বুড়ো কমিটি বিলুপ্তিতেও কাটেনি ঝিমানো ভাব
jugantor
অভিভাবকশূন্য জাবি ছাত্রলীগ
বুড়ো কমিটি বিলুপ্তিতেও কাটেনি ঝিমানো ভাব

  রাহুল এম ইউসুফ, জাবি  

৩০ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিষ্প্রাণ কমিটি বিলুপ্তির পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগ এখন অনেকটাই অভিভাবকশূন্য। ব্যর্থতা আর সামালোচনার বোঝা মাথায় নিয়ে ভেঙে গেছে পাঁচ বছরের বুড়ো কমিটি। অনাগত কমিটিতে পদ-পদবির আশায় দুই ডজন নেতাকর্মীর যাত্রা এখন কেন্দ্র অভিমুখে। ক্যাম্পাসের নেতাদের নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত ও পদ-পদবি না থাকায় ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। অপরদিকে ‘সিন্ডিকেট’বিহীন, ‘ভিসি লীগ’ তকমা হটিয়ে শক্তিশালী ইউনিট প্রতিষ্ঠার জন্য নেতা খুঁজছে কেন্দ্রীয় কমিটি।

১৭ অক্টোবর জাবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের ১০ দিনের মধ্যে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে বলা হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর জুয়েল রানাকে সভাপতি ও এসএম সুফিয়ান চঞ্চলকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই নানা বিতর্কিত ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে আলোচিত ছিল এ কমিটি। ইমেজ সংকটের কারণে মেয়াদোত্তীর্ণের অজুহাতে গত মাসে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে পদ পেতে শাখা ছাত্রলীগের ৪২, ৪৩, ও ৪৪তম ব্যাচ মিলে প্রায় দুই ডজন নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, করোনার আগে যারা কমিটিতে শীর্ষ পদে আসার কথা, তাদেরই মূল্যায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সে হিসাবে ৪২তম ব্যাচ থেকে সভাপতি-সম্পাদক হওয়ার প্রত্যাশাই বেশি। তবে ৪২তম ব্যাচ থেকে সভাপতি ও ৪৩তম ব্যাচ থেকে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার ছকও এঁকেছেন অনেকে।

নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বরাবরই জাবি প্রশাসনের একটি অদৃশ্য ইঙ্গিত থাকে। ক্যাম্পাসের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইছে যত জুনিয়র ব্যাচ দিয়ে কমিটি করা যায় ততই মঙ্গলজনক। এতে প্রশাসন তাদের ইচ্ছামতো অপরিপক্ব নেতাদের ব্যবহার করতে পারে। যার নজির দেখিয়েছেন গত কমিটির অদূরদর্শী নেতারা।

পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, প্রশাসনের তল্পিবাহক তকমা এড়িয়ে ক্লিন ইমেজের নেতাদের দিয়ে একটি শক্তিশালী ইউনিট তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব নতুন কমিটি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

নতুন কমিটির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জাবি শাখার সম্ভাব্য নেতাদের কাছ থেকে সিভি নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরিনা ইতি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, জাবির নেতা হওয়ার জন্য অনেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন। আমরা এখন সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। অচিরেই হয়তো নতুন কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অভিভাবকশূন্য জাবি ছাত্রলীগ

বুড়ো কমিটি বিলুপ্তিতেও কাটেনি ঝিমানো ভাব

 রাহুল এম ইউসুফ, জাবি 
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিষ্প্রাণ কমিটি বিলুপ্তির পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগ এখন অনেকটাই অভিভাবকশূন্য। ব্যর্থতা আর সামালোচনার বোঝা মাথায় নিয়ে ভেঙে গেছে পাঁচ বছরের বুড়ো কমিটি। অনাগত কমিটিতে পদ-পদবির আশায় দুই ডজন নেতাকর্মীর যাত্রা এখন কেন্দ্র অভিমুখে। ক্যাম্পাসের নেতাদের নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত ও পদ-পদবি না থাকায় ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। অপরদিকে ‘সিন্ডিকেট’বিহীন, ‘ভিসি লীগ’ তকমা হটিয়ে শক্তিশালী ইউনিট প্রতিষ্ঠার জন্য নেতা খুঁজছে কেন্দ্রীয় কমিটি।

১৭ অক্টোবর জাবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের ১০ দিনের মধ্যে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে বলা হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর জুয়েল রানাকে সভাপতি ও এসএম সুফিয়ান চঞ্চলকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই নানা বিতর্কিত ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে আলোচিত ছিল এ কমিটি। ইমেজ সংকটের কারণে মেয়াদোত্তীর্ণের অজুহাতে গত মাসে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে পদ পেতে শাখা ছাত্রলীগের ৪২, ৪৩, ও ৪৪তম ব্যাচ মিলে প্রায় দুই ডজন নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, করোনার আগে যারা কমিটিতে শীর্ষ পদে আসার কথা, তাদেরই মূল্যায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সে হিসাবে ৪২তম ব্যাচ থেকে সভাপতি-সম্পাদক হওয়ার প্রত্যাশাই বেশি। তবে ৪২তম ব্যাচ থেকে সভাপতি ও ৪৩তম ব্যাচ থেকে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার ছকও এঁকেছেন অনেকে।

নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বরাবরই জাবি প্রশাসনের একটি অদৃশ্য ইঙ্গিত থাকে। ক্যাম্পাসের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইছে যত জুনিয়র ব্যাচ দিয়ে কমিটি করা যায় ততই মঙ্গলজনক। এতে প্রশাসন তাদের ইচ্ছামতো অপরিপক্ব নেতাদের ব্যবহার করতে পারে। যার নজির দেখিয়েছেন গত কমিটির অদূরদর্শী নেতারা।

পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, প্রশাসনের তল্পিবাহক তকমা এড়িয়ে ক্লিন ইমেজের নেতাদের দিয়ে একটি শক্তিশালী ইউনিট তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব নতুন কমিটি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

নতুন কমিটির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জাবি শাখার সম্ভাব্য নেতাদের কাছ থেকে সিভি নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরিনা ইতি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, জাবির নেতা হওয়ার জন্য অনেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন। আমরা এখন সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। অচিরেই হয়তো নতুন কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন