আতঙ্কে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার জনপ্রতিনিধিরা
jugantor
কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা
আতঙ্কে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার জনপ্রতিনিধিরা

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা  

২৭ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সোহেল হত্যাকাণ্ডের পর থেকে চরম আতঙ্কে রয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার জনপ্রতিনিধিরা। নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে মাদকের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করে আসছিল। কিন্তু মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখায় কাউন্সিলর সোহেল মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে প্রাণ হারানোর পর থেকে তাদের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। এতে কুমিল্লায় মাদক সিন্ডিকেটগুলোর দৌড়াত্ম্য বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে কাউন্সিলর সোহেল হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের নারীরা। মিছিলটি পাথুরীয়াপাড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়া জুমার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লিরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। এ সময় অবিলম্বে প্রধান ঘাতক শাহ আলম, অস্ত্রধারী জেল সোহেল, সাব্বিরসহ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

জানা যায়, কুমিল্লা সিটির ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মো: সোহেল ছিলেন মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। মাদক, চোরাকারবার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু সাধারণ মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে সাহসী একজন জনপ্রতিনিধিকে এমন নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হবে তা মেনে নিতে পারছেন না অন্যান্য কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কাউন্সিলর জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা সোহেলের মতো একজন সাহসী জনপ্রতিনিধিকে যদি এমন

নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে, তাহলে তাদের পক্ষে সব সম্ভব।

কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, কুমিল্লায় মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনেক বেড়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলে তারাই হত্যার টার্গেটে পড়ছে। এমনটা যদি চলতে থাকে তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে না। তিনি বলেন, কাউন্সিলর সোহেল একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তাকে এভাবে খুন করা হলো, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? এ ঘটনা এখানেই থামাতে হবে, না হলে এমন খুনের ঘটনা আরও বেড়ে যাবে। কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার কৌশল বদলেছে, এখন নারীদের দিয়ে মাদকের ব্যবসা এবং বহনের কাজ করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে প্রাণ দিতে হলো কাউন্সিলর সোহেল এবং সমাজকর্মী মিথুন ভূইয়াকে। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই আর ছাড় দেওয়া হবে না, তারা সোহেলকে হত্যা করে ভুল জায়গায় হাত দিয়েছে, আমরা তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনব এবং শাস্তি নিশ্চিত করব।

গত সোমবার বিকালে কাউন্সিলর সোহেল নিজ কার্যালয়ে বসে রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে একটি বৈঠক করছিলেন। এ সময় কার্যালয়ে ঢুকে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। গুলিতে হরিপদ সাহা নামে কাউন্সিলরের এক সহযোগীও নিহত হন। এ ছাড়া এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও পাঁচজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা

আতঙ্কে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার জনপ্রতিনিধিরা

 আবুল খায়ের, কুমিল্লা 
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সোহেল হত্যাকাণ্ডের পর থেকে চরম আতঙ্কে রয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার জনপ্রতিনিধিরা। নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে মাদকের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করে আসছিল। কিন্তু মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখায় কাউন্সিলর সোহেল মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে প্রাণ হারানোর পর থেকে তাদের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। এতে কুমিল্লায় মাদক সিন্ডিকেটগুলোর দৌড়াত্ম্য বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে কাউন্সিলর সোহেল হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডের নারীরা। মিছিলটি পাথুরীয়াপাড়ার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়া জুমার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লিরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। এ সময় অবিলম্বে প্রধান ঘাতক শাহ আলম, অস্ত্রধারী জেল সোহেল, সাব্বিরসহ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

জানা যায়, কুমিল্লা সিটির ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মো: সোহেল ছিলেন মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। মাদক, চোরাকারবার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু সাধারণ মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে সাহসী একজন জনপ্রতিনিধিকে এমন নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হবে তা মেনে নিতে পারছেন না অন্যান্য কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কাউন্সিলর জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা সোহেলের মতো একজন সাহসী জনপ্রতিনিধিকে যদি এমন

নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে, তাহলে তাদের পক্ষে সব সম্ভব।

কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, কুমিল্লায় মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অনেক বেড়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলে তারাই হত্যার টার্গেটে পড়ছে। এমনটা যদি চলতে থাকে তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে না। তিনি বলেন, কাউন্সিলর সোহেল একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তাকে এভাবে খুন করা হলো, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? এ ঘটনা এখানেই থামাতে হবে, না হলে এমন খুনের ঘটনা আরও বেড়ে যাবে। কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার কৌশল বদলেছে, এখন নারীদের দিয়ে মাদকের ব্যবসা এবং বহনের কাজ করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে প্রাণ দিতে হলো কাউন্সিলর সোহেল এবং সমাজকর্মী মিথুন ভূইয়াকে। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই আর ছাড় দেওয়া হবে না, তারা সোহেলকে হত্যা করে ভুল জায়গায় হাত দিয়েছে, আমরা তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনব এবং শাস্তি নিশ্চিত করব।

গত সোমবার বিকালে কাউন্সিলর সোহেল নিজ কার্যালয়ে বসে রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে একটি বৈঠক করছিলেন। এ সময় কার্যালয়ে ঢুকে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। গুলিতে হরিপদ সাহা নামে কাউন্সিলরের এক সহযোগীও নিহত হন। এ ছাড়া এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও পাঁচজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন