ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ
jugantor
আর্থসামাজিক উন্নয়ন
ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ
বিআইডিএস’র গবেষণা সম্মেলন শুরু: যেসব প্রকল্প দেশকে এগিয়ে নেবে, সেগুলো ঢেলে ওপরে দিচ্ছি -পরিকল্পনামন্ত্রী * আমাদের চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তির উন্নয়নে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলা -রেহমান সোবহান

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। গত ৩০ বছরের হিসাবে এমন অর্জন হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের অগ্রগতি, দারিদ্র্য নিরসন, কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে এই সাফল্য এসেছে।

সেই সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তার বিকাশ এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক কার্যক্রম। তবে অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া নানারকম ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) উন্নয়ন সম্মেলন ২০২১-এ এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। বুধবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এতে ‘বাংলাদেশ ইন কমপারেটিভ পার্সপেক্টিভ’ প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। এছাড়া অন্য বিষয়ে প্রথম দিনে প্রায় ১০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য দেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন, অলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এসআর ওসমানী প্রমুখ।

প্রতিবেদনে ড. বিনায়ক সেন বলেন, ভারতের তামিলনাড়ু, কর্নাটক, কেরেলা যেভাবে এগিয়ে গেছে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার সেভাবে এগিয়ে যায়নি। এখানে ব্যাপক আঞ্চলিক বৈষম্য বিরাজমান। এটা যেন ভারতের মধ্যে অন্য ভারত। আবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যে উন্নয়ন হয়েছে সেভাবে অন্য রাজ্যগুলোতে হয়নি। যেমন পিছিয়ে আছে বেলুচিস্তান। কিন্তু বাংলাদেশে এমন বৈষম্য নেই।

দেশ স্বাধীনের আগে যেমন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্য ছিল। এখন সে রকম নেই। তবে কুড়িগ্রামের দারিদ্র্য আর নারায়ণগঞ্জের দারিদ্র্য এক নয়। এটা হয়েছে এলাকার কারণে। যেমন নদীভাঙা, উপকূলীয়, হাওড় এবং পাহাড়ি অঞ্চলে যেভাবে উন্নয়ন হওয়ার কথা সেভাবে হয়নি। অবস্থান এবং প্রাকৃতিক কারণেই এটা করাটাও কঠিন।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাথাপিছু আয়ে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ভারতের কাছাকাছি গেছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ হারে বাড়ত অথচ এখন (২০১০ সালের হিসাব) এটা ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ হারে বাড়ছে। ১৯৯০ সালে ভারতের মাথাপিছু আয় ৩ দশমিক ২৬ হারে বাড়ত এখন কমে ১ দশমিক ১৪ হার হয়েছে। একইভাবে ৯০ দশকে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, এটা এখন আরও কমে শূন্য দশমিক ৮৬ হয়েছে। অথচ মাথাপিছু আয়ে ৯০ দশকে পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ শতাংশ পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এখন পাকিস্তানের চেয়ে মাথাপিছু আয়ে ১০ শতাংশ এগিয়ে বাংলাদেশ।

এছাড়া উৎপাদন খাতে ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ৯০ দশকে এ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি ছিল ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা এখন হয়েছে ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অথচ উৎপাদন খাতে প্রতিনিয়ত পিছিয়ে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। একই সময়ে ভারতে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ, অথচ এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। একইভাবে উৎপাদন খাতে পাকিস্তান পিছিয়ে যাচ্ছে।

৯০ দশকে এ খাতে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ, এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। নগরায়ণেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ৯০ দশকে বাংলাদেশের নগরায়ণ হার ছিল ১৯ দশমিক ৮১ শতাংশ, এখন বেড়ে হয়েছে ৩৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। ভারতে একই সময়ে নগরায়ণের হার ছিল ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ এখন দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। পাকিস্তানের নগরায়ণে ৯০ দশকে হার ছিল ৩০ দশমিক ৫৮ শতাংশ যা এখন হয়েছে ৩৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

ভারত-পাকিস্তানকে বাংলাদেশ পেছনে ফেলার অন্যতম কারণ কর্মসংস্থানে নারীর উপস্থিতি বেড়েছে। ৯০ দশকে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানে নারী উপস্থিতির হার ছিল ২৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ অথচ এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই সময়ে ভারতে নারীর উপস্থিতি ছিল ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ অথচ এখন কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে ৯০ দশকে পাকিস্তানে কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি ছিল ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ, এখন হয়েছে ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তবুও বাংলাদেশের সমান হতে পারেনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, কমিউনিটি ক্লিনিক, হাওড় উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। এসব কারণে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ যেসব প্রকল্প সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেবে সেগুলোকে ঢেলে ওপরে দিচ্ছি। বিআইডিএস স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।

ড. মসিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতার কন্যার হাত ধরে তার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের আজকের উন্নয়ন বঙ্গবন্ধু সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল। কেননা দেশ স্বাধীনের পরপরই তিনি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেছেন দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ খুঁজেছেন। সেই সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।

রেহমান সোবহান বলেন, পোশাক খাতের হাত ধরে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এক্ষেত্রে সফল ভূমিকা পালন করেছে। গত ৪০ বছরে ওষুধ, চামড়া, শিপবিল্ডিং ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্প বিকাশ লাভ করেছে। রপ্তানি ক্ষেত্রে বহুমুখীকরণ করতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাকসহ এনজিওগুলো ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করেছে। সেই সঙ্গে সামাজিক ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে। তবে আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির উন্নয়ন ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলা করা।

অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, দেশের দারিদ্র্য নিরসনে অগ্রগতি হলেও বৈষম্য বেড়েছে। দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

ড. জাহিদ হোসেন তার গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, করোনা মহামারী বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি করোনার আগের তুলনায় কমেছে। অব্যাহতভাবে চলতি হিসেবে ঘাটতি আছে। তারপরও রিজার্ভ বাড়ছে। তবে আইএমএফ-এর মতে, রিজার্ভের হিসাবে গরমিল রয়েছে। বৈদেশিক ঋণ বিষয়ে তেমন ঝুঁকি নেই, তবে ঋণ নিয়ে ভোগবিলাসে ব্যয় করা যাবে না।

উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা বহিঃস্থ ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাজেটসংক্রান্ত ঝুঁকি রয়েছে। ভ্যাকসিন সরবরাহে বাজেট সহায়তা কমছে। এছাড়া বৈদেশিক অর্থায়নপুষ্ট মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয় বাড়ছে। এঁরাও ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে অর্থনীতিতে সম্ভাব্য উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি করোনা মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ভোগের কারণে।

আর্থসামাজিক উন্নয়ন

ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ

বিআইডিএস’র গবেষণা সম্মেলন শুরু: যেসব প্রকল্প দেশকে এগিয়ে নেবে, সেগুলো ঢেলে ওপরে দিচ্ছি -পরিকল্পনামন্ত্রী * আমাদের চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তির উন্নয়নে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলা -রেহমান সোবহান
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। গত ৩০ বছরের হিসাবে এমন অর্জন হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের অগ্রগতি, দারিদ্র্য নিরসন, কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে এই সাফল্য এসেছে।

সেই সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তার বিকাশ এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক কার্যক্রম। তবে অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া নানারকম ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) উন্নয়ন সম্মেলন ২০২১-এ এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। বুধবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এতে ‘বাংলাদেশ ইন কমপারেটিভ পার্সপেক্টিভ’ প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। এছাড়া অন্য বিষয়ে প্রথম দিনে প্রায় ১০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য দেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন, অলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এসআর ওসমানী প্রমুখ।

প্রতিবেদনে ড. বিনায়ক সেন বলেন, ভারতের তামিলনাড়ু, কর্নাটক, কেরেলা যেভাবে এগিয়ে গেছে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার সেভাবে এগিয়ে যায়নি। এখানে ব্যাপক আঞ্চলিক বৈষম্য বিরাজমান। এটা যেন ভারতের মধ্যে অন্য ভারত। আবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যে উন্নয়ন হয়েছে সেভাবে অন্য রাজ্যগুলোতে হয়নি। যেমন পিছিয়ে আছে বেলুচিস্তান। কিন্তু বাংলাদেশে এমন বৈষম্য নেই।

দেশ স্বাধীনের আগে যেমন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্য ছিল। এখন সে রকম নেই। তবে কুড়িগ্রামের দারিদ্র্য আর নারায়ণগঞ্জের দারিদ্র্য এক নয়। এটা হয়েছে এলাকার কারণে। যেমন নদীভাঙা, উপকূলীয়, হাওড় এবং পাহাড়ি অঞ্চলে যেভাবে উন্নয়ন হওয়ার কথা সেভাবে হয়নি। অবস্থান এবং প্রাকৃতিক কারণেই এটা করাটাও কঠিন।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাথাপিছু আয়ে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ভারতের কাছাকাছি গেছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ হারে বাড়ত অথচ এখন (২০১০ সালের হিসাব) এটা ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ হারে বাড়ছে। ১৯৯০ সালে ভারতের মাথাপিছু আয় ৩ দশমিক ২৬ হারে বাড়ত এখন কমে ১ দশমিক ১৪ হার হয়েছে। একইভাবে ৯০ দশকে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, এটা এখন আরও কমে শূন্য দশমিক ৮৬ হয়েছে। অথচ মাথাপিছু আয়ে ৯০ দশকে পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ শতাংশ পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এখন পাকিস্তানের চেয়ে মাথাপিছু আয়ে ১০ শতাংশ এগিয়ে বাংলাদেশ।

এছাড়া উৎপাদন খাতে ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ৯০ দশকে এ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি ছিল ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা এখন হয়েছে ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অথচ উৎপাদন খাতে প্রতিনিয়ত পিছিয়ে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। একই সময়ে ভারতে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ, অথচ এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। একইভাবে উৎপাদন খাতে পাকিস্তান পিছিয়ে যাচ্ছে।

৯০ দশকে এ খাতে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ, এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। নগরায়ণেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ৯০ দশকে বাংলাদেশের নগরায়ণ হার ছিল ১৯ দশমিক ৮১ শতাংশ, এখন বেড়ে হয়েছে ৩৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। ভারতে একই সময়ে নগরায়ণের হার ছিল ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ এখন দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। পাকিস্তানের নগরায়ণে ৯০ দশকে হার ছিল ৩০ দশমিক ৫৮ শতাংশ যা এখন হয়েছে ৩৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

ভারত-পাকিস্তানকে বাংলাদেশ পেছনে ফেলার অন্যতম কারণ কর্মসংস্থানে নারীর উপস্থিতি বেড়েছে। ৯০ দশকে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানে নারী উপস্থিতির হার ছিল ২৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ অথচ এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই সময়ে ভারতে নারীর উপস্থিতি ছিল ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ অথচ এখন কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে ৯০ দশকে পাকিস্তানে কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি ছিল ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ, এখন হয়েছে ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তবুও বাংলাদেশের সমান হতে পারেনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, কমিউনিটি ক্লিনিক, হাওড় উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। এসব কারণে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ যেসব প্রকল্প সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেবে সেগুলোকে ঢেলে ওপরে দিচ্ছি। বিআইডিএস স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।

ড. মসিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতার কন্যার হাত ধরে তার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের আজকের উন্নয়ন বঙ্গবন্ধু সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল। কেননা দেশ স্বাধীনের পরপরই তিনি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেছেন দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ খুঁজেছেন। সেই সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।

রেহমান সোবহান বলেন, পোশাক খাতের হাত ধরে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এক্ষেত্রে সফল ভূমিকা পালন করেছে। গত ৪০ বছরে ওষুধ, চামড়া, শিপবিল্ডিং ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্প বিকাশ লাভ করেছে। রপ্তানি ক্ষেত্রে বহুমুখীকরণ করতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাকসহ এনজিওগুলো ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করেছে। সেই সঙ্গে সামাজিক ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে। তবে আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির উন্নয়ন ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলা করা।

অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, দেশের দারিদ্র্য নিরসনে অগ্রগতি হলেও বৈষম্য বেড়েছে। দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

ড. জাহিদ হোসেন তার গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, করোনা মহামারী বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি করোনার আগের তুলনায় কমেছে। অব্যাহতভাবে চলতি হিসেবে ঘাটতি আছে। তারপরও রিজার্ভ বাড়ছে। তবে আইএমএফ-এর মতে, রিজার্ভের হিসাবে গরমিল রয়েছে। বৈদেশিক ঋণ বিষয়ে তেমন ঝুঁকি নেই, তবে ঋণ নিয়ে ভোগবিলাসে ব্যয় করা যাবে না।

উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা বহিঃস্থ ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাজেটসংক্রান্ত ঝুঁকি রয়েছে। ভ্যাকসিন সরবরাহে বাজেট সহায়তা কমছে। এছাড়া বৈদেশিক অর্থায়নপুষ্ট মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয় বাড়ছে। এঁরাও ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে অর্থনীতিতে সম্ভাব্য উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি করোনা মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ভোগের কারণে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন