মেয়র আব্বাসকে আ.লীগ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ
jugantor
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তি
মেয়র আব্বাসকে আ.লীগ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৭ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে কটূক্তি করায় কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা।

এদিন মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। বিকালে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়র আব্বাস। এ সময় নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি দাবি করেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি কোনো কটূক্তি করেননি।

আবদুল ওয়াদুদ দারা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শের নাম। তিনি আমাদের আবেগের স্থান। আব্বাস আলী যে মন্তব্য করেছেন সেটি চরমভাবে নিন্দনীয়। সভায় উপস্থিত নেতারা সর্বসম্মতভাবে আব্বাসকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য মতামত দিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকারের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন-সহসভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাবলু, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার প্রমুখ।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় রাজশাহী’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি মহানগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেববাজার জিরোপয়েটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মেয়র আব্বাসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা। এ সময় রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষ, বর্তমান সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক ডা. সিরাজুল মবিন সবুজ, যুগ্মসম্পাদক হাসান রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসিক দত্ত, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্মসম্পাদক মারুফ হোসেনসহ ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মেয়র আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কাটাখালি পৌরসভার কাউন্সিলররা। শুক্রবার সকালে পৌর ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তারা। এর আগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় পৌরভবনে প্রতিবাদ সভা করেন কাউন্সিলররা। তিন নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান বলেন, মেয়র আব্বাস আলী কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায়ই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। জোরপূর্বক সভা ও অন্যান্য কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করতেন। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ অন্যান্য যাবতীয় কাজ মেয়র তার আত্মীয়স্বজন ও পছন্দের লোকজনকে দিতেন। তার আত্মীয়স্বজনের মধ্যে চারজনের নামে লাইসেন্স আছে এই পৌরসভায়। মেয়র তাদের নামে কাজ নিয়ে নিজেই করতেন। অন্য ঠিকাদারদের লাইসেন্স করতে দিতেন না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার সাদাত, সিরাজুল ইসলাম, মঞ্জুর রহমান, ইয়াছিন মোল্লা, বোরহান উদ্দীন রাব্বানী, মনিরুজ্জামান মনির, আব্দুল মজিদ, এনামুল হক, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌরসভা ভবনের সভা কক্ষে কাউন্সিলরদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আব্বাস আলীকে মেয়র পদ থেকে অপসারণের জন্য অনাস্থা প্রস্তাব আনেন নারী কাউন্সিলর হোসনে আরা। পরে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব গৃহীত হয়। ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, তার সভাপতিত্বে কাউন্সিলরদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেয়র আব্বাসকে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর লেখা অনাস্থা প্রস্তাবের আবেদনে ১২ কাউন্সিলর স্বাক্ষর করেছেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে তা জমা দেওয়া হয়। এ সময় ১০ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ থাকায় দুজন ছিলেন না।

২২ নভেম্বর মেয়র আব্বাসের দুটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।

লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস : শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেসবুকে লাইভে আসেন মেয়র আব্বাস। লাইভের শুরুতেই আব্বাস ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের অডিওটি মনোযোগ সহকারে শোনার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাকে নিয়ে কটূক্তির দুঃসাহস তার নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ে আব্বাস বলেন, আমি সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো কটূক্তি করিনি। আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তি

মেয়র আব্বাসকে আ.লীগ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে কটূক্তি করায় কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা।

এদিন মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। বিকালে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়র আব্বাস। এ সময় নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি দাবি করেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি কোনো কটূক্তি করেননি।

আবদুল ওয়াদুদ দারা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শের নাম। তিনি আমাদের আবেগের স্থান। আব্বাস আলী যে মন্তব্য করেছেন সেটি চরমভাবে নিন্দনীয়। সভায় উপস্থিত নেতারা সর্বসম্মতভাবে আব্বাসকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য মতামত দিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকারের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন-সহসভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাবলু, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার প্রমুখ।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় রাজশাহী’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি মহানগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেববাজার জিরোপয়েটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মেয়র আব্বাসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা। এ সময় রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষ, বর্তমান সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক ডা. সিরাজুল মবিন সবুজ, যুগ্মসম্পাদক হাসান রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসিক দত্ত, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্মসম্পাদক মারুফ হোসেনসহ ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মেয়র আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কাটাখালি পৌরসভার কাউন্সিলররা। শুক্রবার সকালে পৌর ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তারা। এর আগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় পৌরভবনে প্রতিবাদ সভা করেন কাউন্সিলররা। তিন নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান বলেন, মেয়র আব্বাস আলী কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায়ই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। জোরপূর্বক সভা ও অন্যান্য কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করতেন। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ অন্যান্য যাবতীয় কাজ মেয়র তার আত্মীয়স্বজন ও পছন্দের লোকজনকে দিতেন। তার আত্মীয়স্বজনের মধ্যে চারজনের নামে লাইসেন্স আছে এই পৌরসভায়। মেয়র তাদের নামে কাজ নিয়ে নিজেই করতেন। অন্য ঠিকাদারদের লাইসেন্স করতে দিতেন না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার সাদাত, সিরাজুল ইসলাম, মঞ্জুর রহমান, ইয়াছিন মোল্লা, বোরহান উদ্দীন রাব্বানী, মনিরুজ্জামান মনির, আব্দুল মজিদ, এনামুল হক, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌরসভা ভবনের সভা কক্ষে কাউন্সিলরদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আব্বাস আলীকে মেয়র পদ থেকে অপসারণের জন্য অনাস্থা প্রস্তাব আনেন নারী কাউন্সিলর হোসনে আরা। পরে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব গৃহীত হয়। ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ জানান, তার সভাপতিত্বে কাউন্সিলরদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেয়র আব্বাসকে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর লেখা অনাস্থা প্রস্তাবের আবেদনে ১২ কাউন্সিলর স্বাক্ষর করেছেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে তা জমা দেওয়া হয়। এ সময় ১০ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ থাকায় দুজন ছিলেন না।

২২ নভেম্বর মেয়র আব্বাসের দুটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।

লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস : শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেসবুকে লাইভে আসেন মেয়র আব্বাস। লাইভের শুরুতেই আব্বাস ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের অডিওটি মনোযোগ সহকারে শোনার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাকে নিয়ে কটূক্তির দুঃসাহস তার নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ে আব্বাস বলেন, আমি সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো কটূক্তি করিনি। আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন