পাহাড়ে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
jugantor
নিরাপত্তাহীনতা মূল বাধা
পাহাড়ে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

  মনির হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে  

০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দৃষ্টিনন্দন পাহাড় এবং সবুজের সমারোহে প্রাণ জুড়িয়ে যায় ভ্রমণ পিপাসুদের।

সাজেক, নীলগিরি আলী কদমে হাত বাড়ালেই যেন ছোঁয়া যায় মেঘ। এসব কারণেই তিন জেলায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ এবং স্থানীয়রা বলছেন, এ অঞ্চলটি হতে পারে সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস।

আর এজন্য সরকারিভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এ খাতে তিন জেলা থেকেই বছরে ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কারণে বতর্মানে এখানে পর্যটক আসতে ভয় পান। এছাড়া পাহাড়িদের ৪ সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), জেএসএস সংস্কার, ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক বিভিন্ন সময়ে পর্যটনবিরোধী লিফলেটও বিতরণ করছে।

জানা গেছে-দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। পাহাড়-পর্বত, নদীনালা ও গাছপালা বেষ্টিত মনোরম দৃশ্যের এ ভূমিতে রয়েছে বাঙালি ও ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।

পর্যটনের জন্য রয়েছে পাহাড়ে বিশাল সম্ভাবনা। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য তা আজ ভূলুণ্ঠিত বলে অনেকেই আক্ষেপ করেন। অশান্ত পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত হয় ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’।

জেএসএসের (সন্তু লারমা) সঙ্গে করা এ চুক্তি এরই মধ্যে পার করেছে দুই যুগ। চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, পাহাড়িদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। কিন্তু ওই চুক্তি ভঙ্গ করে তারা নিজেদের আদিবাসী হিসাবে দাবি করছে।

এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে পূরণ করা হয়েছে চুক্তির বেশিরভাগ শর্ত। কিন্তু পাহাড়ে হানাহানি বন্ধে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল তা বন্ধ করেনি এ অঞ্চলের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি এখনো বন্ধ হয়নি।

পাহাড়ে পর্যটনের যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কোনোভাবেই কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বড় বাধা সন্ত্রাস। এমনকি পর্যটকদের আগমন ঠেকাতে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে, আর চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ।

অন্যদিকে, পর্যটন নিয়ে চালানো হচ্ছে নানা অপপ্রচার। পর্যটকদের এখনও সেনা-পুলিশের পাহারা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয় পাহাড়ে। অপরদিকে, এ এলাকায় যাতে পর্যটকরা না আসেন সে জন্য আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বছরজুড়ে চালানো হয় নানা অপপ্রচার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য এলাকায় বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকান ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায় শত শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

যাদের বেশিরভাগই পাহাড়ি। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও অনগ্রসর কৃষি পদ্ধতির জুম চাষ ছিল যাদের একমাত্র আয়ের উৎস। এসব পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের আগমনে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় পার্বত্য এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে।

তাদের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। তারা কঠোরহস্তে সন্ত্রাসীদের দমন করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ির সদর থানা, মাটিরাঙ্গা, আলুটিলা ইকোট্যুরিজম, বান্দরবানের থানছি, তমাতুঙ্গী, রুমা, বগালেক, সাজেক, কাপ্তাইলেক পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু পার্বত্য এলাকায় যাতে পর্যটকরা না আসেন এজন্য পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

জায়গায় জায়গায় পর্যটনবিরোধী পোস্টার লাগানো হয়েছে। অপপ্রচার করা হচ্ছে পর্যটনের নামে নাকি স্থানীয় উপজাতিদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পর্যটকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টের মালিকদের কাছ থেকে উচ্চহারে চাঁদা আদায় করা হয়। এমনকি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়।

বাংলার দার্জিলিং খ্যাত সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এখানে থাকার জন্য কক্ষ পাওয়া যায় না। আগে থেকেই বুকিং হয়ে যায়।

প্রতিটি কক্ষের ভাড়া এক হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। সরকারি রিসোর্টের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অনেক বেসরকারি রিসোর্ট, হোটেল। ছয় মাস আগে যেগুলো একতলা ছিল সেগুলো এখন দোতলা হয়ে গেছে।

এ পর্যটন কেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে বদলে দিয়েছে স্থানীয় পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন-যাপন পদ্ধতি। বান্দরবানের মুনলাই পাড়ায় বম সম্প্রদায়ের ৩৫ জন লোকের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে।

সেই সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় ব্যক্তির উদ্যোগে ছোট-বড় রিসোর্ট। রুমায় হোস্টেল গড়ে উঠেছে, যার দ্বারা আরও অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন হয়েছে। এ পর্যটনকে কেন্দ্র করে একটি ডিজিটাল স্কুলও গড়ে উঠেছে।

নিরাপত্তাহীনতা মূল বাধা

পাহাড়ে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

 মনির হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে 
০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দৃষ্টিনন্দন পাহাড় এবং সবুজের সমারোহে প্রাণ জুড়িয়ে যায় ভ্রমণ পিপাসুদের।

সাজেক, নীলগিরি আলী কদমে হাত বাড়ালেই যেন ছোঁয়া যায় মেঘ। এসব কারণেই তিন জেলায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ এবং স্থানীয়রা বলছেন, এ অঞ্চলটি হতে পারে সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস।

আর এজন্য সরকারিভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এ খাতে তিন জেলা থেকেই বছরে ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কারণে বতর্মানে এখানে পর্যটক আসতে ভয় পান। এছাড়া পাহাড়িদের ৪ সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), জেএসএস সংস্কার, ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক বিভিন্ন সময়ে পর্যটনবিরোধী লিফলেটও বিতরণ করছে।

জানা গেছে-দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। পাহাড়-পর্বত, নদীনালা ও গাছপালা বেষ্টিত মনোরম দৃশ্যের এ ভূমিতে রয়েছে বাঙালি ও ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।

পর্যটনের জন্য রয়েছে পাহাড়ে বিশাল সম্ভাবনা। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য তা আজ ভূলুণ্ঠিত বলে অনেকেই আক্ষেপ করেন। অশান্ত পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত হয় ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’।

জেএসএসের (সন্তু লারমা) সঙ্গে করা এ চুক্তি এরই মধ্যে পার করেছে দুই যুগ। চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, পাহাড়িদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। কিন্তু ওই চুক্তি ভঙ্গ করে তারা নিজেদের আদিবাসী হিসাবে দাবি করছে।

এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে পূরণ করা হয়েছে চুক্তির বেশিরভাগ শর্ত। কিন্তু পাহাড়ে হানাহানি বন্ধে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল তা বন্ধ করেনি এ অঞ্চলের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি এখনো বন্ধ হয়নি।

পাহাড়ে পর্যটনের যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কোনোভাবেই কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বড় বাধা সন্ত্রাস। এমনকি পর্যটকদের আগমন ঠেকাতে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে, আর চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ।

অন্যদিকে, পর্যটন নিয়ে চালানো হচ্ছে নানা অপপ্রচার। পর্যটকদের এখনও সেনা-পুলিশের পাহারা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয় পাহাড়ে। অপরদিকে, এ এলাকায় যাতে পর্যটকরা না আসেন সে জন্য আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বছরজুড়ে চালানো হয় নানা অপপ্রচার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য এলাকায় বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকান ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায় শত শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

যাদের বেশিরভাগই পাহাড়ি। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও অনগ্রসর কৃষি পদ্ধতির জুম চাষ ছিল যাদের একমাত্র আয়ের উৎস। এসব পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের আগমনে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় পার্বত্য এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে।

তাদের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। তারা কঠোরহস্তে সন্ত্রাসীদের দমন করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ির সদর থানা, মাটিরাঙ্গা, আলুটিলা ইকোট্যুরিজম, বান্দরবানের থানছি, তমাতুঙ্গী, রুমা, বগালেক, সাজেক, কাপ্তাইলেক পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু পার্বত্য এলাকায় যাতে পর্যটকরা না আসেন এজন্য পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

জায়গায় জায়গায় পর্যটনবিরোধী পোস্টার লাগানো হয়েছে। অপপ্রচার করা হচ্ছে পর্যটনের নামে নাকি স্থানীয় উপজাতিদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পর্যটকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টের মালিকদের কাছ থেকে উচ্চহারে চাঁদা আদায় করা হয়। এমনকি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়।

বাংলার দার্জিলিং খ্যাত সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এখানে থাকার জন্য কক্ষ পাওয়া যায় না। আগে থেকেই বুকিং হয়ে যায়।

প্রতিটি কক্ষের ভাড়া এক হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। সরকারি রিসোর্টের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অনেক বেসরকারি রিসোর্ট, হোটেল। ছয় মাস আগে যেগুলো একতলা ছিল সেগুলো এখন দোতলা হয়ে গেছে।

এ পর্যটন কেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে বদলে দিয়েছে স্থানীয় পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন-যাপন পদ্ধতি। বান্দরবানের মুনলাই পাড়ায় বম সম্প্রদায়ের ৩৫ জন লোকের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে।

সেই সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় ব্যক্তির উদ্যোগে ছোট-বড় রিসোর্ট। রুমায় হোস্টেল গড়ে উঠেছে, যার দ্বারা আরও অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন হয়েছে। এ পর্যটনকে কেন্দ্র করে একটি ডিজিটাল স্কুলও গড়ে উঠেছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন