কমিটি না থাকায় স্থবির দলীয় কার্যক্রম
jugantor
রংপুর জেলা যুবলীগ
কমিটি না থাকায় স্থবির দলীয় কার্যক্রম

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিন বছর ধরে রংপুর জেলা যুবলীগের কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। কেন্দ্র থেকে একাধিকবার সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলা যুবলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর ধরে দুই দফায় আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছিল রংপুর জেলা যুবলীগের কার্যক্রম। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলের নেতৃত্বে গঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর এইচএম রাশেদুন্নবী জুয়েলকে আহ্বায়ক করে পুনরায় কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

সেই আহ্বায়ক কমিটিও দলীয় কার্যক্রমে গতি আনতে না পারায় এবং অগঠনতান্ত্রিক কাজ করায় ২০১৮ সালের ১৪ মে জেলায় যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। সেই সঙ্গে রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর ও তারাগঞ্জ উপজেলা কমিটিও বাতিল করা হয়।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বিষয়ে ঘোষণা এসেছিল। এর কিছুদিন পর রংপুরে জেলা যুবলীগের স্থগিত কমিটির আহ্বায়ক রাশেদুন্নবী জুয়েল টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

দীর্ঘ দিন ধরে কমিটি না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিতাদেশ আজও প্রত্যাহার করেনি। তারপরও জেলা যুবলীগের অনেক নেতা নিজেদের পদ বহাল দাবি করে দলীয় কাজে অংশ নিচ্ছেন।

নেতাকার্মীরা আরও জানান, কমিটি না থাকায় তারা খুব একটা দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে চান না। এ কারণে জেলায় তেমন একটা দলীয় কর্মসূচি পালনও হয় না। এর ফলে জেলা যুবলীগের দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ঝিমিয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা। এ সংকট থেকে উত্তরণে জেলায় দ্রুত কমিটি গঠনের দাবি তোলেন তারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ও ১৯ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতারা রংপুর সফরে আসেন। এ সময় তারা পৃথকভাবে কর্মিসভা ও বর্ধিতসভা করেন। তখন নতুন কমিটি গঠনের দাবি তোলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতারাও তাতে সায় দিয়েছিলেন। তারা যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। কিন্তু আজও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

রংপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মাসুদ রানা বিপ্লব জানান, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কমিটি চায়। আমরাও চাই নতুন কমিটি হোক। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হোক।

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকুল বলেন, আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষে যুবলীগ করেছি। উপজেলা কমিটিতেও যুগ্ম-আহ্বায়ক পদে ছিলাম। রংপুরে দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের কমিটি নেই। এ কারণে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। এতে অনেক প্রতিভা অকালে ঝরে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ করা অনেক নেতাকর্মী ঝিমিয়ে পড়েছে। জেলায় যুবলীগের কমিটি গঠন করে সাবেক ছাত্র নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি।

রংপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ওলিউর রহমান শিমু ও শিপন আহমেদ বলেন, জেলা যুবলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। সবাই চায় ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতারা যেন কমিটিতে স্থান পায়। আশা করি, এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রংপুর জেলা যুবলীগ

কমিটি না থাকায় স্থবির দলীয় কার্যক্রম

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিন বছর ধরে রংপুর জেলা যুবলীগের কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। কেন্দ্র থেকে একাধিকবার সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলা যুবলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর ধরে দুই দফায় আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছিল রংপুর জেলা যুবলীগের কার্যক্রম। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলের নেতৃত্বে গঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর এইচএম রাশেদুন্নবী জুয়েলকে আহ্বায়ক করে পুনরায় কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

সেই আহ্বায়ক কমিটিও দলীয় কার্যক্রমে গতি আনতে না পারায় এবং অগঠনতান্ত্রিক কাজ করায় ২০১৮ সালের ১৪ মে জেলায় যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। সেই সঙ্গে রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর ও তারাগঞ্জ উপজেলা কমিটিও বাতিল করা হয়।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বিষয়ে ঘোষণা এসেছিল। এর কিছুদিন পর রংপুরে জেলা যুবলীগের স্থগিত কমিটির আহ্বায়ক রাশেদুন্নবী জুয়েল টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

দীর্ঘ দিন ধরে কমিটি না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিতাদেশ আজও প্রত্যাহার করেনি। তারপরও জেলা যুবলীগের অনেক নেতা নিজেদের পদ বহাল দাবি করে দলীয় কাজে অংশ নিচ্ছেন।

নেতাকার্মীরা আরও জানান, কমিটি না থাকায় তারা খুব একটা দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে চান না। এ কারণে জেলায় তেমন একটা দলীয় কর্মসূচি পালনও হয় না। এর ফলে জেলা যুবলীগের দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ঝিমিয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা। এ সংকট থেকে উত্তরণে জেলায় দ্রুত কমিটি গঠনের দাবি তোলেন তারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ও ১৯ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতারা রংপুর সফরে আসেন। এ সময় তারা পৃথকভাবে কর্মিসভা ও বর্ধিতসভা করেন। তখন নতুন কমিটি গঠনের দাবি তোলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতারাও তাতে সায় দিয়েছিলেন। তারা যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। কিন্তু আজও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

রংপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মাসুদ রানা বিপ্লব জানান, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কমিটি চায়। আমরাও চাই নতুন কমিটি হোক। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হোক।

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকুল বলেন, আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষে যুবলীগ করেছি। উপজেলা কমিটিতেও যুগ্ম-আহ্বায়ক পদে ছিলাম। রংপুরে দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের কমিটি নেই। এ কারণে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। এতে অনেক প্রতিভা অকালে ঝরে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ করা অনেক নেতাকর্মী ঝিমিয়ে পড়েছে। জেলায় যুবলীগের কমিটি গঠন করে সাবেক ছাত্র নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি।

রংপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ওলিউর রহমান শিমু ও শিপন আহমেদ বলেন, জেলা যুবলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। সবাই চায় ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতারা যেন কমিটিতে স্থান পায়। আশা করি, এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন