই করেছে। শিকলবাহায় এ প্রার্থীর পক্ষে বুধবার আনন্দ মিছিল হয়েছে।

২১ ইউনিয়নে যেসব প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তারা হলেন-পটিয়ায় ভাটিখাইন ইউনিয়নে বখতিয়ার (বর্তমান চেয়ারম্যান), বড়লিয়া ইউনিয়নে শাহীনুল ইসলাম সানু (বর্তমান চেয়ারম্যান), কেলিশহরে সরোজ কান্তি সেন (বর্তমান চেয়ারম্যান), দক্ষিণভূর্ষিতে মোহাম্মদ সেলিম (বর্তমান চেয়ারম্যান), কচুয়াইতে এসএম ইনজামুল হক (বর্তমান চেয়ারম্যান), ছনহরায় সামসুল আলম, শোভনদণ্ডীতে এহছানুল হক (বর্তমান চেয়ারম্যান), ধলঘাটে রনবির ঘোষ (বর্তমান চেয়ারম্যান), হাইদগাঁওয়ে মোহাম্মদ ফয়সাল, খরনায় মাহাবুবুর রহমান (বর্তমান চেয়ারম্যান), হাবিলাসদ্বীপে ফৌজুল কবির, কুসুমপুরায় মুহাম্মদ ইব্রাহিম (বর্তমান চেয়ারম্যান), জিরিতে আমিনুল ইসলাম খান, কাশিয়াইশে আবুল কাসেম (বর্তমান চেয়ারম্যান), আশিয়ায় মোহাম্মদ হাশেম (বর্তমান চেয়ারম্যান), জঙ্গলখাইন ইউনিয়নে গাজী ইদ্রিছ (বর্তমান চেয়ারম্যান) ও কোলাগাঁও ইউনিয়নে আহমদ নুর (বর্তমান চেয়ারম্যান)। কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নে আবদুল করিম ফোরকান, চরলক্ষ্যায় মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন হায়দার, বড় উঠানে মো. দিদারুল আলম (বর্তমান চেয়ারম্যান), জুলধা ইউনিয়নে হাজী নুরুল হক মনোনয়ন পেয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন