চাঙা উত্তর দক্ষিণ মহানগর যুবলীগ
jugantor
চট্টগ্রামে বর্ধিত সভা
চাঙা উত্তর দক্ষিণ মহানগর যুবলীগ
নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠন শক্তিশালী করতে চায় কেন্দ্র * চট্টগ্রামের তিনটি কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

৩০ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে চাঙা আওয়ামী যুবলীগ চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা। ধারাবাহিকভাবে এ তিন সাংগঠনিক জেলার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে যোগ দিয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

তারা বর্ধিত সভায় যে বার্তা দিচ্ছেন তা হচ্ছে-আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যুবলীগকে শক্তিশালী করতে হবে। কোনো দুর্নীতি-অনিয়ম, কমিটি বেচাকেনার রাজনীতি যুবলীগ সহ্য করবে না। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে যুবলীগকেই নিয়ামক শক্তি হিসাবে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে রোববার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা। আজ মহানগর যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এ বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে ভেন্যু এলাকা চট্টগ্রামের জামালখান ও আশপাশ ছেয়ে গেছে নেতা ও পদপ্রত্যাশীদের ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনে। অনুষ্ঠানস্থলে মিছিল নিয়ে এসেও শোডাউন করছেন তারা।

জানা যায়, ১১ বছর আগে গঠিত হয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি। ৮ বছর আগে গঠিত হয় চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি। আর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটি গঠিত হয় ৯ বছর আগে। তিন বছরের কমিটির প্রতিটিরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। এ নিয়ে হতাশা রয়েছে নেতাকর্মীদের। শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশেই যুবলীগের কমিটির এমন চিত্র। এছাড়া ঢাকায় যুবলীগ নেতা জিকে শামীম আর ইসমাঈল হোসেন সম্রাটের টেন্ডার ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির ঘটনা পুরো দেশে যুবলীগের কার্যক্রম ও নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মূলত এসব কারণেই শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান ও মাইনুল হোসেন নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ নেতৃত্ব সারা দেশে যুবলীগকে ঢেলে সাজাতে চাইছে। বর্ধিত সভার মাধ্যমে কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা সারা দেশে যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন দেবেন। এর ভিত্তিতেই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি বা নেতৃত্ব সৃষ্টি করা হবে। চট্টগ্রামে এর অংশ হিসাবেই বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী।

টিপু সুলতান চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনকে কলঙ্কমুক্ত, দুর্নীতি-অনিয়মমুক্ত, বেচাকেনামুক্ত করার জন্য বর্ধিত সভা থেকে তারা কেন্দ্রের বার্তা পেয়েছেন। একটি কমিটি দীর্ঘদিন থাকা ঠিক নয়। কিন্তু কেন্দ্র থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া না হলে অধীনস্থ কমিটির নেতাদের কিছুই করার থাকে না।

চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশী নেতা আবু মো. মহিউদ্দিন বলেন, সামনে নির্বাচন। সরকার হটাতে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। যুবলীগের কমিটি যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে এ কমিটিই নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারবে।

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বলেন, টাকা আর লবিং করে যারা যুবলীগের কমিটিতে আসার স্বপ্ন দেখছেন, তারা দিবাস্বপ্ন দেখছেন। তাদের এ স্বপ্ন কখনোই সফল হবে না। যুবলীগ করতে হলে শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা ও সততার প্রয়োজন। যাদের এসব গুণাবলি থাকবে, তারাই আগামী দিনে যুবলীগে স্থান পাবেন। দুর্নীতি, অসদাচরণ যুবলীগে বরদাস্ত করা হবে না। শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে যুবলীগকেই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন মিন্টু যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি সংগঠনের চালিকাশক্তি হচ্ছে তৃণমূল। বর্ধিত সভা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এ সফরের উদ্দেশ্য তৃণমূল বা ওয়ার্ড পর্যায়ে যুবলীগের পরিচ্ছন্ন নেতাদের তুলে আনা ও সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করা।

চট্টগ্রামে বর্ধিত সভা

চাঙা উত্তর দক্ষিণ মহানগর যুবলীগ

নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠন শক্তিশালী করতে চায় কেন্দ্র * চট্টগ্রামের তিনটি কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে চাঙা আওয়ামী যুবলীগ চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা। ধারাবাহিকভাবে এ তিন সাংগঠনিক জেলার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে যোগ দিয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

তারা বর্ধিত সভায় যে বার্তা দিচ্ছেন তা হচ্ছে-আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যুবলীগকে শক্তিশালী করতে হবে। কোনো দুর্নীতি-অনিয়ম, কমিটি বেচাকেনার রাজনীতি যুবলীগ সহ্য করবে না। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে যুবলীগকেই নিয়ামক শক্তি হিসাবে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে রোববার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা। আজ মহানগর যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এ বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে ভেন্যু এলাকা চট্টগ্রামের জামালখান ও আশপাশ ছেয়ে গেছে নেতা ও পদপ্রত্যাশীদের ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনে। অনুষ্ঠানস্থলে মিছিল নিয়ে এসেও শোডাউন করছেন তারা।

জানা যায়, ১১ বছর আগে গঠিত হয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি। ৮ বছর আগে গঠিত হয় চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি। আর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটি গঠিত হয় ৯ বছর আগে। তিন বছরের কমিটির প্রতিটিরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। এ নিয়ে হতাশা রয়েছে নেতাকর্মীদের। শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশেই যুবলীগের কমিটির এমন চিত্র। এছাড়া ঢাকায় যুবলীগ নেতা জিকে শামীম আর ইসমাঈল হোসেন সম্রাটের টেন্ডার ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির ঘটনা পুরো দেশে যুবলীগের কার্যক্রম ও নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মূলত এসব কারণেই শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান ও মাইনুল হোসেন নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ নেতৃত্ব সারা দেশে যুবলীগকে ঢেলে সাজাতে চাইছে। বর্ধিত সভার মাধ্যমে কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা সারা দেশে যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন দেবেন। এর ভিত্তিতেই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি বা নেতৃত্ব সৃষ্টি করা হবে। চট্টগ্রামে এর অংশ হিসাবেই বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী।

টিপু সুলতান চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনকে কলঙ্কমুক্ত, দুর্নীতি-অনিয়মমুক্ত, বেচাকেনামুক্ত করার জন্য বর্ধিত সভা থেকে তারা কেন্দ্রের বার্তা পেয়েছেন। একটি কমিটি দীর্ঘদিন থাকা ঠিক নয়। কিন্তু কেন্দ্র থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া না হলে অধীনস্থ কমিটির নেতাদের কিছুই করার থাকে না।

চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশী নেতা আবু মো. মহিউদ্দিন বলেন, সামনে নির্বাচন। সরকার হটাতে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। যুবলীগের কমিটি যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে এ কমিটিই নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারবে।

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বলেন, টাকা আর লবিং করে যারা যুবলীগের কমিটিতে আসার স্বপ্ন দেখছেন, তারা দিবাস্বপ্ন দেখছেন। তাদের এ স্বপ্ন কখনোই সফল হবে না। যুবলীগ করতে হলে শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা ও সততার প্রয়োজন। যাদের এসব গুণাবলি থাকবে, তারাই আগামী দিনে যুবলীগে স্থান পাবেন। দুর্নীতি, অসদাচরণ যুবলীগে বরদাস্ত করা হবে না। শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে যুবলীগকেই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন মিন্টু যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি সংগঠনের চালিকাশক্তি হচ্ছে তৃণমূল। বর্ধিত সভা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এ সফরের উদ্দেশ্য তৃণমূল বা ওয়ার্ড পর্যায়ে যুবলীগের পরিচ্ছন্ন নেতাদের তুলে আনা ও সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন