বড় দুই দলের নির্দেশনা এখন ‘অরণ্যে রোদন’
jugantor
বড় দুই দলের নির্দেশনা এখন ‘অরণ্যে রোদন’
তৃণমূলের বাঘা বাঘা নেতা নির্বাচনি মাঠে * গোয়াইনঘাটে নৌকার পোস্টার-ব্যানারে আগুন

  সংগ্রাম সিংহ, সিলেট  

২৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট বিভাগে তৃতীয় ধাপের পর চতুর্থ ধাপেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। বিদ্রোহ দমনে আ.লীগ আর নির্বাচন বর্জনে বিএনপির হাইকমান্ড অপারগ। ফলে বড় দুই দলের কঠোর বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা এখন কেবলই ‘অরণ্যে রোদন’। দলের তৃণমূলে বিদ্রোহ দমাতে দুই দলই ব্যর্থ। ফলে কেন্দ্রের নির্দেশনা অমান্য করে অনেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছেন। মাঠে বিদ্রোহীসহ আ.লীগ ও বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা প্রায় সমান। সিলেট বিভাগের ৯টি উপজেলার ৭৭টি ইউনিয়নে নৌকার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আ.লীগেরই ৮০ জন বিদ্রোহী। শুধু আ.লীগ ও বিএনপিই নয়, নির্বাচন নিয়ে নাক ছিটকানো জামায়াতের নেতারাও মাঠে ‘ভোট ভিক্ষুক’। এ তিন দল ছাড়াও সংখ্যায় কম হলেও অন্যসব দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আ.লীগ অনেক বড় দল, তাই যোগ্য প্রার্থীও বেশি। কিন্তু একজনকেই শুধু নৌকা প্রতীক দেওয়া যাচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে লড়ছেন। এ সুযোগে বিজয় ছিনিয়ে নিচ্ছেন বিরোধীরা। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে আমাদের বিদ্রোহ দমনে প্রচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচন বর্জনের আহ্বানও মাঠে মারা গেছে। নির্বাচনে বিএনপি আছে, শুধু ধানের শীষ নেই। এছাড়া এ সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের নাক ছিটকানো কোনো কাজে আসছে না। নির্বাচনে তারাও হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।

সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, নির্বাচন বর্জনের কথা বলা হলেও যারা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে করণীয় কী-এ ব্যাপারে কেন্দ্রের নির্দেশনা আসেনি। বিএনপি নেতারা প্রার্থী হলেও তাদের আমরা দলের ধানের শীষ প্রতীক দিইনি। তারা স্বতন্ত্র পরিচয়ে নিজ নিজ দায়িত্বে নির্বাচন করছেন। তিনি আরও বলেন, ইউপি নির্বাচন অনেকটা তৃণমূলের উৎসবের মতো। এ উৎসব থেকে বিরত রাখা কঠিন।

তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে সিলেট জেলার তিনটি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১৪টিতেই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির ২৫ বাঘা নেতা। গোয়াইনঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বিএনপির ১৪ জন। শুধু রুস্তমপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আট প্রার্থীর মধ্যে চারজনই বিএনপির। তারা হলেন-আবুল কালাম আজাদ, শাহাব উদ্দিন শিহাব, হাবিবুর রহমান হাবিব ও সালেহ আহমদ। নৌকার প্রার্থী হেলাল উদ্দিন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মতিন, স্বতন্ত্রভাবে আবদুল মজিদ সরকার ও আলী আমজাদ।

নন্দীরগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই বিএনপির। স্বতন্ত্র মোড়কে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমদ ও মামুনুর রশীদ শাহীন, আবদুল ওয়াহিদ। এখানে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল। বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম ও হীরক দে।

লেংগুড়া ইউনিয়নের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন বিএনপির। তারা হলেন-বিএনপির মাহবুব আহমদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা গোলাম কিবরিয়া ছত্তার ও বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান। এখানে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের মুজিবুর রহমান মুজিব, বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও তৃণমূলে নির্বাচিত গোলাম কিবরিয়া রাসেল।

ফতেহপুর ইউনিয়নে সাত প্রার্থীর দুজন বিএনপির। তারা হলেন-বিএনপির মিনহাজ উদ্দিন ও মীর হোসাইন আমির। অন্য প্রার্থীরা হলেন-নৌকার নাজিম উদ্দিন এবং বিদ্রোহী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র ইসলাম আলী, মৌলানা নিজাম উদ্দিন ও শাহ্ আলম।

চারিকাটা ইউনিয়নেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির দুজন। তারা হলেন-বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তুফায়েল ও আলতাফ হোসেন বিলাল। এখানে নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। অন্য প্রার্থীরা হলেন-দেলোয়ার হোসেন আজাদ, সুলতান করিম, হেলাল উদ্দিন হেলাল, বদরুল ইসলাম ও আফজাল হোসেন।

দরবস্ত ইউনিয়নের পাঁচ প্রার্থীর দুজন বিএনপির। তারা হলেন-বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা বাহারুল আলম বাহার ও খাইরুল আমিন। নৌকার প্রার্থী কুতুব উদ্দিন। এখানে জমিয়তের প্রার্থী মাসউদ আজহার, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদার।

চিকনাগুল ইউনিয়নেও বিএনপির দুজন লড়ছেন। সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবু জাকারিয়া মো. আবদুল বারী ও বিএনপির জাহাঙ্গীর আলম। এখানে নৌকার প্রার্থী কামরুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী আমিনুর রশীদ ও ফয়জুল হাছান, জাতীয় পার্টির জালাল আহমদ এবং ইসলামী আন্দোলনের হাফিজ ফয়সল আহমদ।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি নেতারা। জালালপুরে বিএনপির প্রার্থী না থাকলেও আছেন জামায়াত নেতা সোলাইমান হোসেন। গোয়াইনঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির।

হবিগঞ্জেও একই ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করছেন। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ আহমেদ, কায়সার রহমান নির্বাচন করছেন। তেঘরিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ছানু মিয়া ও নজরুল ইসলাম প্রার্থী।

পইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সদর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মন্নান, জেলা যুবদলের সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম সেলিম নির্বাচন করছেন। লস্করপুর ইউনিয়নে বিএনপির আমজাদ আলী ও মইনুল হাসান প্রার্থী।

নবীগঞ্জের ৪নং দীঘলবাঁক ইউনিয়নে বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান ছালিক মিয়া, ইউপি বিএনপি সভাপতি আব্দুল বারিক রনি প্রার্থী। ৬নং কুর্শি ইউনিয়নে বিএনপি নেতা লন্ডনপ্রবাসী সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদ ও লন্ডনপ্রবাসী বিএনপি নেতা শামছুল হুদা চৌধুরী বাচ্চু নির্বাচন করছেন। ৭নং করগাঁও ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ছাইম উদ্দিন, ৯নং বাউসা ইউপিতে বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান শিশু, ১১নং গজনাইপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা শফিউল আলম, বিএনপি নেতা আবুল খায়ের কায়েদ, ১২নং কালিয়ারভাঙ্গা ইউপিতে বিএনপি নেতা হাজি আজিজ আহমদ নির্বাচন করছেন।

২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে সিলেট জেলার ১৬টি, সুনামগঞ্জ জেলার ১৭টি, হবিগঞ্জ জেলার ২১টি এবং মৌলভীবাজারের ২৩টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নৌকার পোস্টার ব্যানারে আগুন : গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুলের পোস্টার ও ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে দ্বারিরপার গ্রামের স্বদেব মেম্বারের বাড়ির সামনে টাঙ্গানো ব্যানার ও কচুয়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় টাঙ্গানো নৌকার পোস্টার পোড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে এ অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনা খতিয়ে দেখছে।

বড় দুই দলের নির্দেশনা এখন ‘অরণ্যে রোদন’

তৃণমূলের বাঘা বাঘা নেতা নির্বাচনি মাঠে * গোয়াইনঘাটে নৌকার পোস্টার-ব্যানারে আগুন
 সংগ্রাম সিংহ, সিলেট 
২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট বিভাগে তৃতীয় ধাপের পর চতুর্থ ধাপেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। বিদ্রোহ দমনে আ.লীগ আর নির্বাচন বর্জনে বিএনপির হাইকমান্ড অপারগ। ফলে বড় দুই দলের কঠোর বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা এখন কেবলই ‘অরণ্যে রোদন’। দলের তৃণমূলে বিদ্রোহ দমাতে দুই দলই ব্যর্থ। ফলে কেন্দ্রের নির্দেশনা অমান্য করে অনেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছেন। মাঠে বিদ্রোহীসহ আ.লীগ ও বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা প্রায় সমান। সিলেট বিভাগের ৯টি উপজেলার ৭৭টি ইউনিয়নে নৌকার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আ.লীগেরই ৮০ জন বিদ্রোহী। শুধু আ.লীগ ও বিএনপিই নয়, নির্বাচন নিয়ে নাক ছিটকানো জামায়াতের নেতারাও মাঠে ‘ভোট ভিক্ষুক’। এ তিন দল ছাড়াও সংখ্যায় কম হলেও অন্যসব দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আ.লীগ অনেক বড় দল, তাই যোগ্য প্রার্থীও বেশি। কিন্তু একজনকেই শুধু নৌকা প্রতীক দেওয়া যাচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে লড়ছেন। এ সুযোগে বিজয় ছিনিয়ে নিচ্ছেন বিরোধীরা। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে আমাদের বিদ্রোহ দমনে প্রচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচন বর্জনের আহ্বানও মাঠে মারা গেছে। নির্বাচনে বিএনপি আছে, শুধু ধানের শীষ নেই। এছাড়া এ সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের নাক ছিটকানো কোনো কাজে আসছে না। নির্বাচনে তারাও হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।

সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, নির্বাচন বর্জনের কথা বলা হলেও যারা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে করণীয় কী-এ ব্যাপারে কেন্দ্রের নির্দেশনা আসেনি। বিএনপি নেতারা প্রার্থী হলেও তাদের আমরা দলের ধানের শীষ প্রতীক দিইনি। তারা স্বতন্ত্র পরিচয়ে নিজ নিজ দায়িত্বে নির্বাচন করছেন। তিনি আরও বলেন, ইউপি নির্বাচন অনেকটা তৃণমূলের উৎসবের মতো। এ উৎসব থেকে বিরত রাখা কঠিন।

তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে সিলেট জেলার তিনটি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১৪টিতেই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির ২৫ বাঘা নেতা। গোয়াইনঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বিএনপির ১৪ জন। শুধু রুস্তমপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আট প্রার্থীর মধ্যে চারজনই বিএনপির। তারা হলেন-আবুল কালাম আজাদ, শাহাব উদ্দিন শিহাব, হাবিবুর রহমান হাবিব ও সালেহ আহমদ। নৌকার প্রার্থী হেলাল উদ্দিন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মতিন, স্বতন্ত্রভাবে আবদুল মজিদ সরকার ও আলী আমজাদ।

নন্দীরগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই বিএনপির। স্বতন্ত্র মোড়কে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমদ ও মামুনুর রশীদ শাহীন, আবদুল ওয়াহিদ। এখানে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল। বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম ও হীরক দে।

লেংগুড়া ইউনিয়নের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন বিএনপির। তারা হলেন-বিএনপির মাহবুব আহমদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা গোলাম কিবরিয়া ছত্তার ও বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান। এখানে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের মুজিবুর রহমান মুজিব, বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও তৃণমূলে নির্বাচিত গোলাম কিবরিয়া রাসেল।

ফতেহপুর ইউনিয়নে সাত প্রার্থীর দুজন বিএনপির। তারা হলেন-বিএনপির মিনহাজ উদ্দিন ও মীর হোসাইন আমির। অন্য প্রার্থীরা হলেন-নৌকার নাজিম উদ্দিন এবং বিদ্রোহী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র ইসলাম আলী, মৌলানা নিজাম উদ্দিন ও শাহ্ আলম।

চারিকাটা ইউনিয়নেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির দুজন। তারা হলেন-বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তুফায়েল ও আলতাফ হোসেন বিলাল। এখানে নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। অন্য প্রার্থীরা হলেন-দেলোয়ার হোসেন আজাদ, সুলতান করিম, হেলাল উদ্দিন হেলাল, বদরুল ইসলাম ও আফজাল হোসেন।

দরবস্ত ইউনিয়নের পাঁচ প্রার্থীর দুজন বিএনপির। তারা হলেন-বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা বাহারুল আলম বাহার ও খাইরুল আমিন। নৌকার প্রার্থী কুতুব উদ্দিন। এখানে জমিয়তের প্রার্থী মাসউদ আজহার, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জসিম উদ্দিন সিকদার।

চিকনাগুল ইউনিয়নেও বিএনপির দুজন লড়ছেন। সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবু জাকারিয়া মো. আবদুল বারী ও বিএনপির জাহাঙ্গীর আলম। এখানে নৌকার প্রার্থী কামরুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী আমিনুর রশীদ ও ফয়জুল হাছান, জাতীয় পার্টির জালাল আহমদ এবং ইসলামী আন্দোলনের হাফিজ ফয়সল আহমদ।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি নেতারা। জালালপুরে বিএনপির প্রার্থী না থাকলেও আছেন জামায়াত নেতা সোলাইমান হোসেন। গোয়াইনঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির।

হবিগঞ্জেও একই ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করছেন। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ আহমেদ, কায়সার রহমান নির্বাচন করছেন। তেঘরিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ছানু মিয়া ও নজরুল ইসলাম প্রার্থী।

পইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সদর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মন্নান, জেলা যুবদলের সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম সেলিম নির্বাচন করছেন। লস্করপুর ইউনিয়নে বিএনপির আমজাদ আলী ও মইনুল হাসান প্রার্থী।

নবীগঞ্জের ৪নং দীঘলবাঁক ইউনিয়নে বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান ছালিক মিয়া, ইউপি বিএনপি সভাপতি আব্দুল বারিক রনি প্রার্থী। ৬নং কুর্শি ইউনিয়নে বিএনপি নেতা লন্ডনপ্রবাসী সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদ ও লন্ডনপ্রবাসী বিএনপি নেতা শামছুল হুদা চৌধুরী বাচ্চু নির্বাচন করছেন। ৭নং করগাঁও ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ছাইম উদ্দিন, ৯নং বাউসা ইউপিতে বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান শিশু, ১১নং গজনাইপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা শফিউল আলম, বিএনপি নেতা আবুল খায়ের কায়েদ, ১২নং কালিয়ারভাঙ্গা ইউপিতে বিএনপি নেতা হাজি আজিজ আহমদ নির্বাচন করছেন।

২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে সিলেট জেলার ১৬টি, সুনামগঞ্জ জেলার ১৭টি, হবিগঞ্জ জেলার ২১টি এবং মৌলভীবাজারের ২৩টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নৌকার পোস্টার ব্যানারে আগুন : গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুলের পোস্টার ও ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে দ্বারিরপার গ্রামের স্বদেব মেম্বারের বাড়ির সামনে টাঙ্গানো ব্যানার ও কচুয়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় টাঙ্গানো নৌকার পোস্টার পোড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে এ অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনা খতিয়ে দেখছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন